- পলাশ তুমি আজকেও মদ খেয়ে বাড়ি ঢুকলে? তুমি না গতকাল আমার সিঁথির সিঁদুর ছুঁয়ে কথা দিলে আর কোনদিন মদের ধারে কাছেও ঘেঁষবে না...
- ধুর! ছাড়ো তো আমার কিছু ভালো লাগছে না। কি খাবার আছে খেতে দাও।
- খাবার কিছুই নেই। তোমায় বলেছিলাম কাজ থেকে বাড়ি ফেরার সময় চাল, আলু, তেল কিনে আনবে। তবে রান্না চাপাতে পারবো। সে সবও তুমি ভুলে গেছো?
- কখন বলেছিলে? আমার মনে পরছে না। যা হোক কিছু এখন আমায় খেতে দাও। খিদেতে আমার পেট জ্বলছে।
- শুধু তোমার একার নয়। খিদেতে পেট,বুক , মাথা আমারও জ্বলছে। তুমি তো তবু মদ গিলে এসেছো। আমরা তো আর সেসব খেতে পারি না। খিদের জ্বালায় পেট ভর্তি করে জল টাই শুধু খাই। তুমি আমার কথা
নাই বা ভাবলে আমাদের বাবান টার কথা তোমার একবারের জন্যও মনে পরে না? ঐ টুকু পাঁচ বছরের একটা বাচ্চা খিদের জ্বালা সইতে পারে?
- কেনো? ওর তো একটা কমপ্ল্যানের কৌটো গত মাসেই কিনে নিয়ে দিয়েছি। সব তুমি খেয়ে নাও। ছি! ছি! ছি! । নিজের ছেলের খাবারটা ছেলের মুখে না তুলে দিয়ে মা হয়ে গিলে নেয়। তার আবার বড়ো বড়ো মুখের ফুটানি। দূর হ চোখের সামনে থেকে। ঘরেতে যা মুড়ি জল আছে নিয়ে আয়। শালা, ভালো কথা মুখ দিয়ে বেরোয় না।
- রাত দুপুরে ঘরে ফিরে একদম তুই তুকারি করবে না বলে দিলাম। একেই আমার মাথা গরম হয়ে আছে। চুপচাপ জল খেয়ে শুয়ে পড়ো। নাহলে রান্নাঘরে মসলার তাকে ছাতুর কৌটো আছে, পারো তো নিজে গুলে খেয়ে নাও। অল্প একটু যেকটা মুড়ি ছিল বাবানকে সুলতা পিসির থেকে আনা তরকারি দিয়ে খাইয়ে দিয়েছি।
- তা বেশ করেছিস। খাক... আমি না হয় ছাতু খেয়ে নেব। যদি তুই মুড়ি গুলো গিলটিস তাহলে দেখতিস আমি লঙ্কা কাণ্ড জুড়িয়ে দিতাম।
- আমি অনেক ক্ষণ ধরে সহ্য করছি তোমায়। এবার কিন্তু আমি ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেবো। আর একটাও বাজে কথা বলে দেখো?
- শালী, যত বড়ো মুখ নয় তত বড় কথা... দাঁড়া তোর হচ্ছে। বড্ড বার বেড়েছিস দেখছি তুই।
- খবরদার বলছি আমার গায়ে একদম হাত তুলবে না।
- একি রে... তোর এত বড় স্পর্ধা তুই বটি নিয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়েছিস? স্বামীকে খুন করবি না কিরে মেয়ে মানুষ?
- হ্যাঁ করব। দরকার পরলে আমার হাতেই তুমি খুন হবে।
- তোর লজ্জা করলো না এ কথা মুখে উচ্চারণ করতে? আমি পাড়া পড়শী সবাইকে ডেকে বলবো।
- যাও, যাও বলগে যাও। পাড়ার লোকও সবাই জানে তোমার স্বভাব চরিত্র কেমন। তুমি কি ভাবো ? সবাই ঘাসে মুখ দিয়ে চলে? তোমার কুকীর্তির কথা আর কারো জানতে বাকি নেই। একটা চরিত্রহীন লোক তুমি। তোমার নোংরামোর কথা আর কারো জানতে বাকি নেই। আমিও জানি। শুধু মুখে বলতে ঘেন্না করে... তাই... তাই এত দিন বলি নি।
- মেরে তোর মুখ ভেঙে দেবো চিরকালের মত।
- মারো না... মারো। মেরে আমার মুখ না হয় বন্ধ করতে পারবে তুমি। আর বাকি লোক গুলোর মুখ? তাদের মুখ বন্ধ করতে পারবে তো? শুধু সকালটা হোক, তারপর তোমার ব্যবস্থা আমি করবো দাঁড়াও। যত বার তোমায় ক্ষমা করে দিয়েছি তত বারই তুমি আমার মাথায় হাত দিয়ে কথা দিয়েছ আর কোন দিন মদ খাবে না। খারাপ কাজ করবে না। কিন্তু যেই কে সেই। কোন পরিবর্তন নেই তোমার।
- তুই আমার কি ব্যবস্থা করবি রে? বরং আমিই তোর ব্যবস্থা ঠিক করে রেখেছি।
- কি ঠিক করেছো?
- তুই আগে বল তুই আমার কি ব্যবস্থা করবি সকাল হলেই?
- আমি তো তোমার নামে থানায় ডায়েরি করে আসবো। বলব রোজ রাতে মদ খেয়ে এসে আমায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ দাও, মারধর করো। আমায় , আমার সন্তানকে দু বেলা দু মুঠো খাবারও দাও না। আর তোমার ... আর তোমার...
- আর আমার কি... বলবি তো। কাঁদছিস কেনো? বল?আমার কি ...
- আর বলবো ? শুনবে? তোমার একজনের সাথে অবৈধ সম্পর্কও আছে। সেখানে তুমি টাকা দিয়ে আসো। মাঝে মাঝে রাতও কাটিয়ে আসো।
- আচ্ছা... বল তোকে এসব কথা কে বলেছে? আমি তো কোনদিন তোকে বলি নি। তাহলে তুই কি করে জানলি?
- পাড়ার লোক বলেছে। নোংরামি কক্ষনো চাপা থাকে না।
- ওহঃ! তাই বুঝি? তা বেশ...তুই ঠিকই শুনেছিস। হ্যাঁ আমার একটা মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক আছে। আর আমি ঐ মলিকেই বিয়ে করবো। তোকে শালা কাল সকালেই বাড়ি থেকে বিদায় করে দেব। তাহলে আমি কি ব্যবস্থা নেবো আশা করছি বুঝতে পেরেছিস? কি তাই তো?
- ছি! ছি! ছি! বাইরের একটা মেয়েকে তুমি ঘরে তুলে আনবে? তোমার লজ্জা করে না? বউ ,ছেলের মুখে দু বেলা দু মুঠো ভাত তুলে দেওয়ার মতো যার মুরোদ নেই সে আবার অবৈধ সম্পর্ক করেছে। এতটা নীচ তুমি? পাড়ার লোকে নানা কথা বলতো আমি এতদিন বিশ্বাস করি নি। তাহলে তুমি এতটাই নোংরা?
- সে তুই আমায় যা বলবি বলে যা। কাল সকালে যেন আর তোকে বলতে না হয় এ বাড়ি থেকে বিদেয় হবি।
- এটা আমার শ্বশুরের ভিটে। আমি এখান ছেড়ে কোথাও যাবো না। যাওয়ার হলে তুমি যাবে।
- কি বললি শালী, যাবি না? তোকে শালা আমি ডিভোর্স দেব রে। আর ঐ মলি রাজকন্যাকে আমি ঘরে তুলবো।
- দেশে আইন কানুন বলতে কি কিছু নেই? আমিও দেখবো তোমার এক স্ত্রী থাকতে আর একজনকে কি করে ঘরে তোলো। যদি পরস্ত্রীকে নিয়ে থাকতে হয় অন্য জায়গায় গিয়ে থাকবে এখানে নয়। নাহলে আমি থানায় যাবো।
- আচ্ছা ঠিক আছে। এই ঘরে শালা আজ থেকেই থাকবো না। আমি আজই বেরিয়ে যাব। তোর সাথে আর একমুহূর্ত ও আমি থাকবো না।
- যাও... বেরিয়ে যাও। থাকতে হবে না। আমারও একটু জ্বালা জুরোক। দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো।
- ঠিক আছে। আমার ঘর থেকেই আমায় তাড়িয়ে দিলি তো এত রাতে...তোকে আমি ছাড়বো না। আমি দেখে নেবো।
- যা পারো করবে। আমি আর কোনো কিছুতেই ভয় পাই না।
- আচ্ছা, তোকে আমি ডিভোর্স পেপার পাঠাবো।
- আমিও দেব না ডিভোর্স। তোমার কত পয়সা আছে দেখবো। কতদিন তুমি মামলা চালাতে পারো। ঐ রক্ষিতা র ঘরে আশ্রিত হয়েই তোমায় পচে মরতে হবে। আজ থেকে তোমার সাথে আমি সমস্ত মানসিক শারীরিক সম্পর্ক ত্যাগ দিলাম। কিন্তু আইনত তোমায় ডিভোর্স আমি দেব না। বেরিয়ে যাও তুমি চোখের সামনে থেকে।
- ডিভোর্স দিবি না তো কি হয়েছে? তোর চোখের সামনে দিয়ে নতুন বৌয়ের সাথে ঘুরে বেড়াবো। সংসার করবো। সেই জ্বলনে জ্বলে তুই আপনা থেকেই এই বাড়ি ছেড়ে পালাবি। আর আমায় ডিভোর্সও দিতে বাধ্য হবি।
- ধর্মের কল জানো তো বাতাসে নড়ে। তোমার কৃতকর্মের ফল আজ তুমি পাবে না। কিন্তু এক দিন না একদিন ঠিক তুমি পাবে। তোমার ওই মলিই তোমায় সেই কৃতকর্মের ফল দেবে। এখন দূর হও আমার চোখের সামনে থেকে।
সমাপ্ত
0 মন্তব্যসমূহ