বাবার বাড়িতে আনন্দ, হৈ হুল্লোড় এর পর সংসারের দায়িত্ব : একজন গৃহবধূর দিনলিপি

 




আজকের দিনটাও আর পাঁচটা দিনের মতোই খুব সাধারণ। এখন সময় হচ্ছে দুপুর 3:37 মিনিট। ছেলেকে আজকে স্কুল পাঠাই নি। ওর শরীরটা একটু খারাপ। আবহাওয়ার পরিবর্তন এর জন্য একটু সর্দি, কাশি হয়েছে। আমার পাশেই ও ঘুমোচ্ছে। আর আমি এখানে একটু সময় কাটাতে এলাম। আমার খুব শখের এই মুহুর্তটা।


 আজ কিন্তু উল্টোরথ। তাই দিনটা একটি নিঃসন্দেহে  শুভ দিন।  আমাদের এখানে সামনাসামনি কোথাও মেলা হয় না। তাই বেরোনোও হয় না। গত কাল সন্ধ্যে বেলা বাবার বাড়ি গিয়েছিলাম। বনপোর জন্মদিন ছিল। 


আমার জেঠুর মেয়ে বাবার বাড়িতেই থাকে চাকরি সূত্রে। তাই বনপো ও ওখানেই থাকে। তাই নিমন্ত্রণ টা ছিল বাবার বাড়ি। গতকালের সন্ধ্যেটা খুব সুন্দর কেটেছিল। আমার বাবার বাড়ি যৌথ পরিবার। সেই জন্য ওখানে গিয়ে সকলের সাথে দেখা হলে ভীষণ মনটা ভালো হয়ে যায়। 


আর আমার ছেলে তো ওখানে যেতে ভীষণ ভালোবাসে। আমার ছোট কাকার মেয়ের বয়স এই 10 বছর। আমার ছেলের 9। আর বোনপো যার গতকাল জন্মদিন ছিল ওর বয়স 7। আবার আমার ছোট দাদার ও মেয়ে আছে। ওর বয়স ও 7। তাই আমার ছেলে ওখানে গেলেই খুব খুশি হয়ে যায়। বাড়িটায় সব নিজেদের বাচ্চা দের আওয়াজে ই তেই হৈ হৈ কান্ড। 


আমার দুজন বান্ধবীরও নিমন্ত্রণ ছিল। এই সুযোগে ওদের সাথে দেখা হয়ে যাওয়াটাও বিশাল ব্যাপার। সংসারী মানুষ আমি। কিছুক্ষণ এর জন্য চেনা গন্ডির বাইরে বেরিয়ে একটু শান্তির নিশ্বাস নিতে কার না ভালো লাগে বলুন তো ? 


বোনপোর জন্মদিনের সুযোগে মা, বাবার সাথে দেখা করাটা ওদের সাথে সময় কাটানো টাও ছিল উপরি পাওনা। কিন্তু ওই যে, সংসারের মায়াজালে আটকে বেশিক্ষণ আর থাকতে পারলাম কই? ছেলের স্কুল, বরের অফিস । তাই রাত টুকু কাটিয়েই সকাল বেলায় শ্বশুর বাড়ি চলে এলাম।


আমার শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ির দূরত্ব 14 কিলোমিটার। বাইকে 25 মিনিট মতো সময় লাগে। বাইকেই যাতায়াত করি। 


সংসারে গৃহবধূ দের অনেক কিছুই সয়ে নিতে হয়। আমি ও সয়ে যাই। যখনই যাই মা, বাবা বলেন দুদিন থেকে যা মানা। আমি তাদের বলি, না গো মা, থাকলে ছেলেটার 2 দিন স্কুল কামাই হবে। তোমাদের জামাই অফিস যায় সকালে । তাড়াহুড়ো করে শ্বাশুড়ি মা সব কিছু ম্যানেজ করতে পারবে না। 


মন আমারও চায় মা, বাবার কাছে ক দিন থাকি। আসলে আমি তো মা, বাবার একমাত্র সন্তান। তাই ওদের ও খুব একা একা লাগে। কিন্তু উপায় তো নেই। সমাজের ব্যবস্থা, রীতিনীতি আমাদের পায়ে তো একটা অদৃশ্য শিকল পরিয়ে রেখেছে। নিয়মে বেঁধে রেখেছে। যার বাধন ছিঁড়ে ফেলার মতো সাহস কিংবা পরিচয় কোনটাই আমি গড়ে তুলতে পারি নি।


সত্যি বলতে কি আমি বিয়ের পর থেকেই অনেক কিছু মানিয়ে নিয়েছি। অনেক কিছু শিখেছি। সব কিছু ভালোবেসে করেছি। আমি এত টাই ইমোশনাল যে , ভুল কিছু করলে নীরবে কাঁদতাম, গুমরে গুমরে মরতাম। এখনো তাই আছি। স্বভাব কিছু বদলায় নি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ভুল টা একটু কম করি। তাই কষ্ট পাওয়ার পরিমান টাও একটু কমেছে ।


তবে আজ একটু টেনশনে আছি। কারণ আগামী কাল ছেলের স্কুলের 1st assiment এর রেজাল্ট বেরোবে। সকাল দশটায় অভিবাবক দের পৌঁছানোর জন্য নোটিশ দিয়েছে। সুতরাং দেখতে যেতে হবে। আর ছেলের যেহেতু কোন টিউশন টিচার নেই, আমি ই ওকে পড়াই তাই বাড়তি একটা মানসিক চাপ তো আমার আছেই। 20 নম্বর করে পরীক্ষা হয়। মোট সাতটি বিষয় পরীক্ষা হয়েছে। কত নম্বর পেল আগামী কাল ব্লগে বলবো।


আজ তবে আসি। আজকের ব্লগটা জাঁকজমক পূর্ণ নয়। কিন্তু আমার আবেগ এর কিছু অভিব্যক্তি অবশ্যই এতে লুকিয়ে আছে। সাথে একজন গৃহবধূর মনের অদৃশ্য চাপা কষ্ট। আজ ব্লগ টা এত টুকুই থাক।  আমি ফিরবো আবার নতুন আড্ডার আমেজ নিয়ে আগামী কালের পোস্টে। সকলে ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ