আজ ছেলের পরীক্ষার রেজাল্ট পেলাম : একজন গৃহবধূ মায়ের আনন্দ, খুশি ও আফসোসের কিছু টুকরো গল্প

 


( বাইক চলা অবস্থা তেই ছবিটা তুলেছি। রাস্তাটা দেখুন কি সুন্দর লাগছে!)

নমস্কার বন্ধুরা, 


সকলে কেমন আছেন? আমিও বেশ ভালোই আছি। যথারীতি অন্যান্য দিনের মতো আজও চলে এলাম আমার অবসর যাপনের কিছু গল্প নিয়ে। আগের ব্লগে তো আপনাদের আমি শেয়ার করেই ছিলাম আজ ছেলের স্কুলের প্রথম সেমিস্টার এর পরীক্ষার খাতা দেখাবে। আমার ছেলে icse বোর্ডের অধীনে ক্লাস 3 তে পড়ে। 


সুতরাং সকাল থেকেই একটা টেনশন তো হচ্ছিলই। প্রত্যেক বার ই আমার এসময় খুব টেনশন হয়। কারণ মা হিসাবে সন্তানের জন্য একটা চিন্তা তো থেকেই যায়। তার ওপর ওকে এখনো কোনো টিউশন টিচার এর কাছে দিই নি। আমিই ওর পড়াশোনাটা গাইড করি। তাই চিন্তাটা দ্বিগুন বলতে পারেন। 


পরীক্ষার খাতা দেখানো র সময় ছিল বেলা দশ টা থেকে।  সকাল সকাল ভগবান কে স্মরণ করে প্রথমেই সংসারের কাজ গুলো সেরে নিতে উদ্যোগী হলাম। আমায় যেখানেই যেতে হোক না কেন সংসারের কাজ পুরোটা সেরেই যেতে হবে। তাই কোথাও যাওয়ার থাকলে টাইম ম্যানেজমেন্ট টা আগে থেকেই করে নিই। তার ওপর আজ আবার একটু এক্সট্রা কাজ ও ছিল।


আমাদের জমিতে ধান রোয়া হচ্ছে আজ। তাই কিষেন হয়েছে চারজন। তাদের জল খাবার এর জন্য আলুর দম করতে হলো। তাদের খেতে দিয়ে, বাড়ির সকলকে জল খাবার দিয়ে, স্নান করে পুজো করে বেরোতে বেরোতেই 10টা পার হয়ে গেল।


খাতা দেখানোর টাইম অবশ্য ছিল বেলা 10 টা থেকে দুপুর 12 টা অবধি। আর আমাদের বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব 6 কিলোমিটার। আজ বর মশাই এর অফিস ছুটি। তাই ওরই বাইকে চেপে চললাম স্কুলের উদ্যেশ্যে।


যাওয়ার আগে ছেলেকে এতবার বললাম তুই ও চল। কিছুতেই গেল না। ভয় পাচ্ছে। কারণ ওর নামে স্কুল থেকে কিছু কমপ্লেন ছিল। সেইজন্য ও আমায় যেতে হত। কমপ্লেন টা কি নিয়ে সেটা পরে বলছি। 


আজকের আকাশটা মেঘলা করেছিল। রাস্তায় বেরোতেই টেনশন টা যেন কোথায় হারিয়ে গেল। শুনশান ফাঁকা রাস্তা দুধারে সবুজের ঝার। মনোরম হওয়া। মনটা যেন ফ্রেশ হয়ে গেল। পথ চলতে চলতেই বাইকে বসেই একটা ছবি তুলে নিলাম। ছবিটায় দেখুন রাস্তাটা কি সুন্দর সোজা , লম্বা, ফাঁকা তাই না? শহরে রাস্তার মতো গাড়ির বাড়বাড়ন্ত নেই। এইরকম রাস্তা দিয়ে যেতে ভীষণ ভালো লাগে। ছবিটি একদম ব্লগের ওপরে দিয়েছি।


স্কুলে পৌঁছেই অভিভাবক দের সাথে দেখা হয়ে গেল। একলা যাওয়ার চেয়ে  একসঙ্গে জোট বেঁধে যেতে বেশ ভালোলাগে। আমরা চার/ পাঁচ জন অভিভাবক ফোনে যোগাযোগ করে নিয়েছিলাম আগে থেকেই। আমি ই একটু লেট হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ রাস্তায় বেড়িয়েই একটু বৃষ্টি পেয়েছিলাম। তাই একটু দাঁড়িয়ে এসেছি। তারা আমার জন্য স্কুলের গেটের কাছে অপেক্ষা করছিল। 


স্কুলে ঢুকেই ম্যাডাম দের কাছ থেকে পরীক্ষা র খাতা গুলো পেলাম। ওর প্রতিটা বিষয়ের নাম্বার গুলো দিলাম নীচে। সব বিষয় ই 20 তে পরীক্ষা হয়েছে। 

Eng lit - 20

Eng lang -19

Science- 20.

Sst- 20

Computer -20

Beng -19

Math -17


অংকের নম্বর টা দেখে একটু মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ওকে প্রতিদিন অনেক প্র্যাকটিস করাই। তাও কাউন্টিং এ ভুল করলো। 3 ডিজিট এর একটা এডিশন ছিল। যার একচুয়াল নম্বর ও এস্টিমেট নম্বর বের করতে হতো। ওটাই 3 নম্বর ছিল। ওটাতে 3 ডিজিট এর নম্বর এ এসে হাতে রাখা 1 টা গুনতে ভুলে গিয়েছিল। 


আর স্কুলে ঠিক কমপ্লেন টাও এই নিয়ে। প্রতিটা বিষয় এর ম্যাম বলেছেন, ও পড়াশোনায় খুব ভালো। কিন্তু ও খুব বেশি , চঞ্চল, দুরন্ত। তাই সিলি মিসটেক হয় প্রচুর। এই কমপ্লেন টা আমি স্কুলে অনেকবার ই শুনেছি। ওকে অনেক বোঝাই, বকি তাও ওর স্বভাবের কোন পরিবর্তন নেই। আর এত দুরন্ত পনার জন্য এইরকম হচ্ছে।


স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছেলের জন্য ও পরিবারের সকলের জন্য কোল্ড ড্রিংক নিয়ে এসেছিলাম। দুপুরের খাওয়া দাওয়ার পর ব্লগ টা লিখতে বসেছিলাম। কিন্তু পুরোটা লেখা হয়ে ওঠে নি তখন। এখন বাজে রাত 9:41 মিনিট। এখন শেষ করবো।


( আজ বিকেলে হাঁটতে বেরিয়ে, প্রকৃতির মাঝে আমি )

আজকে বিকালে হাঁটতে গিয়ে আমার গ্রামের কিছু ছবি তুলেছি সেটা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আর হ্যাঁ, সন্তান এর রেজাল্ট খারাপ হলে যে কোন মা এরই একটু মন খারাপ হয় আবার দিনশেষে সন্তানের নিষ্পাপ মুখ খানি দেখে সব মন খারাপ উদাও হয়ে যায়। 

Original-village-nature-pic



যা হয়ে গেছে তা নিয়ে আর ভাবি না। এবার সামনেই ওর হাফ ইয়ারলি পরীক্ষা। সেপ্টেম্বর এ। এবার ফোকাস আমার ঐদিকেই। আচ্ছা, আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন আপনাদের ও বাচ্চা কি চঞ্চলতা র জন্য পরীক্ষার খাতায় জানা প্রশ্ন ভুল করে? আর এই বিষয়ে কারো যদি কিছু টিপস থাকে আমায় দিতে পারেন। আমার খুব উপকার হবে।

Original-village-nature-pic

( আমার গ্রামের আসল সৌন্দর্য্য । কেমন লাগছে জানিও। গোধূলি লগ্নে তোলা ছবি)


আজকের ব্লগ টা এত টুকুই। আবার ফিরবো আগামী কাল নতুন ব্লগ এ আমার জীবনের উপলব্ধি র নতুন গল্প নিয়ে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ