একটি মিষ্টি বিকেলের গল্প

 - জীবনটা কি এভাবেই চলবে আমাদের?


- কি জানি...আমদের ভবিষ্যতে যে কি হবে একমাত্র ভগবানই জানে।


- এই যে, তুমি আমি পাশাপাশি বাড়ির বউ, আমরা তো একে অপরকে ছোটো থেকে চিনতাম না বলো... বিবাহ সূত্রে একই জায়গায় বাস। কিন্তু তুমি আমি এখন খুব ভালো বন্ধু। এই যে তোমার আমার বন্ডিংটা এটাও সবাইয়ের সহ্য হয় না।


- ছাড়ো তো... কার কী এসে গেলো তাতে আমাদের কি? বেশির ভাগ লোকই এখন মানুষের সম্পর্কে ভালো কথা বলেই না, সমলচনাটাই বেশি করে।


- জানোতো আমরা যে এই বিকেলবেলা টা একটু হাঁটতে বের হই, গল্প করি অনেকেই এটা ভালো চোখে দেখে না। লোকে পিছনে নানা কথা বলে। 


- ওদের কথায় একদম কান দেবে না। আমরা সারাদিনে সংসারের জন্য প্রাণপাত করে দিই। এই একটু বিকেল বেলাটা বের হই। এটা আমাদের মনের দিক থেকেও যেমন আরামদায়ক , তেমনি স্বাস্থ্যকরও বটে।


- সারাদিন সংসারে কাজ করি , আর ভাবি বিকেলটা কখন হবে, কখন আবার দুজনের দেখা হবে...


- ঠিক বলেছো। আমারও তাই মনে হয়। 


- আচ্ছা, তুমি আমি পাশাপাশি বাড়ির বউ। আমরা তো সম্পর্কে জা হই। তুমি যদি আমার নিজের জা হতে তাহলে আরও ভালো হতো। একসঙ্গে বাড়িতে কাজ করতাম আর প্রচুর আড্ডাও দিতাম। তাই না?


- সেটা বলা যায় না ...আসলে কী বলো তো... আমার মনে হয় আমরা পাশাপাশি বাড়ি থাকি বলেই আমাদের সম্পর্কটা এতটা ভালো। একই বাড়ির হলে মনোমালিন্য থাকতে পারত। কিংবা ওই যে পারিবারিক মন কষাকষি আর কি... হতই যে এমনটা নয়...আবার না হওয়ার ও কিছু নেই। 


- হ্যাঁ, এটা কিন্তু তুমি একটা খাঁটি কথা বলেছো। এই বেশ ভালো আছি। আমাদের দুজনের মনের কিন্তু অনেক মিল আছে বলো?


- সেজন্যই তো এত ভাব দুজনের। আর একটা ব্যাপারে আমাদের খুব মিল আছে। বলো তো কি


- দুজনেই সংসার করতে এসে নানা সমস্যায় জড়িয়ে পরি। এটা একটা দুজনের  কমন পয়েন্ট হতে পারে।


- হ্যাঁ , এটা তো আছেই। আরও একটা ব্যাপারে আমাদের দারুণ মিল আছে। যার জন্য আমাদের অনেক বেশি সুবিধাও হয়েছে। আমি সেই মিলটার কথা জানতে চাইছি।


- কি বলোতো...


- ভাবো...ভাবো...খুব সোজা...


- বলো ... বলো...বুঝতে পারছি না।


- আরে, আমাদের বডি স্ট্রাকচার তার কথা বলছি। আমরা দুজনেই তো একই হাইট, প্রায় একই ওয়েট। সেজন্য এক অন্যের জামা কাপড় শেয়ার করে পড়তে পারি।


- ওহহ! আমার মাথা থেকেই বেরিয়ে গিয়েছিল এই কমন ব্যাপারটা। যা বলেছো... এটা কিন্তু একটা দারুণ সুবিধা হয়েছে বলো?


- সে আর বলতে ...


- কিন্তু তোমার বিয়ের তিনবছর আগে আমার বিয়ে হয়েছে। ওই তিনবছর কিন্তু আমি মোটামুটি একাই কাটিয়েছি। আমার বয়সী কোনো বৌ এর সাথে আমার ভাব হয় নি। ওই সারাদিন বাড়িরই টুকটাক কাজ করতাম। সেই সময়টা খুব বাবার বাড়ির কথা মনে পড়ত জানো তো...বিশেষ করে এই বিকেল বেলাটা। কাজ থাকতো না তো...বসে বসে বোরিং হতাম। তারপর তোমার বিয়ে হলো...


- সত্যি বিয়ের পর আমারও একটা বছর খুব একা ফিল হতো। বর তো নিজের বিসনেস নিয়েই ব্যস্ত। সারাদিন শাশুড়ি মায়ের সাথে আর কত কথা বলা যায়...নিজের বয়সী একটা কাউকে পেলে ভালো এরকমই ভাবতাম ।


- আমিও তো ছাদে উঠে তোমায় দেখতাম। তুমি কাপড় মিলছো। দুজনের চোখা চোখি হলে একটু দুজনে শুধু মুচকি হাসতাম । মনে আছে তোমার?


- হ্যাঁ, আরে তখন তো সবে নতুন নতুন বিয়ে হয়েছে। বাইরে বেরোতে পারতাম না। 


- ঠিক বলেছো। এখনো যে বাইরে এই ঘণ্টা খানেকের জন্য বের হই তাতে বাড়ির সবাই যে এটা সানন্দে মেনে নিয়েছে তা কিন্তু নয়।


- তুমি চুপ করো তো...এক ঘণ্টাও নয়। গরম কালে একটু  সন্ধ্যে হতে দেরি হয়, তখন হয়তো এক ঘণ্টা হয়। আর শীত কালে তো আধ ঘণ্টা মতো টাইম আমরা  বাইরে হাঁটতে বের হই। এটুকু রিফ্রেশমেন্ট না হলে আমরা মানসিক দিক থেকে মৃত হয়ে যাবো।


- ঠিক বলেছো। এই ছাড়ো...এসব কথা। বলছি আজকে কি রান্না করলে বলো?


- ওই তো... টকের ডাল, পটল আলুর তরকারি, আর মাছের ঝাল। আর কিছু করি নি। যা গরম আজ। রান্না ঘরে বেশিক্ষণ থাকতে পারছি না ।


- আবার কি করবে...এটাই তো অনেক। গরমে টকের ডাল হলে আর কি চাই। বলছি, কোন মাছ ওয়ালাটার থেকে মাছ কিনলে? 


- ওই ... যে মাছ ওয়ালটা পাল পাড়া থেকে আসে ওর থেকে। কাতলা মাছ ছিল। তুমি কি করলে আজ?


- মাছের ঝোল, শাক ভাজা, আর কয়েকটা মাছের ডিমের বড়া ভাজা করেছিলাম। আমাদের তো সবাই এর  মাছের ঝোল খুব প্রিয়। সবজি দিয়ে মাছের ঝোল পেলেই সবাই খুশি। 


- হ্যাঁ তাহলে তো ভালোই। দেখো না...গরমে এতো র‍্যাশ হচ্ছে...কি লাগানো যায় বলো তো?


- সুথল লাগাতে পারো তো? স্নানের জলে মিশিয়ে।


- ওসব করেছি। তাও র‍্যাস কমছে না। কিছু ঘরোয়া রেমেডি বলো। আমি আর পারছি না। এই গরম যেনো দিন দিন বেড়েই চলেছে। আজকে দেখো একটা গাছের পাতাও নড়ে নি। অন্যদিন তাও এই পুকুর পাড় টায় বসলে সুন্দর হাওয়া দেয়। বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে করে না।


- বসে বসে ঘেমে যাচ্ছি দেখো। তুমি এক কাজ করো, নিম পাতা ফুটিয়ে জলটা ছেঁকে ঠান্ডা করে গায়ে স্প্রে করতে পারো তো স্নানের পর।


- এটা কিন্তু ভালো আইডিয়া। আমি কালকেই করব। ফ্রিজে তিনদিন মতো রেখে দেবো। খারাপ হয়ে যাবে গো?


- মনে তো হয় খারাপ হবে না। 


- তুমি নেবে একটু? তাহলে কাল একটু বেশি করেই করবো।


- রেখে দিও তাহলে। তুমি রেডি করে আমায় ফোন করবে। আমি নিয়ে যাবো।


- আচ্ছা, ঠিক আছে। এই দেখো...দেখো...পাখি গুলো কি সুন্দর সারি বেঁধে বাসায় ফিরছে।


- সত্যিই কি সুন্দর লাগে এইসব দৃশ্য গুলো বলো?

আচ্ছা এরা কতদূর যায় বলো তো?


- কি করে জানবো...তবে এটুকু জানি ওরা শশুর ঘর ফিরছে না। নিজের বাসায় ফিরছে। যেখানে একটু লেট করে ঢুকলেও ভয় নেই। 


- সত্যিই তুমি পারো ও বাবা...


- তা না তো কি...আমারও পাখি হলে সারাদিন উড়ে উড়ে বেড়াতাম। বেশ ভালো হতো।


- আর কি করবে বলো...ভগবান এখন যে অবতার রূপে আমাদের পাঠিয়েছেন সেই কর্তব্য টা ভালো করে পালন করার চেষ্টা করি চলো। ওপরে যখন পৌঁছাবো তখন না হয় ভগবানকে বলবো পরের জন্মে আমাদের পাখি করে দিতে।


- এই আমার কি মনে হয় জানো...মানুষ দেরও যেমন নানা রকম জ্বালা, যন্ত্রণা, জীবন যুদ্ধ আছে। ওদেরও আছে। দূর থেকে সবাইকেই সুন্দর মনে হয়।


- পাখিদের ভাষা বুঝলে জানা যেত ব্যাপারটা। কিন্তু ওরা ঝগড়া করে শিওর। মাঝে মাঝে চিৎকার বেশি করে দেখো নি?


- এবার চলো। বাড়ির দিকে হাঁটা দিই। সন্ধ্যে হয়ে এলো। নাহলে বাড়ির লোক আবার আমাদের ওপর চিৎকার করবে। 


- সত্যিই ঠিকই বলেছো। চলো...চলো।


সমাপ্ত





- 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ