সকালের ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’ এবং আমার কিছু চেনা অস্ত্র

 

Daily-dish-wash-blog


​আমাদের একেক জনের সকাল একেক রকম ভাবে শুরু হয়। কারো শুরু হয় এক কাপ গরম চা আর খবরের কাগজ দিয়ে, কারো বা মর্নিং ওয়াক দিয়ে। আর আমার? আমার সকালটা ঠিক ভোর ৬টায় শুরু হয় এই রান্নাঘরের চার দেওয়ালের মাঝে।


​রান্নাঘরে পা রাখতেই যখন বাসনপত্রগুলোর টুংটাঙ আওয়াজ হয়, তখন সেগুলোকে আমার আর সাধারণ বাসন মনে হয় না। মনে হয় ওগুলো আমার একেকটা 'অস্ত্র', যা নিয়ে আমাকে প্রতিদিন জীবনের একটা নতুন যুদ্ধে নামতে হয়। আর এই যুদ্ধটা কিন্তু কোনো সাধারণ যুদ্ধ নয়, ঘড়ির কাঁটার সাথে টিকে থাকার এক চরম 'ঠান্ডা যুদ্ধ'! সময় মাত্র দেড় ঘণ্টা, কিন্তু দায়িত্ব আকাশছোঁয়া।


​কারণ ঠিক সকাল ৮টায় আমার স্বামীর অফিসের গাড়ি ধরার তাড়া, আর ৯টার মধ্যে ছেলের স্কুলের বাস। এই দেড় ঘণ্টার মধ্যে হাতা, খুন্তি, কড়াই, বেলন-চাকতি আর টিফিন বক্সের মতো অস্ত্রগুলো নিয়ে আমাকে অনবরত এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াতে হয়। একহাতে কড়াইয়ে তরকারি নাড়তে নাড়তেই মনে পড়ে যায় ছেলের কথা। আগের রাতে ওর যে ওয়ার্কশিটগুলো রেডি করে রেখেছিলাম, সকাল সকাল ও সেগুলো ঠিকঠাক করছে কি না, তা রান্না করতে করতেই মাঝে মাঝে গিয়ে চেক করে আসতে হয়। আবার এর মাঝেই স্বামীকে ঘুম থেকে ডেকে তোলার দায়িত্বটাও আমার। এরই মধ্যে আবার ঠাকুরের পুজোটাও সেরে নিতে হয়। সব মিলিয়ে সকালের এই দেড়টা ঘণ্টা যেন এক চরম ব্যস্ততার ঘূর্ণিপাক!



​অবশেষে ওরা যখন যার যার গন্তব্যে চলে যায়—একজন অফিসে আর একজন স্কুলে, তখন বাড়িটা হঠাৎ শান্ত হয়ে আসে। আর ঠিক তখনই রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসে এই এক গাদা বাসনপত্রের স্তূপ (যেমনটা আপনারা আজকের ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন)।



​এই বাসনগুলো একে একে মাজতে মাজতে আর ধুয়ে রাখার সময় আমি মনে মনে ভাবি—যাক, আজকের মতো সকালের এই যুদ্ধটার অবসান হলো! এতক্ষণ যে অস্ত্রগুলো নিয়ে রণক্ষেত্রে লড়াই করছিলাম, এবার সেগুলোকে ভালো করে ধুয়ে-মুছে, পরিষ্কার করে শান্তিতে জিরিয়ে নেওয়ার জন্য গুছিয়ে রাখার পালা।

​এই ধুয়ে রাখা বাসনগুলোর দিকে তাকালে এখন এক অদ্ভুত শান্তি লাগে। তবে আমি জানি, এই শান্তিটুকু সাময়িক। ঠিক কাল সকাল ৬টায় আবার এই অস্ত্রগুলোর আওয়াজ দিয়েই আমার জীবনের চেনা জার্নিটা শুরু হবে। এই তো আমাদের প্রতিদিনের চেনা সংসার, যেখানে প্রতিটা সকালই এক একটা নতুন গল্প তৈরি করে।


​আপনার সকালের যুদ্ধটা কেমন কাটে? কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু!


#dailyjournal

#Housewifelife

#Morninghustle

#reallifestories

#proudhousewife

#ডেইলিজারনাল

#গৃহবধূর জীবন

#রান্নাঘরেরগল্প

#বাস্তবজীবন

#বাঙালির সংসার


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ