( হর হর মহাদেব, ওঁ নমো শিবায়)
( এনাকেই আমি আগের বছর পেয়েছি। স্বয়ং মহাদেব আমার ঘর আলো করে এসেছেন। আমার ঘরের মালিক। )
আজকের ব্লগটা একটু ভিন্ন। আমার কিছু ব্যক্তিগত আনন্দ, খুশি, আবার দুঃখ বেদনা র গল্প রয়েছে আজকের পোস্ট এ। একই পোস্ট এ এত রকম অনুভূতি র ডালি সাজিয়ে আমার এই ব্লগ টা সেজে উঠবে।
আমি যখন এই ব্লগটা লিখতে বসেছি তখন সময়টা হলো রাত 9: 24 মিনিট। এখন ছেলেকে অবশ্য পড়াচ্ছি। পড়াশোনা প্রায় শেষের দিকে। তবু পড়ানো শেষ হওয়ার আগেই লিখতে বসলাম। শখের বসে লিখি। নিজের অনুভূতি গুলো যতক্ষণ না এখানে লিপিবদ্ধ করি ততক্ষণ মনটা উসখুস করে।
চলে আসি, মূল ঘটনায় :
আজকের দিনটা হলো শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার। তাহলে, আজকে তো অবশ্যই একটি সুন্দর দিন। কি তাই তো? ঠিক ধরেছেন। আজ মহাদেব এর জন্মদিন এবং জন্মমাস। আজকের দিনটা আমার কাছে খুবই স্মরণীয়।
আমার স্মৃতিতে একটি অলৌকিক ঘটনা :
আমি তো আগেও বলেছি আমার গ্রামে বিয়ে হয়েছে। এখানে সবাই এর চাষ বাসই মূল জীবিকা। তাছাড়া যারা চাকরি, বা অন্য ব্যবসার সাথেও জড়িত তাদের ও অল্প পরিমাণ হলেও জমি আছে। চাষযোগ্য জমি। এটা হলো এখনকার মানুষ দের একটা প্রকৃতি।
সেই সূত্রে আমার স্বামী প্রাইভেট এ চাকরি করলেও আমাদের ও অল্প পরিমাণে জমি আছে। সেই সূত্রেই আগের বছর শ্রাবণ মাসের সময় আমার শ্বশুর মশাই মাঠে গিয়েছিলেন। নিয়মিত যেমন গিয়ে থাকেন। চাষ বাস দেখাশোনার জন্য। মাঠ থেকে ফিরে আসেন একটা পাথর এর মত মহাদেব এর অবয়ব নিয়ে।
এবং আমায় বলেন শ্বশুর মশাই, জমি দেখতে গিয়ে এনাকে পেলাম। মাঠে ছিল। দেখে মনে হলো স্বয়ং মহাদেব সামনে দাঁড়িয়ে আছে ( পাথর টিকে দেখে। যদিও ওটিকে আর আমরা পাথর মানি না । ভগবান রূপে পূজা করি)।
তখন ছিল শ্রাবণ মাস। আমার ও মনে হলো স্বয়ং মহাদেব ই আমার শশুর মশাই এর হাত ধরে আমার ঘরে এলেন। সেদিন ছিল বুধ বার। আমি নিষ্ঠা ভরে সেদিনই ওনাকে আমার পুজোর সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত করি। আমার মনে আছে সেদিন আমার যত টুকু উপায় ছিল তা দিয়েই ভগবান কে আমার ঘরে সাজিয়ে ছিলাম। ওই আকন্দ ফুল, অপরাজিতা, গঙ্গাজল, দুধ সহযোগে।
বেল পাতা তখন ঐ দুপুর বেলা পাই নি সেদিন। সেইদিন থেকেই উনি আমার ঘরের মালিক। ওনাকে আগের বছর শিবরাত্রির দিন একটা রুপোর বেলপাতা নিবেদন করেছিলাম । ইচ্ছা ছিল নিজে যেদিন রোজগার করবো প্রথম উপার্জনের টাকায় করে দেব। কিন্তু আমার আর মন তরসোয়ে নি। বর এর পকেট মারের টাকাতেই কিনেছি।
সকলে আমায় খারাপ ভাববে জানি। কিন্তু কোন উপায় ছিল না। আমি আদেও কোন দিন এই ব্লগ লিখে উপার্জন করতে পারবো কি জানি না। আর উপার্জনের এটাই আমার একমাত্র পথ। যাই হোক , জানি মহাদেব কোন রকম আরোম্ভর পছন্দ করেন না । কিন্তু আমরা নিজেরা সাজি। আর আমার ঘরের মালিক কে সাজাবো না? তাই আর কি...
আর এই শ্রাবণ মাসে অর্থাৎ আজকে মহাদেবকে আমি একটা রুপোর ত্রিশূল ও ডুগডুগি দিয়েছি। ত্রিশূল এর সাথেই ডুগডুগি টা আছে। এটাও আমি টাকা জমিয়ে কিনেছি। অর্থাৎ এবারে জামাই ষষ্ঠীর সময় মা আমায় উপহার স্বরূপ হাজার টাকা দিয়েছিলেন শাড়ি কেনার জন্য। ওটা দিয়েই কিনেছি।
গত রবিবার দোকানে গিয়ে কিনে এনেছি। আমি আমার ঘরের মালিক কে খুব ভক্তি করি। ওনাকে আজ দুধ, দই, ঘি দিয়ে স্নান করিয়েছি। সামান্য কিছু আয়োজন করেছিলাম। আমার ঘরের রাজার ছবি দিলাম। দেখুন আমার ঘরের রাজা ( আমার মহাদেব) কে কেমন লাগছে?
আমার সবচেয়ে আনন্দের ও খুশির দিন আজ। আমি আমার মহাদেব কে ত্রিশূল নিবেদন করতে পেরেছি। আমি যদি রোজগার করতে পারি আমার মহাদেবকে ভবিষ্যতে আরো সুন্দর করে সাজাবো।
কিন্তু দুঃখের বিষয় আমি মহাদেবকে আমার টাকায় সাজাতে পারি নি। এটা আমার ব্যর্থতা। আমার পরাজয়। তবু কি করবো? মন যে মানে না। তাই এভাবেই কিনতে হলো।
তাই আজকের দিনটা একদিকে যেমন আমার আনন্দের। তেমন আবার দুঃখের ও। পরের বছর যেন মহাদেব আমায় সেই ক্ষমতা দেন এই প্রার্থনা করি ।
আমার মহাদেব, আমার ঈশ্বর, আমার রাজা, আমার ঘরের মালিক, আমার সব কিছু উনি। ওনাকে আমি পেয়েছি প্রকৃতির মাঝে। উনি আমার ঘরে নিজে এসেছেন। ওনাকে আমি আজীবন আমার মাথায় করে রাখবো।
একেই বলে প্রকৃত ভালোবাসা :
ওহ ! আরো একটা স্মরণীয় ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে ভুলে যাচ্ছিলাম। ত্রিশূল টা কেনার পর বর মশাই একটা আমায় রুপোর পলার আংটি কিনে দিয়েছে। ছবি দিলাম। কেমন লাগছে জানাবেন। দাম নিয়েছে 400 টাকা। উপহার যত টুকুই হোক, এতে আছে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। তাই এই ভালোবাসা যেন আমার আঙ্গুল এ জানান দিচ্ছে তাই না?
(আংটি টা রুপোর। কেমন হয়েছে জানাবেন।)
আজকের ব্লগটা তবে এত টুকুই। আপনারা শ্রাবণ মাসের সোমবার কিভাবে পালন করেন আমায় জানাতে ভুলবেন না। আজ তবে আসি। বাকি অনুভূতি নিয়ে ফিরবো আবার নতুন পোস্টে। হর হর মহাদেব। ওঁ নমো শিবায়।
সমাপ্ত



0 মন্তব্যসমূহ