গৃহবধূরা সংসারের জন্য জীবনের ষোল আনাই উজাড় করে দেয়। পরিবর্তে দু আনার জন্য ও হাত পাততে হয়।

 

house-Wife-secrifice-photo


আমাদের মতো গৃহবধূ দের জীবনটা বড়ই অদ্ভুত তাই না? আমরা বিয়ের পর কেবল একটা নতুন সংসারই পাই না-  পাই নতুন ঘর, একজন বর, সাথে তার পরিবারের লোকজন, নতুন নিয়ম কানুন , আচার, বিধান আরো কত কি। প্রথম প্রথম খুব সমস্যা হয় মানিয়ে নিতে।


কিন্তু ধীরে ধীরে সব কিছু রপ্ত হয়ে যায়। কেউ রপ্ত করে স্নেহ, মায়া , মমতায় ভরা মা এর মত শ্বাশুড়ি মা এর সাহচর্যে। আবার কেউ বা রপ্ত করে গঞ্জনা, মুখ ঝামটা, অপমান সয়ে সয়ে।


কোন মেয়েই কু মনোভাব নিয়ে নতুন সংসারে পা রাখে না। কোন কোন মেয়ে পরিস্থিতির সাথে মোকাবিলার জন্য নরম স্বভাব ছেড়ে তেজস্বী হয়। আবার কোন কোন মেয়ে তার ভীত স্বভাবের জন্য সারাজীবন ই কষ্ট সয়ে যায়।


পলিটিক্স শুধু বাইরে হয় না। সংসারেও হয়। আর যে সংসারে এই পলিটিক্স চলে সেখানে ফুল টাইম গৃহবধূ দের মানসিক অত্যাচার হয় ভীষণ রকম। মানুষের কষ্ট হলে দুঃখ হলে কারো সাথে শেয়ার করলে সেই কষ্টের কিছু হলেও লাঘব হয়। কিন্তু সংসারের পলিটিক্স এ জর্জরিত গৃহবধূ রা কাউকে এ কথা মনে খুলে শেয়ার করতে পারে না।


নিজের যতই কাছের বন্ধু, আত্মীয় , পরিজন যেই থাকুক না কেন এ কষ্ট সে পুরোটা কাউকেই বলতে পারবে না। মানে তার ভিতরের যে কতখানি আঘাত জমে থাকে, ব্যাথা থাকে, বুক টা যে কত টা হাহাকার করে তা অন্য কাউকে বোঝানোর নয়। এ কষ্ট যার হয় সেই বোঝে।


আর রইলো বাকি বাবা, মা। এদের কাছে তো মেয়েটা অভিনয় করতে শিখে যায়। ভালো থাকার অভিনয়। মিথ্যে মিথ্যে হাসতে পারে। সংসারে নিজের জায়গাটা কতটা মূল্যবান তা বানিয়ে বানিয়ে বেশ বলতে পারে। যাতে মা, বাবা সেসব শুনে মনে শান্তি পায়। কিন্তু দিন শেষে, গভীর রাতে কান্না গুলো চিৎকার করে বলতে চায়, আমি ভালো নেই মা। আমি একদম ভালো নেই। আমার কিচ্ছু ভালো লাগছে না মা। আমার কারোর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। আসলে আমার ভাগ্য টাই খারাপ মা।


একজন বাবা সারাজীবনের পরিশ্রমের টাকা থেকে একটু একটু করে জমিয়ে মেয়ের বিয়ের গয়না কেনে। সামর্থ্য মত সবটুকু দিয়ে মেয়ের বিয়ে দেয়। ছেলের বাড়ির লোক তো আর জানে না, মেয়ের বাবা কত কষ্ট করে টাকা গুলো উপার্জন করেছে। কিন্তু মেয়েটা তো সব জানে, বোঝে , অনুভব করে।


সেই বাবা, মায়ের নামেই যদি কটুকথা শুনতে হয় শ্বশুর বাড়ি থেকে তাহলে মেয়েটা কি অপরিসীম পাথর বুকে চেপে নিয়ে ঘরে বেড়ায় তাহলে ভাবুন। আমি এমন অনেক কাহিনী শুনেছি। এইরকম লাখ লাখ গৃহবধূরা আমাদের সমাজে আছে। যারা সংসারের জন্য ষোল আনা উজাড় করে দেয়, বিনিময়ে দু আনা চাওয়ার কিংবা পাওয়ার অধিকার ও তাদের নেই।


এমনকি যেখানে সে ছোট থেকে বড় হয়েছে - যাদের খেয়েছে, পরেছে তাদের দেখতে যাওয়ার জন্য ও অনুমতির প্রয়োজন হয়। হায় রে সমাজ, কি দুর্বিষহ এই সমাজের রীতিনীতি। যার যাঁতাকলে কত শত গৃহবধূ দের চোখের জল পরে, জীবন বিসর্জন হয়। তবু এই সমাজের অভিশাপ লাগে না? নিপাত যায় না এই অপব্যবস্থার? 


শেষে রইলো বাকি একটা পবিত্র সম্পর্কে র নিয়ে আলোচনা। যিনি এই সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু। তিনি হলেন স্বামী। যাকে বলা হয় পতি দেবতা। তার নিয়ে যদি বলা হয়, দুরকম বলা যায়। 


কোন কোন স্বামী কিন্তু সত্যিই খুব ভালো হয়। তারাও সংসারের পলিটিক্স টা বোঝে। কৌশলে স্ত্রী কে আগলে রাখে। আড়ালে স্ত্রীকে শক্ত করেন। ঢাল হয়ে তার স্ত্রী এর সামনে দাঁড়ায়। অন্যায় এর প্রতিবাদ ও করেন। স্ত্রী এর কষ্ট টা বোঝে। সেই সমস্ত স্ত্রীরা সত্যিই ভাগ্যবান।


আর যে সমস্ত স্বামীরা ভাবেন স্ত্রী এর চোখের জল মানে টিপিক্যাল গৃহবধূর কান্না, কুমিরের কান্না, নেকামো তারা সত্যিই স্বামী নামের কলঙ্ক। এক বিছানায় শুয়েও স্ত্রী এর মন পড়তে পারে না। তার কষ্ট টা অনুভব করতে পারে না। আমি চাইবো , পরজন্ম বলে যদি সত্যিই কিছু হয়ে থাকে, ওই রকম স্বামীর যেন মেয়ে রূপে জন্ম হয়।

তাহলেই বুঝবে একজন গৃহবধূর কষ্টটা কত টা হয়। 


যাই হোক, অনেক কিছুই লিখলাম। এ সবই আমার মনের কথা, আত্ম উপলব্ধি র কথা। কিন্তু এত টা লিখে একটা কথা মনে হলো এ যন্ত্রনা শুধুই গৃহবধূ দের যন্ত্রনা নয়। অনেক কর্মজীবী মহিলারাও এই পলিটিক্স এর শিকার হয়। তারাও সংসারের সব টা সামলে অফিস, ব্যবসা করেও সংসারে র মঙ্গল চায়। তাদের কেও কোণঠাসা করা হয়। তাদের কেও মানসিক অত্যাচার করা হয়। এর ও কিছু নমুনা আমি সংবাদ মাধ্যমে পড়েছি। এবং পুলিশ ফাইল, সি এই ডি এই রকম সিরিয়াল এ সত্য ঘটনা অবলম্বনে এ গুলোতে দেখেছি। 


আজকের ব্লগ টার সাথে অনেকেই এক মত হবেন। আবার অনেকেই এই লেখাটার বিরোধিতা করবেন। কিন্তু আমি সংসারের কোন কোন গৃহবধূর জীবনের কাহিনী তুলে ধরেছি। সকলের নয়।


আজকের ব্লগ টা এত টুকুই। এখন বাজে ঘড়িতে দুপুর 12: 20. বাইরে ঝমঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে। অনেক খন এখানে অবসর যাপন করলাম। এবার ফিরতে হবে আপন কাজে। আজ তবে আসি। ফিরব নতুন কোন ব্লগে, নতুন অনুভূতি দের নিয়ে। 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ