একসঙ্গে এত কাজের চাপ সংসার, ছেলের পড়াশোনা, ও অন্যান্য পারিবারিক কাজ : কিভাবে টাইম ম্যানেজমেন্ট করেন আপনারা?

  

how-to-manage-life-in-busy-life-picture


খুব হতাশার মধ্যে দিয়ে কটা দিন আমার অতিবাহিত হচ্ছে। চিন্তা গ্রাস করছে আমায়। নিজের মনকে অনেকবার শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু বারবার মনের কাছে হেরে যাচ্ছি। আমি কিছুতেই আমার ডেলি লাইফ এর কাজ গুলোকে রুটিন এর মধ্যে আনতে পারছি না। অসম্ভব চাপ এর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। এখনো দুটো মাস ভীষণ চাপের। অলরেডি আমি একটা মাস হেলায় হারিয়ে ফেলেছি। না, এবার একটা সিদ্ধান্তে আসতেই হবে।


ব্যাপারটা হলো, আমার নিজের মনে হচ্ছে অমানুষিক একটা কাজের দায়িত্ব আমার ওপর ধেয়ে আসছে। আমি কাজ টাকে পুরো 100% দিতে চাইছি। সে জন্য খুব কঠোর একটা রুটিন এর প্রয়োজন। আর তার জন্য দরকার পর্যাপ্ত সময়। দিনে 24 ঘন্টা যেন খুব কম সময় আমার জন্য।


আরো একটা মাইনাস পয়েন্ট আছে আমার। সেটা হলো ঘুম। কি সাংঘাতিক ঘুম পাচ্ছে এই সময়। বিছানা যেন আমায় কোন এক অলীক মায়া করে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আমি কিছুতেই এই ব্যাপার টাকে এড়াতে পারছি না। কারণ আমার শরীর টাও সেই অলীক মায়ার যেন প্রেমে পড়েছে। 15 মিনিটের বিরতির জন্য বিশ্রাম এ গেলেও অনায়াসে সেটা 45 মিনিট হয়ে যাচ্ছে। 


আচ্ছা, আমি আমার কাজ গুলোর একটা হিসাব দিই। তাহলে আপনারা একটু ধারণা করতে পারবেন। আমি তো আমার পোস্ট এর প্রায় প্রতিটি ব্লগ এই বলি আমি একজন গৃহবধূ। তার ওপর গ্রামের বউ আমি। চাষ বাস আছে। তাই বাড়তি খাটুনি আছে। আবার আমার ছেলে ক্লাস 3 তে পড়ে। icse board। ওর কোন টিউশন টিচার নেই। সমস্তটাই আমায় দেখতে হয়। 

how-to-manage-life-in-busy-life-picture



এবার এখন চলছে শ্রাবণ মাস। বাংলা মাসের হিসাব দিয়ে বলছি। পরের মাস হলো ভাদ্র। এই শ্রাবণ ও ভাদ্র দুই মাস নিয়ে গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে চলে নানারকম আচার, নিয়মকানুন , রীতিনীতি, পূজাঅর্চনা। 


যেমন শ্রাবণ মাসে হাঁড়ি ধোয়া একটা নিয়ম আছে। শ্রাবণ মাসের একটা নির্দিষ্ট দিনে রান্না ঘর ধোয়া মোছা করে, একটা ঠাকুরের নতুন হাঁড়িতে একটু জল ও অল্প একটু আতপ চাল ও দু - চার কলি নোটে শাক দিয়ে অল্প একটু ফুটিয়ে হাঁড়ির ওই উপকরণ গুলো ফেলে হাঁড়ি ধুয়ে নিতে হয়। এই হলো নিয়ম হাঁড়ি ধোয়া।


তারপর দিন ওই হাঁড়িতে ই নয় রকম কিংবা এগারো রকম শাক তুলে সেই শাক এর কিছু অংশ আগে কচুপাতার মোড়কে বেঁধে সিঁদুর , বাতাসা সহযোগে পুজো করতে হয়। তারপর অবশিষ্ট শাক ভেজে খেতে হয়। এই হলো শাক রাখা নিয়ম।


এই হলো শ্রাবণ মাসের নিয়ম। এই নিয়ম গুলো পালন করার আগে কয়েকদিন ধরে বাড়ি- ঘর- দোর সব গভীর ভাবে পরিষ্কার করতে হয়। আমাদের বাঙালি ঘরে খাটের তলায় নানাবিধ জিনিস  পত্র থাকে। সেসব টেনে বের করতে হয়। ঝুল ঝাড়তে হয়। অনেক কাজ। তারপর পুরোনো বাসন কোষণ, কৌটো , পুরোনো জামা কাপড় , বিছানার চাদর সব কাচঁতে হয়। 


আমাদের ওয়াশিং মেশিন নেই। সবটাই হাতে। এসব এর পাশাপাশি নিত্য দিনের কাজ। ছেলের পড়াশোনা, ওইসব তো আছেই। এবার নিত্যদিনের কাজের একটা আমার শিডিউল থাকে। সেখান থেকে বাড়তি সময় বের করাই বেশ চাপ। তার ওপর এই দুই মাস অতিরিক্ত কাজ গুলো করার জন্য ডেলি 2 ঘন্টা সময় আমার এক্সট্রা লাগবেই।

how-to-manage-life-in-busy-life-picture



সেই টাইম টা কি করে বের করব সেটাই ভাবছি। ছেলে বর, স্কুল অফিস বেরিয়ে গেল সংসারের বাড়তি কাজ গুলো চটপট করে স্নান সেরে পুজো করে ছেলের স্কুলের নোটস গুলো আমি খাতায় লিখে রাখি। ওর জন্য হোমওয়ার্ক তৈরি করে রাখি। প্রতিটা সাব্জেক্ট এর নতুন চ্যাপ্টার গুলো আমি আগে থেকে পড়ে বুঝে নেই। তারজন্য আমায় বেলা 11:30 থেকে 1:00 অবধি লেগেই যায়।


এরপর শ্বশুর মশাইকে খেতে দেওয়া নিজে খাওয়া বাসন ধোয়া এসব করতে করতেই দুপুর গড়িয়ে 2: 30 মিনিট। তাহলে বাড়তি কাজ গুলো কখন করবো? এটাই মহা চিন্তা।


আবার ছেলের নোটস লেখা ছেড়ে দিয়ে সংসারের কাজ নিয়ে পড়লে ছেলে পিছিয়ে যাবে। তাছাড়া ওর ও হাফ ইয়ারলি পরীক্ষা সেপ্টেম্বর এ। আর মাত্র 1 মাস। ওর পড়া গুলো ও আমায় মিস দিলে চলে না। কি ভাবে কি ম্যানেজ করবো ওটাই চ্যালেঞ্জ এর ব্যাপার।


তাছাড়া মেথড ধান রোয়া চলছে। যারা ধান চাষের কাজে লেগেছে তাদের রোজ জলখাবার এর রান্না করতে হয়। সব একা হাতে কি করে টাইমে করবো? তারপর শ্রাবণ এর পর ভাদ্র মাস এ রান্না পুজো। মা মনসা দেবীর পূজা । এসময় ও অনেক অনেক কাজ। আবার সারা ঘর দোর ঝকঝকে করতে হবে। 


আসলে বেলার দিকে ছেলের পড়াশোনার কাজ নিয়ে বসি। ওই টাইম টা যদি সংসারের এই বিশেষ কাজ গুলো করি পড়াশোনা টা আর ওর ঠিক করে হবে না। সামনেই পরীক্ষা। কি করবো মাথায় আসছে না। বিকেল বেলা তেও ছেলের পড়াশোনার কাজ আমার করা সম্ভব নয়। 


ওইসময় বিকেল চারটা নাগাদ ছেলে স্কুল থেকে ফেরে। ওকে খাইয়ে 4:30 নাগাদ পড়াতে বসাই। আবার 5: 00 খেলতে যায়। ওই 30 মিনিট পড়ে। আমি ওইসময় একটু হাঁটতে বের হই। ওইটুকু সময় নিজের জন্য আমার বাধা। কারণ ডাক্তার আমায় সারাদিনে 30 মিনিট হাঁটতে বলেছে। আমি 45 মিনিট বাইরে কাটিয়ে আসি।


সংসারে সারাদিন মুখ বুজে খাটার পর ওইটুকু আমার শান্তির সময়। ওইসময় টাও বাড়তি কাজের জন্য দিলে নিজে কেই আমি যত্নে রাখার সময় পাবো না। সন্ধ্যে থেকে তো আবার ছেলেকে পড়ানো নিয়ে ব্যস্ত। তারই মাঝে আমি ডিনার ও স্ন্যাকস এর রান্নাও করি ।


সব কিছুর শেষে আমায় ব্লগ লেখার জন্য ও দেড় ঘন্টা টাইম রাখতেই হয়। তাহলে বুঝতেই পারছেন কাজের চাপ কতটা? এমতা অবস্থায় বাড়ির বাড়তি কাজ গুলো কি করে কমপ্লিট করবো সব কিছু সুন্দর ভাবে বজায় রেখে সেটাই চিন্তা। 


এদিকে যে একটু ভোর বেলা উঠবো তাও পারি না। রাতে ঘুমাতে সময় লাগে প্রায়ই  রাত 12 : 30 হয়ে যায়। কি করবো? টাইম ম্যানেজমেন্ট করতে পারছি না। আবার সবাই এসময় পুজোর শপিং, পার্লার যাওয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু আমি খুব বিজি।


এই জন্য নিজেকে খুব হতাশ লাগছে। কিভাবে এই দুটো মাস কাটাবো তাই ভাবছি। এখন ঠিক রাত 11:31 বাজে। ব্লগ লিখছি। ভীষণ ঘুম ও পাচ্ছে। আজ ভাবছি তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরবো। 


সবই তো পড়লেন আমার কাজের কথা। এবার বলুন এটা একটা মানসিক চাপ কিনা? আপনারা কিভাবে টাইম ম্যানেজমেন্ট করে কাজ করেন আমায় কমেন্ট করে জানাবেন প্লিজ? আমি কিন্তু থেমে নেই। কাজ করেই যাচ্ছি নিজের সামর্থ্য মতো।


আজ তবে আসি। ফিরবো আর একটা নতুন ব্লগ এর পোস্ট নিয়ে। সকলে সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন।


ছবি : Ai Generated

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ