আমরা চলার পথে অনেকবার হোঁচট খাই। অসাবধানতাবশত পরে যাই। আহত হই। কিন্তু এক্সিডেন্ট টা হয়ে যাওয়ার পরই আমাদের মনে প্রথম আশঙ্কা জাগে বড় সড় চোট লাগে নি তো? হাঁটতে পারবো তো! কারণ আমরা চাই সারাজীবন নিজের পায়ে হাঁটতে। কারো অবলম্বন ছাড়াই চলাফেরা করতে। ঠিক আমাদের জীবনটাও এইরকম। বেঁচে থাকার জন্য আমাদের প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়। ব্যর্থতা আসলেও ভেঙে পড়লে হয় না। একবার অসফল হলেও ব্যর্থতা থেকে শিখে আবার ঘুরে দাঁড়াতে হয়। আর যে এই ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস দেখায়, পরিশ্রম করে, ধৈয্য ধরে, নিজের প্রতি নিজের বিশ্বাস রাখে সেই সফল হয়। জয়ী হয়। স্বয়ং উপরওয়ালা ও তার সাথে থাকে।
আমরা হেরে গেলে খুব সহজেই ভেঙে পরি। ব্যর্থতা আমাদের গ্রাস করে। মনে হয় আর ফিরে যাব না। যে পথ আমার জন্য নয়। কিন্তু এটা ভাবা উচিত এই ব্যর্থতা হলো উপরওয়ালার পরীক্ষা। তুমি কতটা নিরেট, শক্তিশালী সেটা তোমার মধ্যে থেকে টেনে বের করার জন্য ও উনি এই পরীক্ষা টা নিচ্ছেন। তুমি যদি ব্যর্থতায় পিছু ফিরে যাও উপরওয়ালাও তোমার সাথে থাকবে না। কিন্তু তুমি যদি ব্যর্থতার শেষ দেখে ছাড়ো অর্থাৎ আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে লড়ার ক্ষমতা রাখো দেখবে তুমি ঠিক জিতে গেছো।
অনেক বিজ্ঞানী আছেন , তারা দিনের পর দিন বছরের পর বছর ব্যর্থ হতে হতেই আশ্চর্য জিনিস আবিস্কার করেছেন। একদিনেই হয়ে যায় নি। তারা ব্যর্থ হয়ে সেই রাস্তা থেকে সরে আসে নি। আবার বেশি করে গবেষণা করে, কাজ করে, পরিশ্রম করে সফল হয়েছেন। সূতরাং জীবনের একটা পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া মানেই জীবন ওখানে থেমে যাবে তা নয়। জীবন মানেই যুদ্ধ। তাই প্রতি নিয়ত ই আমাদের লড়তে হবে। আর যে লড়তে লড়তে ব্যর্থ হতে হতে নিজের পথ নিজেই বানিয়ে নেয় সে কখনোই লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয় না।
আমাদের সকলের মধ্যেই সেরা হওয়ার প্রতিভা আছে। কিন্তু আমরা সেটা কে কাজে লাগাতে পারি না। যে বিষয় টা তোমার কঠিন লাগবে সেটা তেই বেশি জোর দিতে হবে। অনুশীলন করতে করতে সেটাই একদিন তোমার প্রিয় বিষয় হয়ে যাবে তোমার ই অজান্তে। অর্থাৎ যদি তুমি সফল হতে চাও তাহলে তোমার পথ তোমায় নিজে কেই বেছে নিতে হবে। কারো দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, শিখে তোমার রাস্তাটা তোমায় নিজেকেই খুঁজে নিতে হবে। আর যে অসীম ধৈয্য নিয়ে এগিয়ে যায় সেই তো জয়ী।
ব্যক্তিগত ভাবে বলতে গেলে আমি অনেক কিছুই পারি না। এই বয়সে সব কিছু শেখার সময় হয়ে ওঠে না। তবে আমার ছেলেকে আমি এই মন্ত্রেই বড় করতে চাই। পরিশ্রম, ধৈয্য , অধ্যাবসায় কখনো বিফলে যায় না। আজ না হয় কাল ও ঠিকই নিজের লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে। যে লড়তে জানে, ব্যর্থ হতে হতেও আবার উঠে দাঁড়াতে জানে, তাকে প্রকৃতিও সাথ দেয়। মহাবিশ্ব তাকে নিরাশ করে না।
আমি ব্লগ লিখছি ছয় বছর হলো। মনের স্বাদে লিখি। মনের কথা লিখি। ছোট ছোট উপলব্ধি গুলো লিপিবদ্ধ করি। এগুলো বাইরে লোকের কাছে বললে ওরা বলবে জ্ঞান দিছি। সুতরাং কি দরকার! আমার ব্লগ সাইট আছে। দিন শেষে আমার মনের কথা এখানেই লিখে রাখবো। যদি কারো ব্লগ টা হেল্প ফুল মনে হয় পড়বে। এখান থেকেই সে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। আমার অলক্ষ্যে আমার ব্লগের মাধ্যমে যদি কাউকে এইভাবে আবার উঠে দাঁড় করাতে পারি, এটাই আমার প্রাপ্তি।
সব শেষে আবারও বলবো যে নিজের পথ নিজে বানায় সেই এগিয়ে যায়। চলার পথে কাঁটা তো থাকবেই। এই মহান পৃথিবীতে আমাদের সৃষ্টি হয়েছে মনুষ্য রূপে। আমরাই শ্রেষ্ঠ প্রাণী হিসাবে বিবেচিত। কিন্তু আমাদের চলার পথ টা ভগবান এতটাও নরম করে দেয় নি। যে কর্ম করবে সেই ফল পাবে। এই কথা গীতা তেও লেখা আছে । আর সৎ কর্ম করা আমাদের প্রত্যেকের উচিত। যে যেই ধর্মের ই হন কেন সেই সৃষ্টি কর্তার প্রার্থনা করা উচিত। এতে আমাদের শরীরে ও চারপাশে থাকা নেগেটিভিটি গুলো সরে যায়।
আজ এত টুকুই আবার আসব। নিজের কাছে নিজে এই শপথ নিয়ে আজ এখানেই লেখা সমাপ্ত করলাম।

0 মন্তব্যসমূহ