জীবনে কি পেলেন, আর কি পেলেন না তা নিয়ে কি এখনো আফসোস করেন? আমি তো করি। ( মনের কথা)

 

Nature-photo


হমম, ভালো বর তো পেলাম, ভালো ঘর ও পেলাম। সংসারী হলাম। কিন্তু নিজের মনের কি যত্ন নিতে পারলাম? 11 বছরের বিবাহিত জীবন আমার। ভাবতে বসলে সত্যিই মনের কোণে এই প্রশ্নটা জেগে ওঠে।


আপাতদৃষ্টিতে দেখে আমায় সবাই সুখী ই বলবে। দাম্পত্য জীবন ও ওই চলনসই। আর পাঁচটা মধ্যবিত্ত পরিবারের যেমন ঠোকাঠুকি ও লাগে আবার জোড়াও লাগে ওই ভাবেই টাপতি দিয়ে চলছে।


বছরে দু - তিন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া, তিন চার বার শপিং মাঝেমধ্যে রেস্টুরেন্টে গিয়ে খেয়ে আসা। এই তো জীবন। অতিরঞ্জিত কিছু নেই। তাছাড়া ভুরি ভুরি চাহিদাও নেই। তবু আমার দিন শেষে মন ভালো থাকে না। এর দায় অন্য কারো নয়ও। মনটাকে আমিই স্হির রাখতে পারি না।


আসলে আমার মানসিক চরিত্রটা বড্ড খারাপ। আমি নিত্য দিন নতুন নতুন মানুষের কাজের প্রেমে পরি। আর নিজের সাথে তা মিলিয়ে দেখি। আর যখনই দেখছি মিলছে না অমনি এক রাশ হতাশা আমায় গ্রাস করে। 


আমি দেখেছি আমার বয়সী একটা মেয়ে এখনো বিয়ে করে নি। বয়স ওই 33/34 বছর। মানে মধ্য বয়স্কা। কি সুন্দর স্বাধীন জীবনযাপন করছে। বাবা, মায়ের সাথে থাকার সুযোগ পাচ্ছে। কি যেন একটা প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরি করে।


আমি যখন সকাল বেলা সংসারের বাসী কাজ করতে ব্যস্ত , তখন ওর সেই রোজকার বুলিটা কানে আসে, -" মা আসছি।"

জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখি চললেন উনি অফিস। কি সুন্দর পরনে নিত্য নতুন কুর্তি ! চুল টা হালকা রং করা স্ট্রেট করা। চোখে মুখে কি সুন্দর পরিপাটি মেকআপ। পায়ে হিল।


মাঝে মধ্যে দেখি কোর্ট স্যুট পড়েও যেতে। আমি অবাক হয়ে দেখি। ও বেরোনোর সাথে সাথে একটা মিষ্টি গন্ধ আমাদের গলিটায় আছন্ন হয়ে থাকে।


খুব হিংসে হয় ওকে দেখে। সম্পর্কে আমার পাড়া তুতো ননদ। দেখি আর শুধু ভাবি কি সুন্দর ওর জীবন। সাংসারিক জীবনের কোন নিয়মের মায়াজাল নেই, মুক্ত একটা জীবন। ওর মত কাজ টা যদি আমিও পেতাম খুব ভালো হত।


সংসার, সংসার বড্ড একঘেয়ে এই জীবন। কোন রস কশ নেই। রোজ সকালে ওঠো রে, বাসী কাজ করো রে.. চা করো , বর এর অফিসের লাঞ্চ রেডি করো, ছেলের টিফিন । ধুর! ধুর! জীবনটা পুরো তেজপাতা হয়ে গেল। বিয়ে না করে ওর মত যদি একটা জীবন পেতাম খুব ভালো হতো।

Nature-photo



আবার কখনো পাশের বাড়ির প্রিয়া কে দেখেও মনটা ভরে যায়। প্রিয়া আমাদের পাশের বাড়িতেই থাকে। নতুন বিয়ে হয়েছে। মিষ্টি মেয়ে একটা। ও পেশায় একজন স্কুল টিচার। কি সুন্দর সংসার সামলেও 10 টা 4 টের ডিউটি করছে।


ও তো জীবনের সব আনন্দই উপভোগ করতে পারছে। সংসার, স্কুল কি সুন্দর ব্যালেন্স করে চলছে। খুব ভাগ্যবতী ও। আমিও যদি ওর মত একটা চাকরি পেতাম। আমার ও খুব ওর মতো লাইফ স্টাইল টা পেতে ইচ্ছে করে। 


আমার মানসিক চরিত্রটা এমনই। কখনো সোসাল মিডিয়া খুললে মনে হয় এখন কত নতুন নতুন লেখক, লেখিকা বই লিখছে। কত বিখ্যাত তারা। আমিও যদি ওদের মতো লিখতে পারতাম, আমার লেখাও যদি ওদের মতো পপুলারিটি অর্জন করতো, জীবনটা আমার ধন্য হয়ে যেত।


রোজ রোজ এই ডাল , তরকারি, ভাত রান্না করতে করতে জীবনটা বড্ড বোরিং হয়ে গেছে। একটু ভিন্নতা জীবনে থাকা উচিত। কতশত মানসিক দোলাচল আমার মধ্যে তাহলে আলোড়ন করে বুঝতে পারছেন তো?


টিভি সিরিয়ালের অভিনেত্রী গুলোকে দেখলেও মন টা ভীষণ ভালো হয়ে যায়। আমার মত কত শত অভিনেত্রী রা কি সুন্দর সুন্দর কাজ করছে। অভিনয় এর দ্বারা নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। কত ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা এই প্রফেশনে আছে। কত পরিশ্রম করে তারা।


আর আমি দেখো সংসারে দুটো বাসন মেজে, কাপড় কেঁচেই দিন কেটে যাচ্ছে। ওহ!  চারিদিকে এত অপশন। কিন্তু আমার কোনোটাই করার সুযোগ নেই। 


সবই কপাল। লাইফে কি চেয়েছিলাম আর কি হয়ে গেলাম। কোন নতুনত্ব নেই আমার এই জীবনে। সংসারের  দায়িত্ব, ছেলে সামলাতে সামলাতেই দিন গেল। কত কিছু ভাবি অবসর সময়ে। আমার জীবনটাও তো ওদের মতো সাজানো, কর্ম ব্যস্ততাময় হতে পারতো! সবই আমার ভাগ্য।



আচ্ছা আমার মতো কারা কারা নিজের জীবন টাকে নিয়ে এইরকম আফসোস করেন? আমায় জানাতে পারেন কমেন্ট করে। যদিও এই একটা জায়গা ব্লগিং, এখানে আমি সম্পূর্ণ স্বাধীন। মনের ভিতর যা চলে অকপটে লিখে যাই। এটাই আমার স্বাধীনতার একমাত্র অবলম্বন। 



আজকের ব্লগটা এখানেই শেষ করছি। ঘড়িতে এখন রাত 11:50 মিনিট। আজ আবার ভীষণ ঘুম পাচ্ছে। এত তাড়াতাড়ি না হলে আমার ঘুম আসে না। সারাদিনের কাজের পর খুব ক্লান্তি লাগছে আজ। আজ তবে আসি। ফিরবো আগামী কাল। নতুন কোন পোস্ট নিয়ে। সকলে ভাল থাকবেন।


 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ