শাশুরি মা ও বৌমার মিষ্টি মধুর সম্পর্ক : রোজকার ডায়েরি

 প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতির গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করি। সেগুলোর কোনোটাই কাল্পনিক নয়।  আমার সব লেখাগুলোই গভীর  উপলব্ধির ফসল। আমি যা দেখি, যা শুনি সবই এই ডিজিটাল ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করতে পছন্দ করি। এটা আমার শখ। আজকেও এমনই একটি ঘটনা এখানে লিখলাম।আজকের ঘটনাটির প্রবাহ বিস্তার করবে কথোপকথনের মাধ্যমে। 


আজকের বিশেষ নিবেদন শাশুড়ি - বৌমার সম্পর্ক।


রিমা মাথায় হাত দিয়ে খুব মনোযোগ সহকারে একদৃষ্টিতে ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে ছিল। ওকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল কাজের প্রেসারটা খুব বেশি। ঘড়ির কাঁটা জানান দিচ্ছে সময় এখন ঠিক বিকেল পাঁচটা বেজে পনেরো মিনিট। রিমার ঘরে সুচেতনা দেবী প্রবেশ করলেন। হাতে এক কাপ গরম চা। 


ল্যাপটপের পাশে টেবিলটার অবশিষ্ট জায়গায় চায়ের কাপটা সাবধানে নামিয়ে রাখলেন এবং  আলতো করে রিমার মাথাটা ছুঁলেন। তৎক্ষণাৎ রিমা চমকে ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে দেখল সামনেই তার শাশুড়ি মা দাঁড়িয়ে আছেন। পাশে রাখা গরম ধোঁয়া ওঠা চা। 


- ওহ ! মা, তুমি? আমি তো ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলাম। তুমি কখন রুমে এলে টেরও পাই নি। 

- সে তো বুঝতেই পারছি। তোমায় দেখে যেন মনে  হচ্ছে খুব চিন্তার মধ্যে আছো ? অফিসের কি কাজের খুব প্রেসার আজ?

- তা একটু ছিল। দুপুরের দিকে। একটা মিটিং ছিল। সেটার পরেই ক্লায়েন্ট একটা প্রজেক্ট ডেলিভারি দেওয়ার ছিল। বিকেল পাঁচটার মধ্যে। ওই কাজটা এই মিনিট দশেক আগে সাক্সেসফুলি সাবমিট করে এই একটু অন্য কাজ গুলো দেখছিলাম। 

- সত্যি, বৌমা সারাটা দিন তোমার উপর কতটা মানসিক প্রেসার পড়ে। আমি তো নিজের চোখেই  দেখতে পাই। নাও দিকিন, চা টা খেয়ে নাও। জুড়িয়ে যাচ্ছে।

- মা, তোমায় আমার চা করে সিঁড়ি ভেঙে ওপরে আস্তে কে বলল। নিচে থেকে আমায় একটা ফোন করতে পারতে আমিই গিয়ে নিয়ে আসতে পারতাম।

- ও কোনো ব্যাপার নয়। বিকেলের দিকে একটু- আধটু হাঁটাহাঁটি করা ভালো। এতে শরীরের ব্যায়ামও হয়ে যায়। 

- মা, আর একটু পরেই তো আমার অফিসের কাজ শেষ হয়ে যাবে। তোমায় প্রতিদিন বলি সন্ধ্যের চা টা আমিই করবো। কিন্তু , কে কার কথা শোনে। সেই তুমিই করবে। জেদ নিয়ে বসে আছো। 

- আচ্ছা, বৌমা তুমি যে এই কাজ করতে করতে হাতের সামনে গরম গরম চা টা পেয়ে যাচ্ছ তোমার কেমন লাগছে? 

- সে তো ভালো লাগবেই। তার ওপর তোমার হাতের ছোঁয়া আছে। এর স্বাদই আলাদা। সত্যিই মা, তুমি এই এলাচ, আদা দিয়ে চা টা এত সুন্দর করো আমার ভীষণ ভালো লাগে খেতে। সত্যি বলতে কি, আমার মাথাটা সেরে যায়। বেশ রিল্যাক্স ফিল হয়। কাজে এনার্জি আসে। মুড সুইং হলেও তোমার বানানো চায়ে চুমুক দেওয়া মাত্রই মনটা বেশ ফুরফুরে হয়ে ওঠে।

- আমি জানি তো। সেইজন্যই তো করে নিয়ে আসি।

- জানো তো মা, আমিও তোমার মত চা বানানোর চেষ্টা করি। কিন্তু অর্ণব ( রিমার বর)বলে তুমি মায়ের মতো পারই না।

- ছাড় তো , ওর কথা। ও তো একটা পাগল । তোকে খ্যাপানোর জন্য ঐরকম বলে। আমিও কি তোর করা চা খাই নি ! ভালোই তো করিস। আমার তো বাপু ভালোই লাগে। 

- আচ্ছা, বৌমা গল্প অনেক হলো। এবার মন দিয়ে কাজটা করো। ওয়ার্ক ফ্রম হোম বলে কাজের ঢিলেমি দিলে চলবে না। 

- বাবা! তুমি তো দেখছি অফিসের বসের চেয়েও ভীষণ কড়া।

- ( একটু হেসে, রিমার গাল টা টিপে) আমি কি আর এসব কাজের মাথামুন্ডু কিছু বুঝি? যেকোন কাজই হোক না কেন সেটা খুব মন দিয়ে করতে হয় সেটাই মানি। মা হয়ে তাই এই উপদেশ টুকু দিলাম। 

- তুমি ঠিকই বলেছো মা। কোম্পানি আমায় ভরসা করে , আমায় এই কাজটি করার যোগ্য মনে করে তবেই নিয়েছেন। আমারও উচিত নিজের কাজের প্রতি সৎ থাকা। পরিশ্রমী হওয়া। আমি আমার কর্তব্য খুব ভালো করেই মেনে চলি মা। ক্লায়েন্টকে প্রজেক্টটা সাবমিট করার পর এখন আর আমার তেমন কোনো কাজ ছিল না। নিজেকে আপডেট রাখার জন্য একটু নতুন জিনিসগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখছিলাম। এরই মাঝে তুমি কখন এলে বুঝতে পারি নি। আমার আজকের ডিউটি হয়ে গেছে। আর মাত্র কয়েক মিনিট পর ছুটি। তাই আজকে আর নতুন প্রজেক্ট দেয় নি। আগামী কাল থেকে নতুন কাজ  শুরু হবে।  কিন্তু, মা তোমায় একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো? 

- ( মাথায় আবার সেই স্নেহের হাত টা রেখে, মুখে সেই অমায়িক হাসির রেশ টেনে) বলো।

- বলছি, তুমি সারাদিনের এত কাজ কি করে সামলাও আমি তাই ভাবি। আমি তো তোমার বৌমা। কিন্তু সত্যি বলছি আমি কিন্তু এই বাড়িতে মেয়ের মতোই থাকি। আমি চেষ্টা করলেও তোমার মত এত সুন্দর করে গুছিয়ে সংসারটা সাজাতে পারবো না। এত কঠিন সব কাজ তুমি নিত্যদিন একা হাতে সামলাও। আমায় কিছুই করতে দাও না। এভাবে দিনের পর দিন চলতে থাকলে আমি কিন্তু কুঁড়ে হয়ে যাবো বলে দিলাম। 

- ওরে, কাজ করার জন্য অনেক বয়স পরে আছে। তাছাড়া তুই একটা চাকরি করিস। আমি এইসব ল্যাপটপ, অনলাইনের কাজ না জানলেও এটা বুঝতে পারি এইসব কাজ করতে গেলে কি পরিমান মানসিক শ্রমের প্রয়োজন হয়। সেইজন্যই বলছি , তুই যে কাজটা করছিস সেটা শুধু মন দিয়ে কর। বাকিটা আমি দেখে নেব।

- আচ্ছা, ঠিক আছে মা। তোমার এই বুলি আমি এবাড়িতে পা রাখা থেকে একইভাবে শুনে যাচ্ছি । তুমিই আমায় তেল দিয়ে দিয়ে সুখপাখি করে রেখেছো। পরে পস্তাবে এই তোমায় বলে রাখলাম।

- আমি আমার বৌমাকে ভালো করেই চিনি। সে গুনে লক্ষহী, বিদ্যায় মা সরস্বতী। আমার মনের পূর্ণ বিশ্বাস আছে তুই কোনোদিনও আমাদের অসম্মান কিংবা অশ্রদ্ধা করবি না। ওমন মেয়েই তুই নয়।

- ( রিমা, শাশুড়ি মা কে জড়িয়ে ধরে) মা আজকের ডিনারের রান্নাটা কিন্তু আমি করবো। প্লিজ, প্লিজ।

- ( চোখ টিপে, মুচকি হেসে) আচ্ছা ঠিক আছে। তাই করিস। আমি তোকে হেল্প করে দেব।

- একদম নয়। আজ পুরো রান্না আমি করবো। তুমি শুধু বসে বসে টিভি দেখবে। কথার অমান্য করলে কিন্তু হবে না বলে দিলাম। আমার দিব্বি রইলো।


সুচেতনা দেবী রিমাকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে স্নেহের চুমু এঁকে দিলেন রিমার কপালে। রিমাও যেন পৃথিবী জোড়া সুখ খুঁজে পেল ওই একটুকরো বুকের মাঝে।


আজকের কথোপকথন পর্ব টা কেমন লাগলো সকলকে জানানোর অনুরোধ রইলো। শাশুড়ি- বৌমার সম্পর্কে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, স্নেহ, থাকলে গোটা পরিবারটাই যেন সুখ- শান্তিতে ভরে থাকে। আর তাদের মতের অমিল থাকলে ঝগড়া- ঝামেলা হলে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান শাশুড়ির ছেলে অর্থাৎ বৌমার বর। কি তাই তো? আমি ঠিক বললাম তো? 



আজকের ব্লগটা তবে এখানেই শেষ করছি। আবার ফিরবো নতুন কোন লেখা নিয়ে। আজ তবে আসি। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। 








একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ