একজন গৃহবধূর দিনলিপি

 



গতকাল ভীষণ ব্যস্ত ছিলাম। নিজের স্মৃতি পটে র জন্য কিছু আর লিখে রাখা হয় নি। কারণ গত কাল ছিল জামাই ষষ্ঠী। অন্যান্য বছর আগের দিন ই বেরিয়ে পড়ি বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে। এবারে ষষ্ঠীর দিন ই গিয়েছিলাম। কারণ ছেলের পরীক্ষা চলছে। যেহেতু শনিবার ষষ্ঠী পরেছে তাই পরীক্ষার ছুটি ছিল ঐদিনটা। সেজন্য যেতে পারলাম। গিয়েই রান্না বান্না অনেক কাজ ছিল। মা একা হাতে অত কিছু পারবেন না। তাই নিজেই রান্না করছিলাম। তোমাদের সব জামাই ষষ্ঠী কেমন কাটলো? আমার ভালো ই কেটেছে। 


আজ বাড়ি ফিরেছি বেলা এগারোটা নাগাদ। এখন বাজে দুপুর 3 টা 10 মিনিট। কিছু লিখতে বসলাম। একান্তে সময় কাটাতে। 


যখন বাবার বাড়ি থেকে বেরোলাম তখন আকাশ পরিস্কার ই ছিল। মাঝ রাস্তায় এসে দেখি ভীষণ মেঘ করে এসেছে। রোড এর ওপর দিয়ে আসছি আর ঠাকুর কে ডাকছি বৃষ্টি নামার আগে ঘরে যেন পৌঁছে যেতে পারি ঠাকুর। কারণ আমারা বাইকে ফিরছি। ছেলের আবার পরীক্ষা চলছে। ভিজে গেলে সমস্যা। কিন্তু শেষরক্ষা আর হলো কই। আমাদের বাড়ির কাছাকাছি এসে আমাদের গ্রামের আগের গ্রাম টায় আস্তে ই ঝম ঝম করে মুষল ধারায় বৃষ্টি নেমে এল। বর বললো কোথাও একটা দাঁড়িয়ে যাই। আমি ই আবার বললাম থাক। আর তো 5 মিনিট। ভিজে ভিজেই চলো। গিয়ে স্নান করে নেব। ছেলেটা কে একটু বিনোদন দিতেই এই ভাবনা।এক দিকে পরীক্ষার ভয় আবার একদিকে ছেলেকে একটু খুশি করার চেষ্টা। হ্যা, ছেলেকে মোটামুটি খুশি রাখতে আমি ভালোবাসি। 


কখনো কখনো আমি ওকে নিজেই চিপস, চকলেট খেতে টাকা দিই। সাথে আমি নিজেও খাই। অল্প স্বল্প খেলে কি হবে। ছেলে খুশি হলে আমার ও মনটা খুব ভালো লাগে ওর হাসি খুশি মুখ টা দেখে।


যায় হোক, বাড়ি ফিরে আমার স্নান করতে হলো। যেহেতু পুরো ভিজে গিয়েছিলাম। আমি বাবার বাড়ি থেকে অলরেডি একবার স্নান করেই বেরিয়েছিলাম। কিন্তু আবার এসে করতে হলো। আর ছেলে ও আবার আমাদের উঠোনে আরো10 মিনিট ভিজে তারপর আবার কোলের জলে  স্নান করেছে। এরপর তাড়াতাড়ি করে ওর math এর worksheet লিখে রেডি করে দিলাম। ও স্নান করে লিখতে বসলো। আমি গেলাম দুপুরের রান্নার ব্যবস্থা করতে । করলাম ভাত, ডাল, আলু সিদ্ধ আর মাছের ঝাল। ওটা করে বাসন মেজে, গ্যাস ওভেন পরিষ্কার করে ওর math গুলো দেখে সকলকে খেতে দিলাম। তারপর আবার বাসন মেজে এই শুয়েছি। 


আবার বৃষ্টি যে সেই লেগেছে আর থামছেই না। বর্ষা মাথায় নিয়েই সব কাজ সেরে একটু শুতে এলাম। ছেলেও পাশে ঘুমোচ্ছে। আমি লিখছি। আবার একটু পড়ে উঠেই ওর পড়াশোনার কিছু কিছু জিনিস লিখে রাখতে হবে। এভাবেই চলছে জীবন। খুব ন রম্যাল একটা  জীবন। কোন আহামরি কিছু নেই। 

 

আমার এই ব্লগে আমি আমার জীবনের অনেক কিছুই লিখে রাখি। আজ কয়েকটা আমার প্ল্যান লিখে রাখি। এটা আষার মাস। আমার ছেলের haf yearly পরীক্ষা ঠিক দুর্গা পূজার আগেই হয়। সেই সময় ছেলের পড়াশোনা নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত থাকি। তাই কেনাকাটা ঠিকঠাক করা হয় না। ভাবছি তাই এখন থেকেই কিনে রাখবো। আমি খুব নরমাল শাড়ি পুজোই পরি। এখানে কলকাতা র মতো অত জাঁকজমক পূর্ণ পুজো হয় না। তাই হেভি শাড়ি কিনি না। 


আমার কটন খাদি, বাপ্তা, সিল্ক টাইপ এর কিছু শাড়ি কেনার ইচ্ছা হইছে। এই বছর। দেখা যাক কি হয়।

আজ এই পর্যন্ত ই । সকলে ভালো থাকবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ