আজকে লিখতে বসে একটা কথাই বার বার মাথায় আসছে আচ্ছা আমি তো মনের খেয়াল এ লিখি। কিন্তু আপনারা কি সেগুলো পছন্দ করেন? আমি কিন্তু কখনই বলবো না আমার লেখা গুলো সাহিত্য ধর্মী। মানুষ যেমন প্রতিদিন এর দিনলিপি ডায়েরি তে লিখে রাখে, আমি ও ঠিক তাই করি। শুধু আমি ডায়েরির পরিবর্তে আমার নিজস্ব এই সাইটে লিখি। এবং আমার চিন্তা ভাবনা গুলো সকলের সামনে উন্মুক্ত করি।
জীবনের কিছু পথ একা হাঁটতেই ভালো লাগে। নিসঙ্গ জীবনে একটা মুক্তির স্বাদ থাকে। প্রতিটা নিঃশ্বাসে পাওয়া যায় বিশুদ্ধ বাতাস। অনেক না বলা কথা গুলো পথ চলতে চলতে আপন মনেই বলে নেওয়া যায়। আবার কিছু প্রশ্ন এর উত্তর মনের কাছ থেকেই পাওয়া যায়।
পরাধীনতায় আবদ্ধ জীবনে বেঁচে থাকার ইচ্ছা যেমন মরে যায়, তেমন মানুষ নিজের মনের কথা টুকু শুনতেও ভুলে যায়। মানসিক অত্যাচারে এতটাই জর্জরিত থাকে যে , নিজের মন এর যত্ন টুকু নিতেও পারে না। কেমন যেন নিজেকেই নিজের শত্রু মনে করে।
একলা হাঁটার, একলা বাঁচার মধ্যেও একটা স্বাধীনতা আছে। এখানে নিজের মনের মতো করে জীবনের গল্পটা শুরু করা যায়। একলা জীবনে কোন পিছুটান থাকে না। সানন্দে নিজের শখ, আহ্লাদ গুলো পূরণ করা যায়। তবে এই একলা থাকার প্রবনতা টাকে অনেকে ভাবেন স্বার্থপর তা। আসলে তা নয়।
ব্যস্ত জীবনে, পরিবারের প্রতিটা মানুষের জন্য করতে করতে, সকলের দেখভাল নিতে গিয়ে নিজে কখন যে সে বড় একাকিত্বে ভোগে সে নিজেই টের পায় না। ভীষণ ভাবে দ্বায়িত্ব শীল মানুষ গুলোই এক সময়ে নিজেকে সকলের থেকে গুটিয়ে নিতে চায়। কারণ তার মুখ চেয়ে গোটা একটা পৃথিবী প্রত্যাশা করে বসে থাকে, কিন্তু তার প্রয়োজনে কেউ ঘুরেও তাকায় না।
এই হচ্ছে বর্তমান সমাজের নিয়ম। যার উপকার এ লাগবেন সেই একদিন আপনার পিছনে আপনার নামে সমালোচনা করবে। যাকে সাহায্য করবেন , পরবর্তী কালে আপনার নিজের বিপদের সময় দেখবেন নানা অজুহাত দিয়ে পাশ কাটাতে চাইছে আপনাকে।
সুতরাং নিজের জীবনের মূল্যবান সময়টুকু অন্যের খুশির জন্য বিলিয়ে দেওয়া বৃথা। নিজেকেও কখনো কখনো স্বার্থপর হতে হয়, নিজের স্বার্থে। ভালোবাসা ভালো। কিন্তু অন্ধের মতো ভালোবাসা ভালো নয়। যে ভালোবাসা যত গভীর সেই ভালোবাসায় অবহেলা ও বেশি।
সংসার জীবনটাও ঠিক একইরকম নিয়মের মধ্যেই চলে। যতই তুমি সংসারের জন্য খেটে দিনপাত করে দাও তবু আপনার নাম হবে না। সংসারের একশটা কাজের মধ্যে যদি একটা কাজ ভুল করেন , তাহলে ঐ 99 টা ঠিক কাজের ও কেউ কদর করবে না। সবাই ওই 1 টা কাজের খুঁত নিয়েই আপনার জীবনটা দুর্বিষহ করে তুলবে।
অথচ আমি দেখেছি যে বউ টা নতুন বিয়ে হওয়ার পরেই নানা ছুতো, বাহানায় আলাদা করে বর কে নিয়ে সংসার পাতে সেই ই অনেক সুখী থাকে। তার কোন দায় নেই যৌথ সংসারের অন্যদের মন জুগিয়ে চলার। তাদের জন্য দিনরাত খাটতেও হয় না। আর কথাও শুনতে হয় না।
আর আমরা যারা মুখ বুজে করেও যাই আবার মুখ ঝামটাও খাই। যৌথ সংসারের সব দিন সমান কারো জয় না। যেদিন একটু বেশি পরিশ্রম করতে হয়, কিংবা মন কোন কারণে খুব বিষণ্ণ লাগে মনে হয় একলাই কোথাও বেরিয়ে পড়ি। নিজের সাথে নিজে একটু সময় কাটাই।
আর এই থেরাপি টা আমি করে খুব সফল ও হয়েছি। সারাদিন এর কাজ , কর্মের ব্যস্ততা থেকে একটু নিস্তার পেতে একলা হাঁটি। বেশ ভালো লাগে। কিংবা পুকুরের ঘাটে বসে একটু একাকী সময় কাটালাম। বেশ ফুরফুরে হয়ে যায় মেজাজটা। নিজেকে একটু স্বাধীন মনে হয়।
আমার তো শত ব্যস্ততার ভিড়ে এই একটু একলা সময় কাটাতে খুব ভালো লাগে। অপেক্ষা করি দিন শেষে কখন ওই একটু সময় পাবো যখন একটু প্রাণ ভরে শান্তির নিশ্বাস নিতে পারবো। কোলাহল থেকে একটু দূরে সরে নিরালায় একান্তই নিজের মতো করে সময় কাটাতে পারবো। আর সাথে মনের একটু যত্ন নেব। তার কি ইচ্ছে সে গুলো পূরণ করার চেষ্টা করবো।
আপনাদের ও কি সারাদিনের সাংসারিক কাজ, অফিস, ব্যবসা সামলে মনে হয় হাঁপিয়ে উঠেছেন? খুব ক্লান্ত লাগলে কি করেন একান্তে নিরালায় সময় কাটান ? না কি বন্ধু বান্ধব সকলের সাথে চুটিয়ে আড্ডা দিয়ে মনকে আবার রিচার্জ করিয়ে নেন? কোনটা? আমায় কমেন্ট করে জানাতেপারেন।
আজকের ব্লগটা তবে এত টুকুই। আবার ফিরবো আগামী কাল। নতুন অনুভূতি দের নিয়ে। আজ তবে আসি। এখন ঘড়িতে রাত 11: 45 মিনিট। এবার শুতে যাবো। পোস্ট টা রাত 12 টার আগেই আপলোড করতে হবে।


0 মন্তব্যসমূহ