সত্যিই আজকাল জীবনটা খুব ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে পার হচ্ছে। প্রতিটা সকাল আসে আবার যেন মুহূর্তের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায়। একটা সকাল মানে একটা নতুন দিনের সূচনা। নতুন করে নিজেকে গড়ে তোলার তাগিদ। প্রতিনিয়ত এগিয়ে চলা। চলার পথের বাধাগুলো ঠিক যখন আমাকে দু কদম পিছিয়ে দেয় আমি মনে বল সঞ্চয় করে ঠিক কমপক্ষে তিন পা এগোনোর চেষ্টা করি। তবু সফলতার সিঁড়ি ছুঁতে এখনো দীর্ঘ পথ বাকি।
বয়স ত্রিশ পেরিয়ে তেত্রিশের দোরগোড়ায়। এখনো আমি লড়াই করছি। জীবনে স্বাবলম্বী হওয়ার লড়াই। আসলে লড়াইটা শুরু করতে অনেকটা দেরি হয়ে গেছে। লাইফের গুরুত্বটা বুঝতে অনেকটা সময় কেটে গেছে। নিজেকে নিয়ে ভাবার অত অবকাশ পাই নি। মেয়েবেলাটা হেলায় কাটিয়ে দিয়েছি। স্ট্রাগল কম করেছি। এখন মধ্য বয়সে পৌঁছে সুমতি হয়েছে। কিন্তু সময় আর নেই ভেবে পিছিয়ে পড়তে চাই না। "জীবনটা সবে শুরু এখনো অনেকটা পথ চলার বাকি, " অথবা " শেখার কোনো বয়স হয় না" - এই কথা গুলো মাথায় রেখেই আবার নতুন করে পথ চলার চেষ্টা করছি।
এই বয়সে এসে জীবনে সফল হওয়ার জন্য লড়াই শুরু করেছি। জানি এই বয়সে সব মানুষই স্বনির্ভরশীল হয়ে যায়। কিন্তু আমাকে ধরেই নিন আমি ব্যতিক্রমী মানুষ। মাত্র বাইশ বছর বয়সে আমার বিয়ে হয়ে যায়। বয়সের তুলনায় বরাবরই আমার ম্যাচুরিটি অনেকটাই কম। আবার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান হওয়ার কল্যাণে কিছুটা আহ্লাদীও বটে। তাই আমার বয়সী ছেলে মেয়েদের তুলনায় আমার বুদ্ধি শুদ্ধি অনেকটাই কম ছিল। আজ থেকে এগারো বছর আগে যখন আমার বিয়ে হয় আমার মন প্রাণ তখন পুরোপুরি সংসার কেন্দ্রিক। নিজেকে একজন পুরোদস্তুর গৃহবধূ রূপে দেখতেই বরাবর চাইতাম। স্বাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারটা অতটাও মাথায় তখন চেপে বসে নি।
আমি লাভ ম্যারেজ করে বিয়ে করি। প্রথমে দু বাড়ি থেকেই অমত ছিল। কিন্তু আমার বরমশাই আর আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছিলাম পালিয়ে আমরা বিয়ে কোনোদিনও করব না। তার চেয়ে সারাজীবন অবিবাহিত থাকব তাও ভালো। গুরুজনদের আশীর্বাদ নিয়েই আমরা বিয়ে করব। এই ছিল আমাদের ধনুক ভাঙ্গা পণ। পরবর্তীকালে নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে আমাদের সম্পর্কটা পরিণতি পায় এবং দু বাড়ির মতেই ধুমধাম করে বিবাহ হয়। বিয়ের আগে আমি বেশ কয়েকটা সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিয়েছিলাম। কিন্তু তখন সিরিয়াস ছিলাম না। প্রিপারেশন ছাড়াই পরীক্ষা দিয়েছি। আর বিয়ের পর তো চাকরি বাকরির পরীক্ষার ধারে কাছে যাই নি। পুরোপুরি গৃহবধূ হয়ে গেছি। বিয়ের আড়াই বছর পরই আমার সন্তান হয়।
ব্যস্ত হয়ে গেলাম পুরোপুরি। দম ফেলবার সময় নেই। সংসার ,ছেলে ,এসব নিয়েই দিন গড়াতে লাগলো ।বউ থেকে মা হয়ে গেলাম।। একটা ছোট্ট প্রাণের দায়িত্ব পড়ল আমার ওপর। নিজেকে সাবলম্বী করার কোন ইচ্ছাই তখন আমাকে ঘিরে ধরেনি। ওসব নিয়ে ভাববার অবকাশ ছিল না। ছেলের ঠান্ডা লেগে সর্দি হচ্ছে, কখনো ফুড প্রয়োজনে পটি হচ্ছে, বমি হচ্ছে এসব নিয়েই নাজেহাল। ইউটিউব ঘেটে ছেলের জন্য পুষ্টিকর রান্না শেখা ,তাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানো, সময় মত স্নান করানো, উফ! এসবের মাঝে নিজের সত্তা টাকে হারিয়ে ফেলেছিলাম।
ছেলে একটু বড় হতেই তাকে কোলে বসিয়ে অ আ শেখানো, অক্ষর চেনানো, লেখানো সত্যিই খুব ঝক্কির আর ধৈর্যের কাজ । সময়টা কিছু বছর আগেই পেরিয়ে এলাম ।এখন ছেলে একটু বড় হয়েছে নয় বছর বয়স। যদিও ওর পড়াশোনার পুরো দায়িত্ব এখনো আমার উপর। তবুও এবার থেকে নিজে কিছু করার সাধ জাগলো। এর সূচনা কিন্তু আমি কয়েক বছর আগে থেকে শুরু করেছিলাম ।সময়টা লকডাউন আমার বরের তখন অফিস যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল। কোভিড এর জন্য কোম্পানি ওয়ার্ক ফ্রম হোমের ব্যবস্থা করলেন। তাই ভোরবেলা উঠেই রান্নাবান্নার ঝামেলাটা থাকলো না। বর মশাই একদিন বলল - তুমি তো প্রতিদিন ডায়েরী লেখো। লিখতে ভালোবাসো। এভাবে ডায়েরীতে না লিখে নিজের মনের কথাগুলো তো সাইটে লিখতে পারো।
আমি বললাম কি হবে ওতে লিখে? আমি ছাপোষা গৃহবধূ। এসব সাইটের বিষয়ে কিছুই জানতাম না । তখন উনি উদ্যোগ নিয়ে আমায় এই সাইট টা খুলে দেন । আর সেই থেকে আমি এখানেই লিখি। অবশ্য বর মশাই বলেছিল এখানে লিখেও আয় করা যায়। কিন্তু সফল হতে দীর্ঘ সময় লাগে। তুমি তো লেখো। ডায়েরি তে না লিখে এখানে লিখলে কখনো যদি তোমার লেখা গুলো গুগলে rank করে তবে আয় করতে পারো। আমিও ভাবলাম লাগুক সময়। আমি তো নিত্যদিনই ডায়েরীতে লিখি । না হয় এখানেও শখের বসেই লিখেই যাবো।
কিন্তু ব্যাপারটা যে এতটাও সহজ নয় সেটা প্রথমে বুঝতে পারিনি। সাইটে লেখার থেকেও টেকনিক্যাল ব্যাপারটা জানার আগে প্রয়োজন ছিল আমার। আর আমি সেটা না করেই শুধু লিখে গেছি সাড়ে ছয় বছর ধরে। ফলস্বরূপ আমার ব্লগের ট্রাফিক খুব কম ছিল। বছরের পর বছর লিখে গেলেও ট্রাফিক আসতো না। ভাবুন একবার আমি সাড়ে ছয় বছর বিনা ট্রাফিক ছাড়াই লিখে গেছি। মাঝে অবশ্য আমি নিয়মিতভাবে এখানে পোস্ট করতাম না। সম্প্রতি আমি জানতে পারি সাইটে কেবল লিখলেই হয় না। লেখা পোস্ট গুলোর সাইটম্যাপ গুগলে সাবমিট করতে হয়। আমার সেই আসল কাজটাই এতদিন অসমাপ্ত ছিল ।
গত নয় জুলাই 2026 এ আমি সাইটম্যাপ জমা দিই। ইতিমধ্যে 125 টা পোস্ট ইনডেক্স করেছে গুগল।
তাছাড়া আমি সোশ্যাল মিডিয়াতেও আমার লেখার লিংক শেয়ার করি না । তাই ট্রাফিক ও খুব কম। সবে মাত্র দুই মাস আগে google আমার সাইটটি কে চিনতে শুরু করেছে এবার দেখা যাক আমার পোস্টগুলি গুগল আস্তে আস্তে সকলের সামনে নিয়ে আসে কিনা।
এবার বলবেন সাইটে লেখা লিখির সাথে স্বাবলম্বী হওয়ার কি সম্পর্ক? সম্পর্ক আছে ।আমার বিশ্বাস এখানে আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি ,উপলব্ধির কথা নিয়মিত প্রকাশ করেই অনেক পাঠক পাঠিকার হৃদয় জায়গা করে নিতে পারব। এবং তাদের জন্যই এখান থেকে আমার আয়ের পথটা খুলবে। অবশেষে আমিও স্বাবলম্বী হতে পারব। বর্তমানে চাকরি ব্যবসা না করেও মেয়েরা ঘরে বসে নানা ভাবে উপার্জন করে। আমি না হয় এই পদ্ধতিটাই অবলম্বন করে নিজেকে স্বাবলম্বী করে তোলার স্বপ্ন দেখবো। সংসারের কাজ ,ছেলের ভবিষ্যৎ, বই পড়ার অভ্যাস এইসবের মাঝেও অল্প একটু অবসরে আমার মনের কথাগুলো এখানে লিখে রাখবো প্রতিদিন। আর একটু একটু করে লিখতে লিখতেই আমার সাইটটা একদিন ঠিক অনেক বড় হয়ে যাবে। এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস। কিন্তু তার জন্য আপনাদের অনুপ্রেরণা আমার খুব দরকার।
সুতরাং আমার মনের উপলব্ধির গল্পগুলি ঘটনাগুলি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অনুরোধ রইল আমায় কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। আপনাদের একটু উৎসাহই আমায় এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রেরণা যোগাবে। আপনারা যদি একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে ঘরে বসেই নিজেকে স্বনির্ভর করার স্বপ্নটা পূরণ করতে পারব। কারণ আমার পক্ষে বাইরে গিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়। সংসারকে অবহেলা করতে পারব না। আমার পরিবারের সকলেই আমার উপর নির্ভরশীল। সবকিছু খেয়াল রেখে তবেই আমায় স্বনির্ভর হওয়ার কাজ করতে হবে। আর আমার তেমন কোন স্কিলও শেখা নে,ই যে অন্য উপায়ে কাজ করবো। আমি বরাবরই লিখতে ভালবাসি ।এটা আমার ভালোলাগার একটি অংশ। আর তাই এইটাকেই আঁকড়ে ধরেই ভালোবেসে জীবনে কিছু করতে চা।ই জীবনের এই মধ্য বয়সে এসে স্বাবলম্বী হওয়া যে কতটা উচিৎ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। জানি সব কিছু বুঝতে অনেকটা সময় লেগে গেল। তবু মনে ভাবি " কোনো কিছু শুরু করার জন্য বয়সটা কোন ম্যাটার করে না । মনের ইচ্ছা, জেদ থাকলেই যে কোন অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। তাই আমিও চেষ্টা করছি। যাইহোক সব কিছু মিলিয়ে মিশিয়ে দিন গুলো ভীষণ ব্যস্ত তার মধ্যে দিয়ে কাটছে। জীবনটা এভাবেই কাটাতে চাই।
আজকের ব্লগটা এত টুকুই। আবার ফিরব নতুন কোনো লেখা নিয়ে। আজ তবে আসি।
0 মন্তব্যসমূহ