ব্যর্থতা, পরিশ্রম, ধৈয্য - যার পরিণাম সফলতা : এটাই ঈশ্বরের ইচ্ছা।

 নমস্কার বন্ধুরা,

byarthota-porisrom-dhoijjo-er-porinam-sofolota

( ছবি : AI generated)


সকলে কেমন আছেন? আশা করছি খুব ভালো আছেন। আমি ও বেশ ভালো আছি। এখন ঘড়িতে বাজে ঠিক দুপুর 2টো 47 মিনিট। আমি আমার পোস্টে টাইম টা মাঝে মাঝেই দিয়ে থাকি। কারণ যিনি আমার ব্লগ টা পড়বেন তিনি যাতে এই লেখাটার সাথে আরো বেশি ঘনিষ্ঠ হতে পারেন। তাছাড়াও আমি নিজেও যখন ভবিষ্যতে এই ব্লগ টা দেখবো, মনে পড়ে যাবে কোন এক দুপুরে আমার অবসর সময় হয়েছিল। এবং আমি লিখতে বসেছিলাম।


যাই হোক, আজকে মন টা আমার একটু অন্যরকম এর অনুভূত হচ্ছে। জানেন তো, সময় পেরিয়ে যাচ্ছে,  বয়স বাড়ছে। তার সাথে বাড়ছে নিজের মনের গ্লানি। জীবনে যা কিছু ভুল করেছি, কৈশোরে, যৌবনে যে ভাবে হেলায় সময় নষ্ট করেছি তা নিয়ে সত্যিই আজ আফসোস হয়।


মা, বাবা বলতেন , এই বয়স টা পড়াশোনা করার সময়। এখন ফাঁকি দিলে সারাজীবন টাই ফাঁকি রয়ে যাবে। খুব ধ্রুব সত্য কথা। আমি জানি আমার ব্লগ টা যারা পড়ছেন , তারা অনেকেই এখন নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত। কারণ সেইসময় টা কাজে লাগিয়েছেন।


কিন্তু বিশ্বাস করুন , ফাঁকি বলতে সেইসময় গুলো আমি গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরি নি। সময় একটু হলেও দিয়েছি। মনোযোগ দিয়েছি। কিন্তু আশানুরূপ ফল কখনো পাই নি। তাই , আজ যারা প্রতিষ্ঠিত তাদের দেখে মনে হয় তারা নিশ্চই আমার চেয়েও বেশি পরিশ্রম করেছেন।


 একটা সময়ের পর এই সময় টায় এসে খুব ইচ্ছা করে যদি নিজে একটা কিছু করতে পারতাম। কিন্তু আমার সত্যিই কোন উপায় নেই। সংসার মানে একদম পুরোপুরি সংসার এর হাল আমার ওপর। টাইম ম্যানেজমেন্ট করেও হয় না। চাষ বাস থাকলে সংসারেও অতিরিক্ত চাপ পরে। তাছাড়া ছেলের কোন টিউশন নেই। আমিই ওকে পড়াই।


তবে একটা কথা সবসময় মানি শিক্ষাই হলো নারীর একমাত্র পথ যার মাধ্যমে সে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। তাই আমার ব্লগ যদি ছোটরা কেউ দেখেন , তাদের বলছি পড়াশোনা তখুব ভালো করে করবে। সাথে এখনকার যুগে চলতে গেলে স্কিল শেখাটা খুব জরুরি। 


ব্যর্থতায় সেইসময় ভেঙে পরেছি। আমার দ্বারা হবে না, এইভাবে পিছিয়ে গেছি। কিন্তু আমার ভুল হয়েছে। এখন বুঝতে পারি, ব্যর্থতা আসে সফলতার ভিত স্হাপন করতে। তাই জীবনে যতবার মুখ থুবড়ে পড়বে ততবার উঠে দাঁড়াবে। 


ঈশ্বর মঙ্গলময়। এটা ওনার ই ইচ্ছা। উনি দেখছেন ব্যর্থতায় হেরে ফিরে যান নাকি দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করেন। ঈশ্বর তো সবাইকে সব কিছু দেন না। যিনি যোগ্য তাকেই দেন। ঈশ্বর যাকে দু হাত ভরে দেন, তাকেই কঠিন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। কষ্ট সহ্য করে, পরিশ্রম করে সেই জায়গাটা ধরে রাখতে পারেন যদি, দেখবেন ঈশ্বর একদিন আপনাকে এত কিছু দিয়েছেন আপনার চাহিদার ও অনেক বেশি। যা আপনি কল্পনা ও করতে পারেন নি।


আমার বেসিক্যালি কোন স্কিল শেখা নেই। শুধু পড়াশোনা টাই করেছি। আজকাল স্কিল ছাড়া এগোনো খুব মুশকিল। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের পছন্দমত স্কিল গুলো প্রত্যেকের  শিখে নেওয়া উচিত। শেখায় কোন ছোট, বড় হিসাব রাখতে নেই। যখন যে সুযোগ পাচ্ছেন , সেটাই ভগবানের দেখানো রাস্তা ভেবে এগিয়ে যাওয়া উচিত।


আমি ছোট থেকেই ডায়েরি লিখি। একদম ছোট থেকেই। আমার পরিবারের কাউকে কোনদিনও আমি ডায়েরি লিখতে দেখি নি। কিন্তু আমার এই অভ্যাস টা আমি মনে করি ভগবানের দেওয়া দান। আর আমি যে ডায়েরি লিখি আমার বাবার বাড়ির এতদিনেও কেউ কিছুই জানেন না।


ছোটবেলায় বই খুলে রেখে তার নিচে ডায়রি খুলে নিজের মনের কথা গুলো লিখতাম। লেখা হয়ে গেলে যখন নেশা কাটতো তারপর আবার পড়াশোনা করতাম। মা, বাবার অলক্ষ্যেই করতাম এটা। এটা আমার নেশাই।আজ ও ছাড়তে পারি নি। 


আমি শুধু এই ব্লগ সাইটেই লিখি না। ডায়েরি তেও লিখি। তারপর আজ থেকে সাড়ে ছয় বছর আগে জানতে পারলাম ব্লগ সাইট ওপেন করে এতেও লেখা যায়। তাই আমার স্বামী আমায় এই ব্লগ সাইট টি খুলে দেন। সেই থেকে আজ ও লিখি। 


কিন্তু প্রতিদিন নিয়ম করে ব্লগে লেখা হত না। এখন লিখি। ভগবান যদি চান, এভাবেও আমায় সফল করাতে পারেন। এই ডায়েরি লেখার অভ্যাস তো ভগবানের আমায় দেওয়া ভগবানের আশীর্বাদ। আমার এত টুকুই যোগ্যতা। আর এটা নিয়েই আমি এগিয়ে যেতে চাই।


আপনাদের বলছি যারা এখনো জীবনে সফল হতে পারেন নি, তারা কিন্তু হাল ছাড়বেন না। আপনিই হলেন সেই জন যাকে ভগবান লোহার মত পিটিয়ে , পুড়িয়ে খাঁটি করতে চান। তাই জীবনে ব্যর্থতা আসে অনেক সময়। সুখের ঘুম উড়িয়ে দিন রাত পরিশ্রম করুন। ভগবান ঠিক আপনাকে আপনার পরিশ্রমের দান দেবেই দেবেন।


একটা কথা মনে রাখবেন, ভগবান সবসময় যোগ্য মানুষ দেরই এই জগৎ সংসারে পরীক্ষা নেন। সবাইকে নয়। এটা ঈশ্বরের দান ভেবে একটু কষ্ট করো। বাকি জীবনটা দেখবেন সুখে কাটাবেন।


নিজে কিছু না করেও এত এত জ্ঞান দিলাম কারণ, আমি সঠিক সময়ে অনেক কিছুই করি নি। তাই জীবনে পিছিয়ে পরেছি। আপনারা যারা আমার থেকে বয়সে  ছোট তারা যাতে সময় এর মর্ম বোঝে, সুযোগের সৎ ব্যবহার করে তার জন্য আজকের ব্লগটা।


সব শেষে বলি নিজের কাজে অবিচল থাকুন। সমালোচনা থেকে বিরত থাকুন। দেখবেন আপনার কর্মই আপনাকে একদিন সফলতা এনে দেবে। ঈশ্বর করুণাময়। শুধু ওনার ওপর একটু ভরসা, বিশ্বাস রাখুন। তাহলেই আপনি জীবন যুদ্ধে জয়ী হবেন। 

 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ