জীবন সুন্দর যদি সুন্দর করে দেখতে জানি

 আজ 19 জুন, 2026, শুক্র বার।





আমাদের জীবনটা ক্ষনিকের সময় এর জন্য। আমরা গর পরতা ওই 80 টা বছর পাই এই পৃথিবীতে থাকতে। শুনতে হয়তো 80 টা বছর। কিন্তু সত্যি ই সময় টা খুব শর্ট। তার মধ্যেই আমাদের শৈশব, যৌবন, বার্ধক্য আসে। একটা একটা স্টেজের এক এক ধরণের জার্নি। জানি বাঁচতে গেলে সংগ্রাম করেই বাঁচতে হয় প্রতিটা মানুষকে

 । তবু আমি বলব প্রত্যেকটা মানুষ এরই উচিত প্রতিটা মুহূর্ত কে উপভোগ করা উচিত। আমাদের জেতা  টাকেও উপভোগ করা উচিত। আর হার টাকেও। কারণ হার কে হাড়ে হাড়ে উপভোগ করলে তবেই তো জিত এসে ধরা দেবে । 


অনেকেই হয়তো বলবে এই পৃথিবীতে কত মানুষ কত কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে এখন যাচ্ছে। কেউ হয়তো ঠিক মতো খেতে পারছে না। কারো হয়তো মাথার ওপর ছাদ টুকুও নেই। তারা কি তবে দুঃখ টাকে উপভোগ করবে?? 

একদমই তা নয়। 


আমি বলতে চাইছি যাদের সামর্থ আছে তারা যদি একটু তাদের সাহায্যে র হাত সেই দুঃস্থ মানুষ দের প্রতি বাড়িয়ে দেন , তাহলে দুঃস্থ মানুষ গুলোর ও পেট ভরবে। ছাদ পাবে। পরনে লজ্জা ঢাকার পোশাক পাবে। আর যিনি দান করবেন তিনি ও মনে তৃপ্তি পাবেন। 


এবার কেউ হয়তো বলবে আমি ছোট থেকে পরিশ্রম করে অক্লান্ত পড়াশোনা করে আজ এই জায়গায় পৌঁছে ছি । তাই রোজগার করছি। আমি কেন এদের সাহায্য করব। এই সব গরিব মানুষ গুলো ও তো খেটে খেতে পারে। ভিখিরি হয়েছে কেন। খাটতে পারে না ? খাটার বয়স, গতর দুটোই তো আছে । এখানে আমার আর ও একটা বক্তব্য আছে। আমার সাথে হয়তো অনেকে একমত নাও হতে পারে।


পড়াশোনা অনেকেই করে। কেউ ই আজকাল অশিক্ষিত নয়। কিন্তু চাকরি, ব্যবসা কি সবাই করতে পারে? সবাই কি লাখ লাখ ইনকাম করতে পারে? সবই কপাল। ভগবান এর দান। তুমি পরিশ্রম করবে ঠিক আছে । তবে খানিকটা কপাল এর ও জোর থাকা চাই। একই যোগ্যতার কেউ একজন ভালো চাকরিরত। আবার একই যোগ্যতার কেউ অটো চালক। কিংবা কম রোজগারে। আমি কাউকে ছোট করছি না। 


সুতরাং যার আছে সে যদি সামর্থ্য মত দান করে। তার কমবে না। ওপর ওয়ালার খাতায় তার নাম টা সব সময় ওপরেই থাকবে। আর যিনি গরিব মানুষ তিনি এই জন্ম এ গরিব হলেও পর জন্ম বলে যদি কিছু থাকে ভগবান এর কৃপায় উনি নিশ্চই ভালো কপাল নিয়ে জন্মাবেন। 


আমি সাধারণ গৃহবধূ। আমি ভগবান বিশ্বাসী। আমি ইহকাল পরকাল ভেবে বাঁচি। পাপ, পুণ্য আমার কাছে বড় একটা কর্ম। আমি জীবনে এমন কিছুই হতে পারি নি। আমার যোগ্যতার অনেকে চাকরি করে, ব্যবসা করে। আমি পারিনি। আমি সংসারের ই সেবা করি। হয়তো ভগবান এর এটাই ইচ্ছা। তবে চেষ্টা যে করি নি তা নয়। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু সংসারের পরীক্ষা য় আমি একশ তে একশো। এটাই হয়তো ভগবান এর ইচ্ছা।


আমি ছোট ছোট মুহূর্ত গুলোকেই সুখ ভেবে আনন্দে কাটাই। রান্না ভালো করলে নিজেই নিজেকে বাহবা দিই। সকাল আটটার মধ্যে বর  এর টিফিন গুছিয়ে ফেললে এটাই আমার অনেক বড় আনন্দ। ছেলে অলিম্পিয়াড এক্সাম এ স্কুলে সায়েন্স 1st, math এ 2nd । এটাই আমার গর্বের। কারণ ছেলেকে আমিই পড়াই। সন্ধ্যে বেলায় শাশুড়ি মায়ের হাতে চায়ের কাপ টা দিয়ে ফিরে আসতে ই শুনি, বৌমা, চা খুব ভালো বানাও কিন্তু তুমি। এই তো এটাই আমার পরম প্রাপ্তি। সংসার কে আমি অনেক কিছু দিয়েছি। ভগবান জানেন। আমি এও জানি ভগবান আমায় ঠিকই একদিন আমায় আরো আনন্দে ভরিয়ে দেবেন। 


কারণ আমি সাধ্য মতো যতটুকু পারি সকলের পাশে থাকার চেষ্টা করি। তাই সকলের ভালোবাসাও পাই। আর এই আশীর্বাদ গুলোই আমার ভালো কর্ম হয়ে জুড়ে থাকুক আমার ভাগ্যের সাথে। এই আমার ইচ্ছে। বাকি টা সবই ভগবান এর কাছে ছেড়ে দিলাম। উনি আমায় যে পথে চালনা করবে আমি সেই পথ এই এগিয়ে যাব বাকিটা জীবন। 


আজ এত টুকুই। এই লেখালিখি টাও আমার কাছে খুব আনন্দের। আমি এখানে একটু মুক্তির স্বাদ পাই। নিজের প্যাশন টাকে খুঁজে পাই। একান্তে সময় কাটাই।বেশ পছন্দের সময় এটা। এই 30 মিনিট সময় আমার মনের সাথে হাতের আঙ্গুল এর গতি চলে। মন যা বলে আঙ্গুল তাই টাইপ করে। আমি কোন কিছু আগে থেকে ভেবে লিখি না। আমার মন ই আমার ব্লগ। 


জানি না আমার লেখা গুলো কারো ভালো লাগে কিনা , কিন্তু আমি জানি সারা পৃথিবী জুড়ে কেউ না কেউ তো আমার মতো গৃহবধূ আছে যে আমার মতো করে ভাবনায় ভাবিত হয়, সংসার সাজায়, দুঃখে একান্তে কাঁদে। আবার সংসার সংসার করে পাগল হয়ে কাজে নেমে পড়ে। গভীর রাতে গ্লানি, আসে কষ্ট আসে। তবে সেসব থাক। আজ শুধু আনন্দ টুকু বেঁধে রাখব এই স্মৃতির পাতায়। দুঃখ কে সরিয়ে আনন্দের কথামালা বোনা থাক এই স্মৃতির পাতায়।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ