আমাদের অনেকের জীবনেই কখনো না কখনো প্রেম আসে। আমরা ভালোবাসায় ভাসি। প্রেম , ভালোবাসা কখনো খারাপ কোন ব্যাপার না। এটা একটা প্রকৃতির সহজাত নিয়ম। একটা বয়সের পর নারী - পুরুষ একে অপরের প্রতি প্রেম আসতেই পারে। প্রেম, ভালোবাসা এটা একটা পবিত্র সম্পর্ক। মানুষ একটা মানুষের ওপরই প্রতিদিন নতুন করে প্রেমে পড়তে পারে। যদি সে ভালোবাসা প্রকৃতই ভালোবাসা হয়।
কিন্তু ভালোবেসে ক্ষতি তো সেই মানুষটারই হয়, যে নিজের থেকেও তাকে বেশি আপন করে ফেলে। এই পবিত্র সম্পর্কে জড়িয়ে যে নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সময় গুলো তাকে দেয়। পরিবারের অন্যদের গুরুত্ব না দিয়ে সেই ভালোবাসার মানুষটিকে বেশি প্রাধান্য দেয়। সেই মানুষটাই জীবনে খুব খারাপ ভাবে ঠকে যায়।
এ জীবনে কত মানুষ শুধু ভালোবেসে নিজেকে শেষ করে দিয়েছে। শিক্ষিত, অশিক্ষিত , পরিণত, অপরিণত কত মানুষ ভালোবাসার প্রতারণা র শিকার হয়েছে। সম্পর্কের সুখের স্মৃতি গুলোকে আঁকড়ে ব্যর্থতার গ্লানি না ভুলতে পেরে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। তার ভালোবাসায় কোন ছল চাতুরী ছিল না। শুধু যাকে ভালোবেসেছিল মানুষটা ছিল প্রতারক।
সেই মানুষ টাই অন্ধের মতো ভালোবেসে ভুল করেছে। যে মানুষটা দিনের পর দিন নিজের প্রেমিক/ প্রেমিকার সাথে সব কিছু মানিয়ে চলার চেষ্টা করেছে। কম্প্রোমাইজ করেছে, স্যাক্রিফাইস করেছে। সময় অপচয় করেছে। তার জন্য পরিবারের সকলকে উপেক্ষা পর্যন্ত করেছে। কিন্তু শেষপর্যন্ত, বিনিময়ে পেয়েছে শুধু কষ্ট, অবহেলা, আর লাঞ্ছনা।
ভালোবেসে সেই মানুষটারই ক্ষতি হয়েছে, যে খুব সহজে সব কিছু মেনে নিয়েছে। অল্পতে বিশ্বাস করেছে। ভালোবাসার হাতছানিকে পরম পবিত্রতায় আঁকড়ে ধরেছে। যার ইশারায় সে কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই তার ইজ্জত, সম্মান সমস্ত কিছু তার ভালোবাসার মানুষ টার কাছে সপে দিয়েছে। নিজের জীবনের সব কিছু উজাড় করে তার হতে চেয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে জানতে পেরেছে, তাকে শুধু তার ভালোবাসার মানুষটি ব্যবহার করেছে। তার শরীরের চাহিদা মিটিয়েছে। সে তার প্রিয়জন হতে পারে নি কখনো। বরঞ্চ প্রয়োজনে শারীরিক চাহিদা মেটানোর জন্য তাকে ব্যবহার করেছে।
উফফ! কি নিষ্ঠুর এ সমাজ। এই সমাজে ভালোবাসার নামে যারা শরীরের চাহিদা মেটায় , তাদের বলি ওইসব এর জন্যও বরাদ্দ জায়গা আছে। সেখানে গিয়ে কয়েকটি অর্থের বিনিময়ে যেন শরীরের পিপাসা মেটায় তারা। সত্যিই ভালোবাসা একটা পরম সম্পর্ক। এই ভালোবাসার নামে যারা মানুষের মন নিয়ে খেলা করে ভগবান ও তাদের ছেড়ে দেয় না।
সেই অসহায়/ অসহায়া মানুষটির চোখের জলের অভিশাপে সেই পিশাচ মানুষটি যেন তিল তিল করে ধ্বংস হয়ে যায়। অনেকে বলেন ভালোবাসলেই কি সব কিছু উজাড় করে দিতে হয়? নিজের সম্ভ্রম টুকু কি ঢাকতে নেই? কিন্তু কি জানি আমার মনে হয় ভালোবাসা এমনই একটা ব্যাপার যাকে বিশ্বাস করে মানুষ তার ইশারায় সব কিছু করতে পারে।
যে মানুষটা বার বার ক্ষমা করে দেয়, আবার নিষ্পাপ মনে ভালোবাসার মানুষ টার সব দোষ ভুলে তাকে আপন করে নেয় সেই মানুষটিই পরে বেশি দুঃখ ভোগ করে। কারণ এদের মন খুব নরম হয়। তাদের বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যে বলে ভোলানো খুব সোজা। যতবার সে ক্ষমা করে ততবারই সেই বিশ্বাসঘাতক প্রেমিক/ প্রেমিকা তার দুর্বল মনের সুযোগ নিয়ে আবার কুকর্ম করে।
যে মানুষটা অতীতের ভালোবাসার স্মৃতি আগলে পড়ে রইলো সেই মানুষটিই আর জীবন যুদ্ধে এগোতে পারল না। সেই মানুষ টারই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হলো, যে সব কিছু ভুলে আবার নতুন করে সব কিছু শুরু করতে পারল না। নতুন করে শুরু করা মানে আবার প্রেমে পরা নয়। নতুন করে জীবনে বাঁচা, নিজের জন্য বাঁচা। আসলে তারা তার জীবন এর প্রাণ ভ্রমরা টা তো ভালোবাসার মানুষ টির কাছেই গচ্ছিত রেখেছিল। আর উঠে দাঁড়াবে কি করে? ধীরে ধীরে তলিয়ে যেতে থাকলো অন্ধকারের পথে।
তাই ভালোবাসা ভালো। কিন্তু অন্ধের মতো ভালোবাসা ভালো নয়। ভালোবাসায় স্বাধীনতা থাকা দরকার। পরস্পর পরস্পর কে বোঝা দরকার। দুজন দুজনের ক্যারিয়ার কে সাপোর্ট করার দরকার। ভালোবাসা কে টিকিয়ে রাখার জন্য টাইম ম্যানেজমেন্ট এর খুব দরকার। যেন সঠিক বয়সের সঠিক সময় টা না পেরিয়ে যায় । সময় খুব মূল্যবান। ভালোবাসো , কিন্তু সময়কে শ্রদ্ধা করে। এসব করতে গিয়ে যদি সময় পেরিয়ে যায় তাহলে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত আর হয়ে ওঠা হবে না।
আর সব কিছু ব্যালেন্স করে যারা ভালোবাসে, পরিশেষে তারাই জীবন যুদ্ধে জয়ী হয়। সবচেয়ে সুখী হয়। কারণ ভালোবাসার সাথে সাথে তারা নিজের জীবনেও প্রতিষ্ঠিত। তাই সহজেই বড় দের আশীর্বাদ এর হাত ও তাদের মাথার ওপর থাকে।
তাই ভালোবেসে কেউ নিজের জীবনের ক্ষতি করবেন না। জীবন অনেক মূল্যবান। প্রত্যাখ্যান কেউ করতেই পারে। তার বিচার উপরওয়ালা করবেন। আপনি শুধু নিজের কর্ম করে যান। দেখবেন, ভগবান ঠিক আপনাকে আপনার যোগ্য মানুষের সাথে মিলিয়ে দেবেন।
আজকের ব্লগ টা এত টুকুই । আবার ফিরবো নতুন কোন আবেগঘন গল্প নিয়ে। এখন ঘড়িতে সন্ধ্যে 6: 47 মিনিট। এবার আমি পরিবারের সকলের জন্য চা করতে যাবো রান্নাঘরে । তারপর 7 :15 থেকেই ছেলেকে পড়াতে বসবো। চলবে এখন রাত 10 টা অবধি। আপনারা সকলে ভালো থাকবেন।



0 মন্তব্যসমূহ