মানসিক চাপ আছেই, তার থেকেও বেশি আছে মানিয়ে নেওয়ার চাপ

 



একটা সংসার মানে ই তো মানিয়ে নেওয়া। আর কিছু মেনে নেওয়া। নিজের ইচ্ছে গুলোকে সরিয়ে রাখা। স্বাদ গুলো বিসর্জন দেয়া। কিন্তু সব টুকু কম্প্রোমাইজ করে যদি তুমি ভালো থাকো, তাহলে তুমি জিতে গেলে। সকলের মধ্যমণি হয়ে যেমন রয়ে গেলে তেমনি নিজের কাছেও নিজে তুমি সেরা মানুষ। 


আর যদি হয় তার ঠিক উল্টোটা। তাহলেই হয়ে গেল। হতাশা, কষ্ট, দুঃখ একরাশ নীরব যন্ত্রনা তোমায় প্রতিনিয়ত কুরে কুরে খাবে। জীবন ঠিক ই চলবে। প্রকৃতির নিয়মে ঘড়ির কাঁটার তালে তালে নিত্যদিনের কাজ গুলো ঠিকই এগোবে। কিন্তু মন এগোবে না। শরীর সায় দেবে না। সতেজ, উৎফুল্লতায় ভরা মন টা কেমন যেন ঝিমিয়ে থাকবে সারাটা দিন। মেকি হাসির আড়ালে মানসিক দগ্ধতা বন্দি করে ফেলবে রাতের ঘুম। স্বপ্ন দেখবে অলীক রাজকন্যার সংসারের যা সে বাস্তবে চেয়েছিল।


চেয়েছিল তো ঠিক তেমনি একটা সংসার। যেখানে সংসারের সকল সদস্য রা তাকে অর্থাৎ সদ্য বিবাহিতা বউ টিকে আপন করে নেবে। বাড়ির প্রতিটা সদস্য নিজের মনে করে তাদের সংসারের রীতি নীতি আনন্দের সহিত শিখিয়ে দেবে। ভুল ত্রুটি হাসি মনে উড়িয়ে দেবে। পরিবারে সেই সদ্য বিবাহিতা বউ টার শখ, স্বাদ মেটাতে চাইবে। নতুন বউ টার মা, বাবা , ভাই , বোন কে সন্মান , ভালোবাসা দেখাবে। টা না হয়ে সদ্য বিবাহিতা বউ টাকে প্রথম দিন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে জঘন্য সাংসারিক পলিটিক্স এ জড়িয়ে তার জীবন টাকে অতিষ্ট করে তুলবে।


একটা মেয়ের জীবনে অনেক স্বপ্ন থাকে। জীবনে কিছু করার স্বপ্ন, নিজেকে একটা পজিশনে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। সেইসব স্বপ্ন হারিয়ে যায় বর এর অফিসের টিফিন গোছাতে, সন্তানের দেখভাল করতে আর পরিবারের সকলএর খেয়াল রাখতে। সবাই নিয়মের মায়াজাল ভেঙে নিজের পরিচয় গড়তে পারে না। মিলিয়ে যায় এইভাবেই সংসারের ঘেরাটোপে। মানসিক চাপ, মানিয়ে নেয়ার চাপ তার চোখে, মুখে ক্লান্তি এনে দেয়। প্রাণবন্ত ছটফট এ কিশোরীটাও গিন্নি সুলভ ব্যবহার শিখে যায় নিজের অজান্তেই।


নিজের অগোচরে এই শিখে যায় সগরী, এটো কাঁটার বাছবিচার। বাসী কাজ, পুজোর কাজ, ডিপ ক্লিনিং থেকে শুরু করে বাথ রুম পরিস্কার এর মাঝেই হারিয়ে যায় বই পড়ার নেশা। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে বই হাতে নিলেও বেশ মন বসে না। আগেকার মতো থ্রিলার পড়ে রোমাঞ্চ লাগে না, আসবে কি করে পড়ার আগেই তো দু চার লাইন পড়তে পড়তে চোখ জুড়িয়ে আসে ঘুমে। ওপার  থেকে ডাক আসে বৌমা খাবার সাজাও। রাতের খাবার সময় হলো যে....


বই পড়ে রয়... পাতা শেষ হয় না । ওদিকে লেখিকার পরের পাঠের বই প্রকাশিত হয়ে যায়। এভাবেই জীবন এগিয়ে চলে। আমি জানি না ইহকাল পরকাল বলে কিছু হয় কি না। আমি ভগবান এর কাছে একটাই পার্থনা করতে চাই এই সুখ অভাবী কন্যা গুলোকে পর জীবনে সুস্থ জীবন দিও। তারা যেন মন ভরে পৃথিবীর রূপ রস গন্ধ উপভোগ করতে পারে ।


আমারও গন্ডি চার দেয়াল এই বাধা। তবে এই দুপুর বেলা টা আমি মুক্ত। এই সময় টুকু আমি সময় কাটাই আমার নিজের ছন্দে। ব্লগ লিখে।  নিজের আত্ম অনুভূতি গুলো গুছিয়ে রাখি এই ব্যাংক এ সযত্নে। যাতে বয়স কালেও কখনো মনে হলে আমার আমি টাকে খুঁজে পেতে পারি এর মধ্যে।


ডায়েরি লেখার অনেক রই শখ। তেমন আমারও। এইভাবেই স্মৃতি গুলো জমিয়ে নিচ্ছি একটু একটু করে। আজকের কথা গুলো একদম আমার মনের কথা। আমাদের মতো গৃহবধূ রা যাদের কিছু করার উপায় নেই তারা মন ভরে নিজের কষ্ট গুলো ডায়েরিতে কিংবা নিজের এইরকম ব্লগ সাইট খুলে লিখে রাখতে পারো। এতে মন টা অনেক টা হালকা হয়। 


এসময় আমার দিনের খুব ভালো সময়। এই সময়টার জন্য আমি সারাদিন অপেক্ষা করে থাকি। আজ এখানে অনেক টা সময় কাটানো হলো। আবার আসবো আমার টুকিটাকি কিছু কথার মালা। নিয়ে। সকলে ভালো থাকবেন। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ