জীবনের আরও এক অর্থ হলো কর্ম। আমদের উচিত কর্ম করে যাওয়া। কর্মই পারে ভাগ্যকে পাল্টাতে

 আচ্ছা প্রতিদিন ডায়েরি লেখার অভ্যাস কাদের আছে? আমার তো ছোটবেলা থেকেই আছে। কিন্তু আমি রোজকার ডায়েরিতে সবসময় নিজের অনুভূতি, উপলব্ধির কথা গুলো সোজাসাপ্টা লিখি না। একটু গল্পের ছলে নাম, স্থান পরিবর্তন করে লিপিবদ্ধ করি। এটা পড়তেও বেশ লাগে। আর লেখাটা সম্পন্ন করার পর নিজের মধ্যে একটা আত্মপরিতৃপ্তি পাই। দিনশেষে  এটুকুই নিজের কাছে নিজের সেরা পাওনা। আমি মনে করি এই পাওনাটাও অনেকে প্রতিদিন নিজেকে দিতে পারে না।


এখন মানুষ আগেকার থেকে আরও বেশি ব্যস্ত। এখন মহিলা পুরুষ সকলেই স্বনির্ভর। আগেও এই চিত্রটা ছিল। কিন্তু ইদানীং কালে এটা একদম কমপালসারি হয়ে গেছে। সুতরাং বাড়ির কাজ সামলে নিজের ক্যারিয়ার, জব, বিজনেস সামলে নিজেকে একটু খুশি রাখা, দিনশেষে নিজের কাছে নিজের প্রাপ্তি স্বীকার করাটা সকলের সম্ভব হয়ে ওঠে না। এই ব্যস্ততার যুগে দাঁড়িয়েও আমি এটুকু সময় পাই, অবসর পাই। এটাও জীবনকে অনেকটা মানসিক শান্তি দেয়।


আমি অবসরের সময় পাই কারণ আমি সংসারী মানুষ। সংসার ছাড়া, টুকটাক পড়াশোনা গল্প বই, আর লেখালিখি ছাড়া তেমন কিছুই করি না। জব বা বিজনেস করি না। অর্থাৎ আমি স্বাবলম্বী নই। আমার বাড়ির যেসকল সদস্যরা রোজগার করেন, আমি তাদের দেখাশোনা করি। আমার এই ছোট্ট সংসার টার খেয়াল রাখি। এভাবেই আমর দিন কেটে যাচ্ছে।


চাকরি পাই নি। বিজনেস করতে পারবো কি সেই চিন্তা মাথাতে এসেছিল কিন্তু বাস্তবায়ন হয় নি। কারণ আমি বরাবরই ভীষণ ভীতু। রিস্ক নিয়ে কোনো কাজ করার ইচ্ছে আমার নেই। তাছাড়া আমার শশুর বাড়ি গ্রাম্য এলাকায়। এখান থেকে অনলাইন বিজনেস ভালো চলবে না। ওরিফ্লিম, amoye, modi care এই সব কোম্পানির কাজ নাকি বাড়ি বসেও করা যায়। কিন্তু এই গ্রাম অঞ্চলে কে এত প্রোডাক্ট কিনবে? এইসব ভেবে আর এগোই নি। 


তারপর অনলাইনে দেখি অনেকেই উপদেশ দেন স্কিল শিখতে। আচ্ছা সময়টা কখন পাবো বলুন তো? আমাদের এখানে কোনো হেলপিংহ্যান্ড পাওয়া যায় না। যে একটা টাইম কাজ করে দিয়ে যাবে আমি অন্য কিছু করব। তাছাড়া আমার পরিবারের প্রতিটি মানুষের আলাদা আলাদা চাহিদা। আলাদা আলাদা খাবার করতে হয়। এসব আমি ভালোবেসে করি। এক ঝটকায় সব নিয়ম পাল্টে গেলে ওনাদেরও অসুবিধা হবে। 


আমার ছেলেকে আমি এক্সট্রা এফোর্ট দিয়ে পড়াশোনা করাই। কোনো টিউশন টিচার এখনো রাখি নি। ও স্কুল বেরিয়ে গেলে প্রতিটা সাবজেক্টের আলাদা আলাদা করে ওয়ার্কশীট তৈরি করি। প্রতিদিন নিয়ম করে অঙ্ক, ইংরেজি গ্রামার প্র্যাকটিস করাই। এক ঘন্টা করে। এর জন্য তো ওয়ার্কশীট তৈরি করতেও টাইম চলে যায়। জানি শুধু আমি নয় সব মায়েরাই সন্তানদের পড়াশোনার ব্যাপারে খুবই সচেতন।


 কিন্তু আমার  সব সাবজেক্টের ওয়ার্কশীট তৈরি করতেই সারাদিনে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা টাইম লাগে। তারপর সন্ধ্যে বেলায় পড়াতে বসি সন্ধ্যে সাতটা থেকে রাত দশটা অবধি। তাহলে এখানেই আমার পাঁচ ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়ে গেল। আবার সকালে সাতটা থেকে আটটা অবধি এক ঘন্টা পড়াই। বিকেলে 4:10 নাগাদ স্কুল থেকে ফেরে। 4:30 টে থেকে বিকেল 5 টা অবধি আধা ঘণ্টা পড়াতে বসি। এই সময়টায় শুধু শর্ট প্রশ্ন মুখে ধরি। 


আসলে স্কুল থেকে ফিরেই আমার ছেলে মাঠে খেলতে যাবে বলে বায়না ধরে। তাই অতক্ষণ যাতে না বাড়ির বাইরে থাকে তাই এই কৌশল। 5 টা থেকে সাড়ে ছয়টা অবধি খেলে। এবার নিশ্চই বুঝতে পারছেন ছেলের জন্যই আমায় সারাদিন সাড়ে ছয় ঘণ্টা ব্যয় করতে হয়। 


তাছাড়া গ্রামে ঘরে সংসারের কাজের ধরণটাও একটু আলাদা। আরও বেশি সময় লাগে কাজ কমপ্লিট করতে। যেমন ধরুন শহর এলাকায় বাড়িগুলোতে খুব বড় উঠোন থাকে না। চাষবাস নেই। আমাদের বড় উঠোন পরিষ্কার করতে হয়। ধান চাষের সময় ধান চাড়ানো, রোদে দেওয়া সেগুলো কড়ুই এ ভরা সব করতে হয়। যাদেরকে চাষের কাজে নিযুক্ত করা হয় তাদের জল খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের জন্য দুপুরের ভাত, তরকারি, মাছ , পায়েস ও রান্না করতে হয়।


সুতরাং বুঝতেই পারছেন আমি কোনরকম অজুহাত দিচ্ছি না। আসলে একটুও অবসর মেলে না যে শান্তিতে কিছু একটা স্কিল শিখব। আর রইলো বাকি আমর ব্লগ লেখার ইতিহাস। আমি যে সাড়ে ছয় বছর ধরে ব্লগ লিখি এ কথা আমার স্বামী ছাড়া আর কেউ জানেই না। আমি যত টুকু দুপুরে কিংবা রাতে অবসর পাই ওই সময়ে লিখি। কারণ এটা আমর নেশা। অবশ্য আরও একটা শখ আছে আমার। সেটা হলো বই পড়া। সেটাও পরি।


সব কিছু মিলিয়ে মিশিয়ে আমি বিশ্রাম খুব কমই নিই। আসলে জীবনটা খুব ছোট। বিশ্রাম নিয়ে সময় কাটাতে আমার ভালো লাগে না। সংসার , ছেলের দেখাশোনা সামলিয়ে যতটুকু সময় বাঁচাতে পরি নিজের শখ টাকে জিইয়ে রাখতে চাই। আর ভীষণ বই পড়তেও ভালোবাসি। এইসব নিয়ে বেশ ভালোই ব্যস্ততার মধ্যে জীবন কাটছে। জীবনে আর যাই হোক যদি কর্ম ব্যস্ততা না থাকে জীবনটা অলস ভাবে কাটে। তখন কোনো কিছু ই ভালো লাগে না। 


আর অলস জীবন মানেই জীবনে কী পেলাম,  কি হারালাম সেই হিসাবের ভান্ডার নিয়ে ভাবতে বসা। অন্যের জীবনের সাথে নিজের জীবনটাকে তুলনা করে হাহুতাশ করা। নিজের ভাগ্যকে দোষ দেওয়া। কিন্তু জীবনের আর এক নাম কর্ম। আমদের উচিত কর্ম করে যাওয়া। কর্মই পারে ভাগ্যকে পাল্টাতে। 


সুতরাং আমিও জীবনে যা কিছু পাইনি সেটা নিয়ে ভবি না। এই একটু লেখালিখি করতে ভালোবাসি। এর জন্য প্রতিদিন একটু হলেও সময় বের করতে পারছি এতেই আমার আত্মসুখ। আমি এই নিয়েই ভীষণ খুশি। 


আজকের ব্লগটা তবে এখানেই শেষ করছি। এখন রাত এগারোটা বত্রিশ বাজে। আগামী কাল কলকাতা যাবো। একটু দরকার আছে। সময় পেলে একবার কলেজ স্ট্রিট থেকেও ঘুরে আসবো। অনেকদিন যাওয়া হয় নি। আর যদি কোনো গল্পের বই কিনি আপনাদের সাথে শেয়ার করব। 


আমাদের বাড়ি থেকে হাওড়ার দূরত্ব দু ঘন্টা। সেখান থেকে কলেজ স্ট্রিট আরও আধা ঘণ্টা। অনেকটাই জার্নি। তাই আজ তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ব। সকাল হলেই বেরোতে হবে।


আজকের ব্লগটা তবে এটুকুই। আবার ফিরব নতুন কোনো ব্লগের লেখা নিয়ে। আজ তবে আসি। সকলে ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ