রোজকার চেনা পথ আর একটুকরো শান্তির খোঁজে...

 

Sunset-picture

( আমার মোবাইল থেকে তোলা আমার গ্রামের সূর্য অস্ত যাওয়ার মুহূর্ত)

আমাদের মত সাধারণ গৃহবধূ দের সারাদিন টাই কাটে ব্যস্ততার মধ্যে। সংসারের কাজ গুছিয়ে রাখতে , ঘর দর টিপটপ রাখতে যেন আমরা সর্বদা বদ্ধপরিকর। আর হবোই বা না কেন বলুন তো? এটাই তো আমাদের পৃথিবী। এটাই তো আমাদের সবকিছু। আমরা যারা গৃহবধূ আমরা যেমন অনেক কিছুই পাই নি, ঠিক তেমন ই আবার ভাবতে বসলে হিসাব করে দেখি অনেক কিছুই পেয়েছি এই ছোট্ট সংসার টা থেকে। 


তবে আজ আমরা চিরাচরিত সংসার নিয়ে কোন কথা বলবো না। আজ বলবো আমার একটা গোপন সময় কাটানোর কিছু গল্প। এটা নিয়ে আমি ব্লগে আগে হয়তো কখনো লিখি নি। কারণ ব্লগ এ লেখা যেমন আমার অবসর যাপন কটানোর একটা জায়গা। ঠিক তেমন ই প্রতিদিন এসময় টা আমি অবসর টাইম হিসাবে এইভাবে কাটাই।


প্রতিটা দিন নিয়ম মাফিক আমি বিকেল বেলা 5 টা নাগাদ বেড়িয়ে পরি হাঁটতে। আমার সাথে অবশ্যই একজন সঙ্গী থাকে। তার গল্প না হয় অন্য একদিন আপনাদের সাথে করবো। যাই হোক, আমরা দুজনে মিলে আমাদের গ্রামের রাস্তা ধরে হাঁটি। আমাদের গ্রাম টা জানেন তো খুব সুন্দর। চারদিকের দৃশ্য দেখলে আপনাদের ও মন টা প্রানবন্ত হয়ে উঠত। আমি কোনদিন সচরাচর ছবি তুলি না এই সময় এর। কারণ এসময় টা আমি মোবাইল ছাড়াই থাকি। নির্মল বাতাস, সুন্দর পরিবেশ, এইসব ই তখন আমার কাছে মূল আকর্ষণ।


আমাদের বাড়ি থেকে বেরোতেই সামনেই ধান এর ক্ষেত। দুধারে মাঠ। আর মাঝ খান দিয়ে পিচরাস্তা।  আগে লাল মাটির রাস্তা ছিল। বছর কয়েক হলো পিচ রাস্তা হয়েছে। এই মাঠে যখন ধান পাকে , রাস্তার দু ধার পুরো সোনালী ধানে ভোরে থাকে। সে এক অপরূপ সৌন্দর্য। এই সৌন্দর্যের ছবি অবশ্যই আপনাদের সময় হলে শেয়ার করবো। 


আজ কেও তো হাঁটতে হাঁটতে একটু ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমাদের রাস্তার ধারে মাঠের পাশে একটা প্রকান্ড জলাশয় আছে। আর এই জলাশয় এর পাশে বিকেল টা কাটানো কত টা যে শান্তির তা আর আপনাদের লিখে প্রকাশ করতে পারবো না। জলাশয়ের ঠান্ডা বাতাস যখন মাঠের কচি ঘাস গুলোকে দুলিয়ে দেয়, আমরাও সেই হওয়া গায়ে মেখে প্রকৃতিকে দেখি। হ্যা, আমরা রোজ দেখি, কিন্তু তবু যেন এর মধ্যে নতুনত্বের ছোঁয়া থাকে। 


আর বিকেল গড়িয়ে যখন গোধূলি হয়ে যায়, খোলা আকাশ, আর উন্মুক্ত সবুজ মাঠ যেন মিলেমিশে রঙিন হয়ে যায়। দুজনেই যেন হাত ধরাধরি করে অস্ত যায়। দুজনেই যেন আগামী দিনের জন্য প্রস্তুতি নিতে ঘরে ফেরে। আমরা দু চোখ ভরে এ দৃশ্য দেখি। আজ সেটাই ফ্রেম বন্দি করেছি। যেহেতু মোবাইল আজ সঙ্গে ছিল।


তবে শুধুই যে প্রকৃতি দেখি টা নয়। অতটাও আমি কাব্যিক নই। দুই জা এর সারাদিনের পর দেখা হলে যা হয় আর কি! ও ওর সংসারের সুখ দুঃখের গল্প শোনায় আমায়। আমিও আমার সংসারের। এটুকু চলবেই তাই না। আমরাও তো মানুষ। সারাদিন আমরা বাড়ি থেকে বেরোতে পারি না। এই টুকু অর্থাৎ ঘন্টা খানেক সময় এর জন্য বেরোই। এটাই আমাদের কাছে শহরে এলাকার মানুষ জন দের মতো বেরোনো। তারা যেমন বিকালে পার্কে সময় কাটায়, কেউ বা সবজি, গ্রোসারি কিনতে যায়, টুক টাক ফাস্ট ফুড খেতে বেরোয়। এখানে কাছাকাছি এইসব নেই। আমাদের কাছে বিকেল মানেই সবুজে ঘেরা মাঠ। উম্মুক্ত আকাশ, প্রাণবন্ত জলাশয়, আর আমাদের টক-ঝাল-মিষ্টি সংসারের গল্প।


সব মিলিয়ে বিকেল টা দারুন কাটে। সারাদিন অপেক্ষা করে থাকি এই সময় টার জন্য। তবে জানেন তো মাঝে মধ্যে একজন ফুচকা ওয়ালা সাইকেল নিয়ে গ্রামের পথ ধরে আমাদের গাঁয়ে আসে ফুচকা বেচতে। সব দিন নয় তবে। আর আমরা টাকা নিয়ে আসি রোজ। সাথে অপেক্ষা। কোন দিন আসবে। যেদিন আসে আগে দাঁড় করিয়ে খাই। অনেকবার ফুচকা ওয়ালা টাকে জিজ্ঞাসা করেছি , দাদা কবে কবে এদিকে আসেন? বলে কোন ঠিক নেই। যেদিন ইচ্ছা হয় আসি। কি আর করা যাবে। এইভাবেই ওর জন্য ওয়েট করি। এখানে চাউমিন, এগ্রোল, মোমো কাছাকাছি পাওয়া যায় না। 


পাওয়া যায় সতেজ প্রকৃতিকে। যেটা আবার খুব সহজে সবাই পায় না। এসব মিলিয়ে খুব সুন্দর কাটে বিকেল টা।  ব্লগ লেখা টা যেমন আমার অবসর যাপন। তেমন এই সময় টাও। তবে নিন্দুকেরা বলে মন্দ। তারা বলে প্রতিদিন বিকেল হলেই অমনি এরা বেরিয়ে পরে পাড়া বেড়াতে। তাদের কথায় কর্ণপাত করি না আমরা। কারণ নিজের ভালোটা নিজেকেই খেয়াল রাখা উচিত। আমি প্রতিদিন বেরোই আর বেরোবও।


আপনাদের বিকেল এর সময় টা কেমন ভাবে কাটে আমায় জানাতে পারেন। জানি অনেকেই ওয়ার্কিং। সময় পান না বিকেল টা উপভোগ করতে। তবু কার কার কিভাবে সময় কাটে আমায় জানাতে পারেন কমেন্ট এ। আমি অপেক্ষায় থাকবো। আজ তবে এত টুকুই।আবার ফিরবো আগামী কাল।


#গ্রামেরপরিবেশ

#পরিবেশ

#গোধূলিবেলা

#জলাশয়

#অবসরযাপন

#বাঙালীজীবন

#বিকেলেরমুহূর্ত

#villagelifestyle

#evironment

#eveninntime

#sunset

#bengalilifestyle

#timespend


 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ