রবিবারের চিকেন কষা রেসিপি আর সাথে বাঙালির আড্ডা ( একজন গৃহবধূর ডায়েরি থেকে)

 




আমি কিন্তু ব্লগ লিখতে বসার আগে বেশিরভাগ দিনই ভেবে বসি না আজ কি নিয়ে লিখবো। আসলে এখানে আমি সময় কাটাতে আসি। নিজের ভালো লাগা, খারাপ লাগা, আবেগ, অনুভূতি এখানে লিপিবদ্ধ করে রাখি। আর আপনাদের সাথে শেয়ার করি। 


আজ রবিবার। এই দিনটা আমি সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকি। বর মশাই এই অফিস ছুটি থাকে। ছেলের ও স্কুল ছুটি। কাজ যেন আরো বেড়ে যায়। এমনিতেই ছুটির দিন একটু উঠতে লেট করি। কিন্তু আমি জানি লেট করে উঠলে সারাদিন এর কাজ শেষ করতে খুব চাপ হয়ে যায়। কিন্তু ওই যে কারো ট্রেন ধরা, গাড়ি ধরার তাড়া নেই। তাই নিজের মর্জির মালকিন এইদিন আমি নিজেই হয়ে যাই। 


রবিবার মানেই আমাদের মতো মধ্যবিত্ত বাড়িতে চিকেন হবেই। কোনো কোনো বার অবশ্য মটন ও হয়। তবে খুব কম। ওই ধরুন মাসে একবার। এখন আবার বর্ষা কাল। বড় সাইজের ইলিশ পেলেও এসময় রবিবার টা জমে যায়। ইলিশ মাছ বাড়িতে আসলেই আমাদের প্রথম চয়েস থাকে ভাপা ইলিশ। আর আপনাদের ইলিশ এর কোন পদ সবচেয়ে প্রিয়? 


ইলিশ এর রেসিপি নিয়ে যখন আলোচনাই করলাম, তখন চিকেন আর মটন ই কেন বাদ থাকবে বলুন? আজকে তো শুধু আড্ডা দিতেই আমার ব্লগে আসা। চিকেন আমরা ঝাল ঝাল কষা পছন্দ করি। চিকেন রান্নাটা আমি কি ভাবে করি সংক্ষেপে লিখলাম। 


চিকেন কষা রান্নার পদ্ধতি : 

চিকেন : ১ কেজি ২৫০ গ্রাম

পেঁয়াজ : ২৫০ গ্রাম

রসুন : ২৪/২৫ কোয়া

কাঁচালঙ্কা : ৫/৬ টি

নুন : স্বাদ মতো

হলুদ : ২টেবিল চামচ

লংকা গুঁড়ো : ২ টেবিল চামচ

জিরে গুঁড়ো : 2 টেবিল চামচ

গরম মসলা গুঁড়ো : ১ টেবিল চামচ


আর লাগবে : 

টমেটো : মাঝারি সাইজের 2 টো কুচি করা।

ধোনে পাতা : কুচোনো এক কাপ

আদা বাটা : 50 গ্রাম


প্রথম পদ্ধতি : 


চিকেন টা খুব ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।


দ্বিতীয় পদ্ধতি : 

একটা বাটিতে উপরের লেখা পরিমাপ অনুযায়ী গুঁড়ো মশলা গুলো মিশিয়ে নিতে হবে। অর্থাৎ নুন, হলুদ গুঁড়ো, লংকা গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, গরম মশলা গুঁড়ো।


তৃতীয় পদ্ধতি:

এবার ধুয়ে রাখা চিকেন এ এই মশলার মিশ্রণ টা খুব ভালো ভাবে মিশিয়ে 1 ঘন্টা ম্যারিনেট করে রেখে দিতে হবে।


চতুর্থ পদ্ধতি : 


এবার 2 টো মাঝারি আকারের পেঁয়াজ বেটে নিতে হবে।

আদা, রসুন, কাঁচালঙ্কা এক সাথে বেটে নিতে হবে।

তারপর টমেটো ও ধনেপাতা একসাথে বেটে নিতে হবে।


পঞ্চম পদ্ধতি : 

গ্যাস অন করে কড়াই বসাতে হবে। কড়াই গরম হয়ে গেলেই সর্ষের তেল দিতে হবে। পেঁয়াজ কুচি দিয়ে ভাজতে হবে। সোনালী বর্ণ হয়ে গেলে তাতে পেঁয়াজ বাটা দিয়ে 2 মিনিট মত কষাতে হবে। এরপর যাবে আদা, রসুন কাঁচালংকার পেস্ট। এরপর একটু নেড়ে নিয়ে এতে দিতে হবে টমেটো ও ধনেপাতা বাটা। খুব ভালো করে এইসব কষাতে হবে। মশলা ভালোভাবে কষানো হয়ে গেলে আসবে পরবর্তী স্টেপ।


ষষ্ঠ পদ্ধতি: 

এবার ওই মশলায় ম্যারিনেট করা চিকেন দিয়ে লো আঁচ এ 30 মিনিট ঢাকনা দিয়ে কষাতে হবে। 2 মিনিট ছাড়া ছাড়া ঢাকনা খুলে নাড়তে হবে। যাতে তলায় ধরে না যায়।  এভাবে 30 মিনিট পর চিকেন ভালোই নরম হয়ে যায়।


এবার আমার ছেলে যেহেতু ছোট, আর শ্বশুর মশাই এর বয়স হয়েছে তাদের কথা মাথায় রেখে একটু গরম জল দিয়ে কষাটা আরো 15 মিনিট ফোটাই। এতে চিকেন দারুন নরম হয়। আর হজমে সমস্যা হয় না।


একটু মাখা মাখা মতো হয়। এটা দিয়ে ভাত, রুটি দুই ই খাওয়া যায়। যেহেতু আজকের ব্লগটা রাতে লিখতে বসেছি তাই চিকেন এর ছবি নেই। রাতে ডিনার এর জন্য যেটা ছিল ওটার ই ছবি দিলাম। ব্লগ লেখার মাঝে খেতে দিলাম সকলকে। তাই ছবিটা নিলাম। এটা আমার বর মশাই এর থালা।


chiken-kosha-recepi



আমি এভাবেই চিকেন টা রান্না করি। জানি সকলের রান্নার স্টাইল এক নয়। কিন্তু এইভাবে রান্না করলেও খেতে ভালোই হয়। আজকের ব্লগ টায় ভেবেছিলাম রবিবারের নির্ভেজাল গল্প করবো। তা আর হলো কই? চিকেন নিয়েই সময় চলে গেল।


আমাদের বাঙালিদের রবিবার ছুটির দিন মানেই আড্ডা। তাই না? আমরা বাঙালি রা যেমন খাদ্য রসিক তেমনি আড্ডাবাজ। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। আমি ও ভীষণ ভালোবাসি আড্ডা দিতে। আপনারা কারা কারা খদ্দরসিক ও কারা কারা আড্ডাবাজ জানাবেন কমেন্ট করে। 


ব্লগে আড্ডা দিতে দিতেই এখন রাত কটা বাজে বলুন তো? রাত 11: 16 মিনিট। কি লিখবো ভেবে পাই না। আর গল্প একবার শুরু হলে আর শেষই হতে চায় না। তাই ব্লগটা আর বড় না করে এখানেই শেষ করছি। সকলে ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ