গোধূলির ক্যানভাসে ডানা মেলার গল্প

 

Canvas-bird-picture

( আমার বাড়ির দরজা খুললেই গোধূলি লগ্নে এই চিত্র নিত্যদিন দেখতে পাই আমি। ছবি টা শুধু একটু এডিট করা। আমারই তোলা ছবি)


ওপরের যে ছবিটা দিয়েছি খুব সুন্দর তাই না? হ্যাঁ, একটু বেশি এডিট করে ফেলেছি। তবে ছবিটা নিজেরই তোলা। আমার গ্রামের ছবি। নীড়ে ফেরা পাখিদের ছবি। দিন শেষে গোধূলি লগ্নে ঘরে যাওয়ার পথে শেষ বেলায় তাদের আড্ডা দেয়ার ঠেক এটা। ওরা এভাবেই প্রতিদিন সন্ধ্যা হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে এসে এখানে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে যায়। বাস্তব জীবনেও আমরা মানুষেরাও এমন করি। ঘরে ফেরার পথে আরো একটু গল্প করে নিই। ওরাও তাই।


এই সময় টা সারি সারি পাখির দল আকাশে উড়তে থাকে। কখনো গোল গোল করে একটা দল হয়ে। আবার কখনো ত্রিভুজ আকারে ওরা সারিবদ্ধ ভাবে ফেরে। আমি ভাবতে পারি না ওরা ভোরে বেড়িয়ে ঠিক কতটা দূর যায় ! আবার ভাবি প্রতিদিন ই কি একই জায়গায় যায়? আচ্ছা আমাদের মতো ওরাও কি জায়গার নাম রেখে দিয়েছে। ওদের কি আলাদা ঠিকানা করা আছে... কি জানি?


কখনো মনে হয় দিন শেষে ওরাও কি সবাই খুশি থাকে না কি কেউ কেউ অভাব, অভিযোগ , কষ্টের কাহিনী বলতেই ওই তার টায় সারি বদ্ধ ভাবে জোট হয় কি জানি। আমি সব পাখি গুলোর মুখই নিখুঁত ভাবে দেখি। কিন্তু বুঝতে পারি না, কে আজ খুশি , কেই বা আজ হতাশাগ্রস্ত। অনেক বার মনে মনে এ ব্যাপারে গভীর চিন্তা ভাবনা চালিয়েছি। কিন্তু বার বার ই ব্যর্থ হয়েছি।


কিন্তু আমি মন থেকে একটা কথা মানি এ জগতে সবাই সুখী নয়। সবাই আশা করে থাকে আসছে দিনটা অবশ্যই সুখের হবে। আর এভাবেই দিন আসে , দিন যায়। ওরাও হয়তো ঠিক আমাদের মতোই ভাবে। একে অপরকে এই সান্ত্বনা দেয় সারিবদ্ধ ভাবে। একে অপরের শুভাকাঙ্খী ওরা। ওদের মধ্যে তেমন কোন ঝগড়া দেখি না। কিচির মিচির যখন বেশি কানে আসে মনে হয় না ওরা ঝগড়া করছে। মনে একে অপরকে ভুল ঠিক বোঝাচ্ছে। এ নেহাত ই আমার মনের ভাবনা।


আমি রোজ ই তো ওদের দেখি। প্রথম প্রথম যখন শ্বশুর বাড়ি আসি, আমার সমবয়সী কেউ ছিল না। স্বামী সকাল হলেই অফিস যেত। সারাটা দিন শ্বশুর, শ্বাশুড়ি , ঠাকুর শ্বাশুড়ি এদের নিয়েই আমার সংসার। এর বাইরে কারো সাথে কথা হতো না। কারণ তখন সবে নতুন। সেই সময়  এক সমান্তরাল তারের এক গুচ্ছ পাখি গুলোই যেন আমার কাছে অনেক জন। এরাই আমার খুব আপন। ওদের দিকে তাকিয়ে কত গোধূলি বেলা আমি পার করেছি । 


তখন সবে মাত্র বিয়ে হয়েছে। মনে হতো ওরাই আমার একমাত্র সঙ্গী। আমার চোখের আরাম। আমার নিঃশ্বাসের অক্সিজেন। সারাদিনের ক্লান্তির পর ওই তার টায় যখন এসে বসতো ওরা, মনে হতো ওরা আমার বাবার বাড়ির ঐদিকে গিয়েছিল কি! ওখান থেকেই কি আসছে ওরা? ইসসস! ওদের ভাষা যদি বুঝতে পারতাম জিজ্ঞাসা করতাম ওদের। উদাসীন মনে অনেক এই রকম প্রশ্ন জাগতো। জানি এগুলো কারো কাছে শেয়ার করার মতো নয়। লোকে বোকা বোকা ভাববে। কিন্তু আজ এত গুলো বছর পর আবার যখন লিখতে লিখতে কথা গুলো মনে পড়ে গেল তাই এই ব্লগে লিপিবদ্ধ রাখলাম কথাগুলো। আমি নিজেই জানতাম না এতগুলো বছর পরেও সেই দিন গুলোর কথা আমার মনে ছিল। এখন লিখতে লিখতে এসব স্মৃতিতে ভিড় করে আসছে।


আচ্ছা আপনাদের ও কি কখনো এইরকম মনের মধ্যে অদ্ভুত প্রশ্নেরা ভিড় করে? যা কখনো নিজের কাছের মানুষ গুলোকেও শেয়ার করেন নি। যদি থাকে, আমার কমেন্ট বক্সে শেয়ার করতে পারেন। যদি নিজের মনের কৌতূহল গুলো কাউকে না বলতে পারেন, এভাবে লিখে রাখতে পারেন। দেখবেন মনের ভিতর একটা অদ্ভুত প্রশান্তি আসবে। ঠিক যেমন আমার এই মুহূর্তে হচ্ছে। 

আজকের ব্লগ টা তবে এত টুকুই। আবার ফিরবো আগামী কাল নতুন ছন্দে নতুন কোনো অনুভূতি নিয়ে।

#ক্যানভাস

#গোধূলি

#ডানামেলারগল্প

#বাঙালিলাইফস্টাইল

#গ্রামীনজীবন

#বাংলাব্লগ

#স্মৃতিচারণ

#canvas

#bengaliblog

#bengalilifestyle

#villagelifestyle

#housewifelife

#journalblog

#dailylifestyleblog

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ