( AI Generated picture)
আমি জীবনে এমন কিছুই হতে পারি নি যা নিয়ে গর্ব করতে পারি। সুতরাং আমার মনে কোন অহংকার নেই। কিন্তু আত্মসম্মান বোধ আছে অপরিসীম। সেজন্যই আমি অনেক কিছুতে এখনো পিছিয়ে। ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম এর মত সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ব্লগের লিংক গুলোও দিই না। কেমন যেন মনে বাঁধে। কাউকে ধরে বেঁধে বলতে পারি না আমার লেখা গুলো পড়ুন, লাইক , কমেন্ট করুন। শেয়ার করুন।
কিন্তু এখনকার দিনে সোসাল মিডিয়ারই নাকি রমরমা বেশি। গুগল সাইটে এসে এইরকম অনুভূতি প্রবণ লেখা কেউ পড়তে চায় না। আসলে মানুষ এখন ভীষণ ব্যস্ত।তাই 15/20 সেকেন্ড এর রিলস এই নিজেদের অবসর কাটাতে চায়। যাতে অল্পসময়ের মধ্যে অনেক কিছু বিনোদন একসাথে ভোগ করতে পারে। আর কিছু মানুষ যারা প্রকৃত সাহিত্য প্রেমী তারা তো গল্পের বই পড়েনই সাথে ফেসবুকে থাকা বিভিন্ন সাহিত্যধর্মী গ্রূপেও ছোট ছোট গল্প পড়েন।
তাই আমার মতো লেখা যারা লেখেন তাদের কদর নেই। তাছাড়া আমার মতো আদেও কেউ লেখেন কি না, মানে এই স্টাইলে আমার জানা নেই। মাঝে মাঝে ভাবি কি হয় এত এত লিখে, আবার ভাবি আমি তো শুধুই লাইক, কমেন্ট এর আশায় লিখি না। লিখিতো নিত্য দিনের ডায়েরি। নিজস্ব কিছু অনুভূতির কথা। এতকিছু নিয়ে কেন মাথা ঘামাবো। নিজের মনের স্বাদ পূরণ করে আবার ফিরে যাব নিজের কাজে। এটাই আমার মূল মন্ত্র হওয়া উচিত।
কিন্তু কখনো কখনো আশা জাগে আমার লেখা কি সত্যিই কেউ পড়ে? কেমন লাগে জানলে ভালো হয়। যাই হোক, আজকের দিনটা তো আমাদের সকল ভারতবাসীর কাছে একটি স্মরণীয় দিন। আজ 15 আগস্ট। আজকের দিনে আমার ভারত মাতা স্বাধীন হয়েছিল। আজকের দিনটা আমাদের কাছে সত্যিই স্পেশাল।
ছোট বেলায় মানে 90 দশকের সময়ের কথা বলছি। আজকের দিনে ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে পাড়ার সব কাকিমা দের বাড়ি থেকে ফুল চুরি করে নিয়ে আসতাম। তারপর সকাল সকাল স্নান সেরে ফুল নিয়ে স্কুলে যেতাম। সকলে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে হেড দিদিমনির পতাকা তোলা দেখতাম। পতাকাটা যখন দড়ি দিয়ে টান দিতে দিতে একদম উপরে উঠে যেত কত কত ফুল পড়তো। আমরা হাঁ করে ওপর দিকে চেয়ে থাকতাম।
পতাকা তোলার পর স্কুল থেকে 4 টে করে মেরি বিস্কুট, দুটো লজেন্স দেয়া হত। কখনো পাউরুটি, কেক ও দেওয়া হত। আমরা ভীষণ আনন্দ করে খেতাম। আজকের দিনে স্কুলে যেতে হবে অথচ পড়াশোনা নেই। এই ফিলিংসটাই একদম ভিন্ন। সেই জন্যই সকলের আরো যেতে ভালো লাগতো। তখন এত সোশ্যাল মিডিয়ার হিড়িক ছিল না। তাই ভুরি ভুরি ফটো তোলার ব্যাপারও ছিল না। যা দেখতাম, যা ঘটত এই দু চোখে দেখেই স্মৃতিতে গেঁথে রেখেছি। তার জন্য ফেসবুকে দিতে হয় নি টাইম লাইনে যাতে থেকে যায়। তখন তো এসবের অস্তিত্বই ছিল না।
এখনতো বাচ্চা থেকে বুড়ো সকলে অন লাইনেও পতাকা তুলছে। দেশাত্মবোধক গান, নাচ করছে। স্কুলের প্রোগ্রাম গুলোও দেখানো হচ্ছে। তবে এগুলো আমি নেতিবাচক দিক বলবো না। আমি শুধু সেকাল আর একাল এর স্বাধীনতা দিবসের দিনটার কথা এখন আলোচনা করলাম।
মানুষ নাকি স্মৃতিগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কিছু কিছু ছবি রেখে দেয় ফেসবুকে। বছরের পর বছর টাইমলাইনে থেকে যাবে। কিন্তু আমরা যারা 90 র ছেলে মেয়েরা আমাদের সময় তো তখন স্মার্ট ফোনের চলই ছিল না। তারও আগেকার মানুষগুলো জানতেন না মোবাইল ফোন কি জিনিস। তাহলে কি তারা ছোটবেলাকার স্মৃতি ভুলে গেছেন? একদমই নয়। বরং ছোটবেলার স্মৃতি গুলো তাদের ছবির মত মনে থাকে।
আগেকার মানুষ দের সাথে কিছুক্ষন গল্প করলেই বোঝা যায়। "আমাদের সময় / তখনকার দিনে" এই ভাবে তারা যে গুলো বলেন, দেখবেন কি নিখুঁত সে বর্ণনা, স্হান, কালের নির্ভুল প্রেক্ষাপট এঁকে কি সুন্দর কাহিনী গুলোর বিবরণ দেয়। তাঁদের কথা গুলো শুনে আমরাও যেন কল্পনায় সেই দিন গুলো , সেই মুহূর্ত গুলো চাক্ষুস দেখতে পাই। সেই স্মৃতি গুলো তাদের কোনদিন ও অন্তর থেকে মুছে যাবে না। ঠিক তেমন ই সোশ্যাল মিডিয়া না থাকলেও আমাদের স্মৃতি গুলোও আমরা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ঠিকই তুলে ধরতে পারতাম।
কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের কল্পনাশক্তিকে দিন দিন ভোঁতা করে দিচ্ছে । ai আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাকে পঙ্গু করে দিচ্ছে । হাতের কাছে সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় আমরা আর বিশেষ মাথা ঘামাতে চাইছি না। এগুলো কিন্তু আমাদের ভাবার দরকার। আমরা কিন্তু এগুলো এখন জেনেশুনেই মিস ইউস করছি। যেখানে একটু ব্রেনটা খাটালেই উত্তর পেয়ে যাব সেটা না করেই আগেই ai এর সাহায্য নিচ্ছি। এগুলো যেমন প্রযুক্তির উন্নতি আবার মানুষের একদিক থেকে অবনতিও বটে । আসলে আমরা মানুষরা কোন কিছুর ভালো দিকটার চেয়ে খারাপ দিকটাই আগে গ্রহণ করি।
আমিও করি। মিস ইউস করি তো সোশ্যাল মিডিয়ার। নিজেও একই দোষের ভাগিদার বলেই এই কথা গুলো লিখতে পারছি। 5 মিনিট ফোনটা দেখবো ভেবে বসলে 15 মিনিট কোথা দিয়ে যে কেটে যায় বুঝতে পারি না। এদিকে আমার অঢেল কাজ। আর এসবের চক্করে আমি কাজের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারি না। নিজের যত্ন নেয়ার সময় পাই না। একটু গল্পের বই নিয়ে পাতা উল্টাতেও সময় পাইনা।
আমরা ভীষণ ভাবে সোশ্যাল মিডিয়া, ai এর উপর দিনদিন নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। আমাদের উচিত এগুলোর ব্যবহার কম করা। এবং এগুলোর ইতিবাচক দিক গুলো, গুণগুলো গ্রহণ করা। যাই হোক আমার সাইটের লেখা গুলো আমি ফেসবুক পেজে দিই না। এইসব লেখা ওখানে পাত্তাও পাবে কম। মানুষ এখন ট্রেন্ডিং লেখা পড়তেই ব্যস্ত। একজন সাধারণ গৃহবধূর আবেগী লেখা পড়ার তাদের সময় কোথায়।
আমি রিলস দেখি ফেসবুকে, কিছু কিছু অনুপ্রেরণামূলক লেখাও পড়ি বেশ ভালো লাগে। কিন্তু আমার এই সাইটে যেমন লেখা পোস্ট করি , ফেসবুকে সেঐরকম লেখা পোস্ট করতে পারি না। আমার ইচ্ছে হয় না। কেন জানি না।
আমি এখানেই আমার নিজস্বতা নিয়ে ভালো আছি। শান্তিতে লিখে যাই। কেউ কিছু বলার নেই। কোন পজিটিভ , নেগেটিভ কমেন্টের চাপ নেই। নির্ভিগ্নে লেখা যায়। আমি এখানেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করি। আজকের ব্লগটা তবে এত টুকুই। আবার ফিরবো আগামী কাল নতুন ব্লগের লেখা নিয়ে। সকলে ভালো থাকবেন।

0 মন্তব্যসমূহ