আচ্ছা আমার সাথেই সবসময় কেন খারাপটা হয় বলুন তো? আমি তো কারো সাতেপাঁচে থাকি না। সংসারের কাজ করি, নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি। ছেলের পড়াশোনা দেখাশোনা করি এইসব নিয়েই আমার দিন কেটে যায়। আর অবসর বলতে এই ব্লগেই লেখালিখি করে সময়টা কেটে যায়। আজ আমি ব্লগটা লিখতে বসলাম যে কিপ্যাডটা ব্যবহার করে লিখি সেটা অটোমেটিক উধাও হয়ে গেল লিখতে লিখতে। কিছুতেই পারছি না ফিরিয়ে আনতে। এখন যেটা থেকে টাইপিং করছি সেটায় আমি অভ্যস্ত নয়। তাছাড়া এতে বাংলার যুক্তাক্ষর গুলো ঠিকঠাক আসে না। ফলে বানান ভুল হওয়ার আশঙ্কাও প্রচুর।
এগুলোকে আমার ভাগ্যের দোষ দেব না তো কি বলবো বলুন তো? মানে ব্লগ লেখাটা খুব ইম্পর্টেন্ট। একটা নেশার মতো। এমন সময় লেখার মাঝেই যদি এই এক্সিডেন্টটা হয় কেমন লাগে? টানা একঘণ্টা চেষ্টা করলাম তবু ওই কিপ্যাডটা আনতে পারলাম না। বরমশাই গেছেন অফিসে। লাঞ্চ টাইমে ব্যাপারটা বললাম। তাও আবার ভয়ে ভয়ে। কারণ এই অঘটনটা আমি আগেও কয়েকবার ঘটিয়েছি। সুতরাং আবার সেই একই ভুল জানতে পারলে কত কথাই না শোনাবে।
তবু ভরসা করে বলেই ফেললাম। যদি দূর থেকেই কোনো সমাধান দিতে পারে। ফলস্বরূপ আমায় অল্প একটু হেল্প করেছেন আর বিস্তর কথা শুনিয়েছেন। তবু কাজটা হয় নি। রাতে বাড়ি এসে ঠিক করে দেবেন। ততক্ষণ তো আমি লেখা ছাড়া থাকতে পারব না। তাই এই অ্যাপটা ব্যবহার করছি।
আজ কোনও পারিপার্শ্বিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে গল্পকারে লিখলাম না। কারণ লিখতেও দেরি হতে পারে আবার বানান ও ভুল হবে। সুতরাং একটু আড্ডা দেয়া যাক। আচ্ছা আপনারা আমায় কমেন্ট করে জানাবেন, আমার লেখা গুলো আপনাদের কেমন লাগে?
আমার গল্প গুলো কিন্তু আপনারা দৈনন্দিন জীবনের ঘটনা হিসাবেই দেখবেন। ওগুলোকে কেবল একটা গল্পে রূপান্তর করা মাত্র। সাহিত্যক বিচারে পড়বেন না। ভাববেন, আমি আপনার পাশের বাড়ির একজন প্রতিবেশী। প্রতিদিন আড্ডা দিতে আসি। গল্প করতে আসি। আর নিজের জীবনের সুখ দুঃখ ভাগ করে নিই আপনাদের সাথে।
আমার লেখা আপনারা কেউ আদেও পড়েন কিনা আমি তাও বুঝতে পারি না। কারণ কমেন্ট একটাও পাই না। তবু লিখি। আমার বিশ্বাস একদিন না একদিন ঠিক আমার মনের কথা গুলো আপনাদের কাছে গুগল ঠিকই পৌঁছে দেবে।
আজকে একটা মজার ঘটনার কথা বলি। ব্যাপারটা আমিই ঘটিয়েছি।
বাড়িতে পনির থাকলে আমি সাধারণত দুধ পনির রেসিপিটা করি। জানি এটা ফাঁকিবাজি রান্না। আর খেতেও দারুণ হয়। প্রতি সপ্তাহে একদিন এই রেসিপিটা আমাদের বাড়িতে হবেই। এবার আগের সপ্তাহে আমার ইচ্ছে হলো চিলি পনির রান্না করার। মনে মনে ভাবলাম সব কিছু উপকারণই আছে। শুধু ক্যাপসিকাম
টা আনলেই হয়ে যাবে। সেইমতো বর মশাইকে হুকুম দিলাম বাজার যাওয়ার সময় মনে করে ক্যাপসিকাম আনবে। বর মশাইও সোনা ছেলে হয়ে আমার কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করলেন। বাজার থেকে চলে এল উজ্জ্বল সবুজ বর্ণের ক্যাপসিকাম।
আমিও আগের দিন রাতের বেলা মন থেকে তৈরি হয়ে থাকলাম পরদিন সকালেই রেসিপিটা করে দেব। অফিস নিয়ে যাবে। চিলি পনির আর এমন কি ব্যাপার। ও ঠিক করে ফেলব। এই ভেবে নিশ্চিন্তে রাতে ঘুমিয়ে পড়লাম। অনেকদিন এই রেসিপিটা করি নি। এদিকে কি করে করতে হয় পুরো নিখুঁত পদ্ধতিটা ভুলেই গেছি। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই কেমন যেন একটা মনে খটকা লাগলো। ইউটিউব খুলে সার্চ করলাম " চিলি পনির রেসিপি"। রেসিপি দেখেই আমার মাথায় হাত।
আরে, কর্নফ্লাওয়ার লাগবে, চিনি লাগবে এগুলো তো আমার কাছে নেই। বরমশাই মাসকাবারি বাজারে চিনি আনেই না। স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো নয় সেজন্য। তার পরিবর্তে জাগেরি পাওডার আনে। আর কর্নফ্লাওয়ারও আনা থাকে না। সঙ্গে সঙ্গে সার্চ করলাম কর্নফ্লাওয়ার এর বদলে কি দেওয়া যাবে। উত্তর দিল জেমিনি ময়দা দেওয়া যেতে পারে বলছে।
ময়দাও আমাদের বাড়িতে আনা হয় না। অস্বাস্থ্যকর বলে। তাহলে উপায়?
এবার আর কোনো ইউটিউব, চ্যাট জিপিটি নয়। আমার নিজের ব্রেণ টাকে পরিশ্রম করানোর সুযোগ দিলাম। ও বলল, ঘরে তো ওটসের গুঁড়ো আছে। ওটাই কর্নফ্লাওয়ার এর পরিবর্তে ব্যবহার করে দেখা যেতে পারে। আর চিনি বদলে জাগেড়ি পাওডারই ভরসা।
যা হবে দেখা যাবে। বাড়ির অতিথির জন্য তো রান্নাটা হচ্ছে না। বাড়ির সবাইতো খাবো। ভালো হোক, খারাপ হোক অসুবিধা নেই। এইভেবে বুকে একরাশ সাহস সঞ্চয় করে কিচেনে গেলাম।
পনির গুলোকে নুন, হলুদ আদা রসুন পেস্টে ম্যারিনেট করে ওপর দিয়ে কর্নফ্লাওয়ার এর বদলে ওটসের গুঁড়ো দিলাম। কোটিং হিসাবে। এবার এইগুলো একটু ফ্রাই করার পালা। এই প্রথম পনির ওটোসের কোটিং এ মুড়ে ফ্রাই হলো। ভারতীয় খাবারের মেনুতে এই রান্নাটাও যুক্ত হয়ে গেল তাহলে আমার কল্যাণে।
ঠিকঠাকই হলো এই পর্যায়ে ফ্রাই করার ব্যাপারটা। তারপর রসুন ভেজে পেঁয়াজ ক্যাপসিকাম দিয়ে হালকা ভেজে টমেটো সস, চিলি সস, সোয়া সস দিলাম একটু আদা বাটাও দিলাম। হলুদ গুঁড়ো, লঙ্কা গুঁড়ো, গোলমরিচ গুঁড়ো দিলাম। একটু কষিয়ে নিয়ে তিনটে সসের মিকস দিয়ে আবার একটু রান্না করলাম। দুই মিনিট মতো।
এবার আবার এক্সপেরিমেন্ট এর পালা। কর্নফ্লাওয়ার দিয়ে যেখানে গ্রেভিটাকে ঘন করা হয়, সেটার বদলে আমায় দিতে হবে আবার ওটস এর গুঁড়ো। সুতরাং সবজি কষানো হয়ে গেলে অল্প জল দিয়ে একটু ফোটালাম। তারপর পনির গুলো দিয়ে দিলাম। তারপর একটা বাটিতে দুই চামচ ওটস গুঁড়ো দিয়ে ভালো ভাবে গুলে নিলাম। এবার ফুটন্ত জলে ওটস এর গোলা দিয়ে দিলাম।
নামাবার আগে জাগেরি পাওডার দিয়ে একটু গরম মশলা ছিটিয়ে ঢাকা দিয়ে রেখে দিলাম। গ্যাস বন্ধ করে।
বিশ্বাস করুন, বুক ঠুকে বলছি অসাধারণ হয়েছিল এর টেস্ট। ওটসটা পুরোপুরি কর্নফ্লাওয়ার এর কাজ করেছে। আর রেসিপিটা অনেকবেশি স্বাস্থ্যকরও হলো। কিন্তু খেয়েছি রুটি দিয়ে। লুচি,পরোটা ও খুব কম হয়। আমরা তেলের জিনিস খুব কম খাই।
আপনারাও একবার এইভাবে ট্রাই করে দেখতে পারেন। আশা করি খারাপ লাগবে না।
আজকের ব্লগটা তবে এতটুকুই। আবার আসবো আগামী কাল। আপনারা ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন।
0 মন্তব্যসমূহ