শিকড়ের টানে: ন-ঘণ্টার পথ পেরিয়ে স্মৃতির উঠোনে

 

Villege_shop

( Picture : Google collected)

​শিকড়ের টানে: ন-ঘণ্টার পথ পেরিয়ে স্মৃতির উঠোনে

​পার্থর সাথে বিয়ে হওয়ার পর চাকরির সুবাদে যখন কলকাতায় চলে গেলাম, তখন থেকেই কেমন যেন একটা চেনা বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়েছিলাম। আমি যেহেতু বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান, তাই ওদেরও কলকাতার ফ্ল্যাটেই নিজের কাছে নিয়ে এসেছিলাম। এর পর কেটে গেছে অনেকগুলো বছর। ব্যস্ততা আর নাগরিক জীবনের নিয়মে গ্রামের বাড়ির সাথে সম্পর্কটা কেমন যেন আলগা হয়ে আসছিল।


​কিন্তু মন তো আর মানে না! হঠাৎ করেই একদিন মনে হলো, এবার একটু ফেরা দরকার। সুযোগটাও মিলে গেল চমৎকার—পার্থর ছুটি, আর ছেলে আদ্রিতের সামার ভ্যাকেশন। কথা মতোই কাজ! ভোরবেলা কলকাতার ফ্ল্যাট থেকে আমরা গাড়ি নিয়ে রওনা হলাম আমাদের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে।



​থমকে যাওয়া বিকেল ও রবি কাকুর দোকান

​কলকাতা থেকে প্রায় ন-ঘণ্টার রাস্তা। ড্রাইভার যখন গাড়িটা নিয়ে গ্রামের মাটিতে পা রাখল, তখন ঘড়িতে দুপুর গড়িয়ে অপরাহ্ন বেলা। ঠিক তখনই হঠাৎ রাস্তার পাশে একটা চেনা দৃশ্য দেখে মনটা কেমন যেন থমকে গেল! আমি তক্ষুনি ড্রাইভারকে গাড়িটা থামাতে বললাম।

​সামনে তাকিয়ে দেখি ঠিক সেই চেনা দোকানটা—আমাদের রবি কাকুর চায়ের দোকান । এতগুলো বছরে মানুষগুলোর বয়স বেড়েছে, মুখের আদল কিছুটা বদলেছে, কিন্তু নিজের জন্মস্থানের চেনা মানুষদের চিনতে কি আর ভুল হয়? কলকাতার ঝাঁ-চকচকে এসি শপিং মলে যে কৃত্রিমতা আছে, এখানে তার কিচ্ছু নেই। এখানে আছে এক অদ্ভুত নির্ভেজাল আনন্দ। যেখানে এখনো মানুষ অপরাহ্ন বেলায় একসঙ্গে বসে, চা খেতে খেতে একে অপরের সুখ-দুঃখের গল্প ভাগ করে নেয়। কলকাতার যান্ত্রিকতার মাঝে এই আন্তরিকতাটুকু আমি বড্ড মিস করতাম। মনে হলো, সবটুকু নিঃশ্বাস দিয়ে গ্রামের এই স্নিগ্ধ পরিবেশটাকে নিজের ভেতর টেনে নিই। ইচ্ছা করছিল, সময়টা যদি এখানেই থমকে যেত!



​স্মৃতির কোলাজে ছেলেবেলা

​আমাদের সময় যে রাস্তাগুলো লাল মাটির ছিল, সেখানে এখন পিচ ঢালা রাস্তা হয়েছে। কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই আমি সেই পুরনো দিনগুলো দেখতে পাই। বর্ষাকালে যখন এক হাঁটু কাদা-জল হয়ে যেত, সেই জল ডিঙিয়েই আমরা স্কুলে যেতাম—তার মজাই ছিল আলাদা! আশ্বিন মাসে আলপথ দিয়ে হেঁটে যাওয়া, লুকোচুরি খেলা আর মাঠ মেতে ওঠা সেই কাশফুল তুলে আনার নস্টালজিয়া আজও তরতাজা। এমনকি আলু চাষের মরশুমে মাঠে মাঠে আলু কুড়াতে যাওয়ার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে আজ বড্ড একা লাগে। মনে পড়ে যায় ছেলেবেলার সেই হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের কথা।



​নতুন প্রজন্মের চোখে আমার গ্রাম

​সবচেয়ে ভালো লাগছিল আমার ছেলে আদ্রিতকে দেখে। ও এই প্রথমবার ওর  মামারবাড়িতে, অর্থাৎ আমার গ্রামে আসলো। চারিদিকের এই অবারিত সবুজে ঘেরা পরিবেশ, চোখের সামনে শান্ত পুকুর আর রাস্তার দুপাশে ধানের ক্ষেত দেখে ও তো ভীষণ উত্তেজিত! ওর এই আনন্দ দেখে মনের ভেতর একটা অদ্ভুত শান্তি পাচ্ছিলাম।

​গ্রামের মাটিতে পা দিয়ে চেনা গন্ধটা পেতেই মনটা চাইছে ছেলেবেলার বন্ধুদের সাথে একবার দেখা করতে। কয়েকজনের সাথে দেখা করার ভীষণ ইচ্ছা আছে। আপাতত এই স্মৃতির দোকানটায় বসে এক কাপ চা খাই।


( গল্পটা ভালো লাগলে জানাবেন। এটা আমার নিজের জীবনের গল্প নয়। বানানো। ছবিটা গুগল থেকে পেয়েছিলাম। ভালো লাগলো বেশ। তাই এইটা দিয়েই একটা গল্প লেখার চেষ্টা করলাম। ) 


আজ তবে এত টুকুই। আবার ফিরবো আগামী কাল। নতুন কোন লেখা নিয়ে।

#শিকরেরটানে

#নস্টালজিয়া

#গ্রামমজীবন

#বাঙালীলাইফস্টাইল

# শৈশব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ