- কি হলো? তুই এখনো বুঝতে পারছিস না?
- পেরেছি।
- কি বুঝলি বল।
- সামনে যে সংখ্যা দুটো আছে ওগুলো যোগ করে শেষের যে সংখ্যাটা আছে ওটার সাথে বিয়োগ করতে হবে।
- মানে টা কি? তুই এতক্ষণ ধরে এই বুঝলি? এই রকম বোঝালাম আমি তোকে? তুই কি অঙ্ক মুখস্থ করছিস?
- এটাই তো বললে। প্রথম দুটোর সাথে যোগ করে যে উত্তর বেরোবে তার সাথে শেষের সংখ্যা টা বিয়োগ করলেই তো উত্তর টা বেরিয়ে যাবে।
- হ্যাঁ। কিন্তু কি করে হলো কিংবা কেনো যোগ হবে কেনই বা বিয়োগ হবে আমায় বুঝিয়ে বল।
- ওটাতো পারবো না।
- তুই কি তাহলে এতক্ষণ ধরে অঙ্ক গুলো মুখস্থ করছিলিস? তোকে যখন বোঝাচ্ছিলাম আমি লক্ষ্য করেছি তুই অন্য দিকে তাকিয়ে ছিলিস।
- না তুমি যখন বোঝাচ্ছিলে আমি মন দিয়ে শুনছিলাম।
- তাহলে এখন বোঝাতে পারছিস না কেন?
- আমি তো ছোটো। তোমার মত করে কি বোঝাতে পারি?
- ঠিক আছে। তুই তোর মতো করেই বোঝা।
- ওই তো বললাম, প্রথম দুটোর সাথে যোগ করতে হবে । তারপর যে উত্তরটা বেরোবে তার সাথে শেষের সংখ্যাটা বিয়োগ...
- ওরে মাথা মোটা... তোকে যে এতক্ষণ ধরে আমি বোঝালাম তাহলে কি লাভটা আমার হলো। এদিকে আয়। সরে এসে বোস।
- না সামনে যাব না। আমি এখান থেকেই দেখতে পাচ্ছি।
- মায়ের কথা শুনতে হয়। এদিকে কাছে এসে বোস। আবার প্রথম থেকে শিখিয়ে দেবো।
- আমি শুনছি। তুমি বলো।
- কাছে আয়। নাহলে বুঝতে পারবি না।
- না আমি যাবো না।
-কেনো?
- আমি জানি তুমি মারবে আমায়।
- না মারব না। তুই আয়।
- মারবে না তো?
- আরে না রে বাবা...এত দেরি করিস তুই... ধারণার বাইরে।
- নাও এসেছি। এবার বলো।
- শোন। আমি তো প্রথম থেকে আবার ভালো করে বুঝিয়ে দেবো। কিন্তু একটা কথা ভালো করে বুঝে নে, অঙ্ক কিন্তু মুখস্থ করতে নেই। অঙ্ক কেউ মুখস্থ করে না। অঙ্ক হলো মাথা খাটিয়ে, বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে করতে হয়। আর প্রতিটা অঙ্কের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। সেই নিয়মের মধ্যে করলেই অঙ্কটা কমপ্লিট হয়ে যাবে।
- কিন্তু আমাদের ক্লাসের একজন আছে সে অঙ্ক মুখস্থ করে। আমি জানি।
- কে?
- কাজল... কাজল ঘোষ।
- তুই কি করে জানলি ও অঙ্ক মুখস্থ করে? আচ্ছা, তোকে স্কুলে পাঠানো হয় মন দিয়ে লেখা পড়া করার জন্য। স্যার, ম্যাডামরা কি কি বলছেন, বোঝাচ্ছেন সেগুলো মন দিয়ে শুনে, শিখে আসার জন্য। কে কি করলো সে গুলো দেখার জন্য নয়।
- আমি মন দিয়ে পড়া বুঝি স্কুলে। কাজল তো পর পর কয়েকদিন হলো আমার পাশে বসছে। তাই জানি।
- আচ্ছা ... অনেক গল্প হলো। আর একটাও বাড়তি কথা নয়। এবার পড়ায় মন দে। আমি তোকে আবার প্রথম থেকে শেখাচ্ছি। মন দিয়ে শেখ। এগুলো স্কুলে যখন বোঝায় ভালো করে যদি শিখে ফেলতিস তাহলে এতক্ষণ আমার টাইম ওয়েস্ট হতো না।
- ঠিক আছে। তুমিই তো এবার এটা সেটা বলে দেরি করছো।
- চুপ! একদম চুপ... পড়া পারছে না। একটা সাধারণ যোগ, বিয়োগের অঙ্ক বুঝতে পারছে না আবার মুখে মুখে তর্ক। কানটা মুলে দিলে ঠিক হয়।
- বলেছিলাম আমি .... আমি বলেছিলাম তোমার পাশে বসবো না। তোমার পাশে বসলেই আমায় মারবে। কানটা ধরে মুলে দিলে তো। আমি বাবাকে বলব।
- হ্যাঁ, সারাদিন শুধু মায়ের নামে বাবার কাছে নালিশ করতেই শিখেছিস। আর কি পারিস। আমি সারাদিনের সংসারের কাজ করে ওকে নিয়ে পড়াতে বসবো। আর ও সারা রাজ্যের গল্পের ঝুড়ি নিয়ে বসবে। নিজে পড়াশোনায় কাঁচকলা আবার অন্যের বিচার করে।
- অঙ্ক টা কি আছে পড় ভালো করে। তারপর বোঝাচ্ছি।
- তুমি পড়ে বুঝিয়ে দাও। তুমিই তো বললে নতুন করে আবার শেখাবে। তাহলে তুমিই পড়ো।
- ওহ! রিডিং টাও তাহলে পড়তে পারবি না? এত কুড়ে? তোর বাবা আজ আসুক। বলবো। এত টাকা খরচ করে পড়ানো হচ্ছে আর ও গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
- আমি কিছু করি নি। তুমি মিথ্যে করে বাবাকে আমার নামে বলবে না।
- এই শোন। আমি অঙ্কটা পড়ছি। একটি মুদিখানা দোকানে এক শত তেতাল্লিশ বস্তা চাল ছিল এবং পরে আরও এক শত ত্রিশ বস্তা চাল আনা হয়। সেখান থেকে যদি চুরাশি বস্তা চাল বিক্রয় করা হয় তাহলে বর্তমানে ওই দোকানে কত বস্তা চাল আছে?
- আমি বলব কি করতে হবে?
- চুপ। এতক্ষণ ধরে পারছিল না। আবার ভুলভাল বলবি। আগে শুনে নে। তারপর বলবি। তুই তো শর্ট কাটে মুখস্থ বলার মতো বলছিস। আমি যেভাবে বোঝাবো এখন সে ভাবে বলবি। মন দিয়ে শোন এখন।
- বলো।
- তাহলে মুদিখানা দোকানে প্রথমে কত বস্তা চাল ছিল?
- এক শত তেতাল্লিশ বস্তা।
- হ্যাঁ, পরে আরো কত বস্তা চাল আনা হলো?
- এক শত ত্রিশ বস্তা।
- তাহলে বাড়লো? নাকি কমলো?
- পরে আরো চাল আনা হলো। তাই বাড়বে।
- তাহলে কি করতে হবে?
- যোগ করতে হবে।
- ভেরি গুড।
- তারপর অঙ্কটায় কি বলেছে দেখ ভালো করে।
এবার ওই মোট চালের বস্তা থেকে চুরাশি বস্তা চাল যদি বিক্রয় করা হয় এখন তাহলে কত বস্তা থাকবে? তাহলে কি করতে হবে?
- তাহলে বিয়োগ করতে হবে।
- কেনো?
- কারণ চুরাশি বস্তা বিক্রি করে দিচ্ছে। তাই কমে যাবে। সেই জন্য ।
- এই তো বুঝেছিস। তাহলে এতক্ষণ বলতে পারছিলিস না কেন?
- আমি তো বলছিলাম। কিন্তু এইভাবে কেটে কেটে বুঝিয়ে বলতে পারছিলাম না।
- আচ্ছা। ঠিক আছে। অঙ্ক কিন্তু প্রচুর প্র্যাকটিস করতে হয়। যত প্র্যাকটিস করবি ততই মনে হবে অঙ্ক খুব সোজা। আর যদি ভয় পেয়ে প্রতিদিন না অঙ্ক করিস তাহলে বুঝতেও পারবি না। আর অঙ্ক করতেও পারবি না।
- আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি তাহলে এই ধরণের আরো দশটা অঙ্ক এখনি দাও আমি করব ।
- ওয়ার্কশীট রেডি করতে তো বেশ খানিকটা আমার সময় লাগবে। এখনও আমার রান্না হয় নি। তারওপর তোরা বাবা ছেলেতে বায়না জুড়েছিস খাসির মাংস খাবি। আমার এখনো রান্নার জোগাড় যন্ত কিছুই হয় নি। এই রবি বারে যেন কাজ আরও বেড়ে যায় আমার। তুই এক কাজ কর। এখন একটু খেলে নে। আমি রান্নাটা চাপিয়ে ওয়ার্কশীট রেডি করে রাখছি। তুই স্নান সেরে অঙ্ক গুলো করতে বসবি। কেমন?
- তাহলে কি এখন আমার ছুটি মা?
- হ্যাঁ ছুটি। কিন্তু ওই যে বললাম দুপুরে একটু বসতে হবে। অঙ্ক গুলো করতে হবে।
- ঠিক আছে। আমি সব অঙ্ক করে দেব। এবারে তুমি দেখে নিও মা আমি ক্লাস টু তে ফার্স্ট হবোই।
- বেশ তো। মনের মধ্যে এই স্পিডটাই যেন থাকে। তাহলেই তুই অর্ধেকটা এগিয়ে যাবি। আর বাকিটা প্র্যাকটিস আর পরিশ্রমের ফল ।
সমাপ্ত
0 মন্তব্যসমূহ