দূর্গা পূজার (২০২৬) মহাঅষ্টমী স্পেশাল গল্প ও খুনসুটির জলছবি।

 

দূর্গা-পূজার-২০২৬-মহাঅষ্টমী-স্পেশাল-গল্প-ও-খুনসুটির-জলছবি।


পার্থ : দরকারের সময় হাতের কাছে জিনিস গুলো পাওয়া যায় না। জিনিসপত্র গুলো যে একটু গুছিয়ে রাখবে তা নয়।


সোমা : একদম কথা শোনাবে না। নিজের জিনিস নিজেকেই গুছিয়ে রাখা উচিত।


পার্থ : বাড়ির বউরাই এই কাজটা দায়িত্ব নিয়ে করে। তুমি না বড্ড অগোছালো।


সোমা : আশ্চর্য তো ! নিজে তাড়াহুড়োর সময় পাঞ্জাবি, পাজামা খুঁজে পাচ্ছে না। আর আমায় দোষ দিচ্ছে। এই তোমার জিনিসে আমি হাত দিই না। তুমি সেটা ভালো করেই জানো। তাছাড়া তুমি কোথায় গুটিয়ে রেখে দিয়েছো আলমারির কোন ঘাঁজে দেখো।


পার্থ : প্লিজ, সোমা প্লিজ - মনে করে বলো না , কোনখানে রাখলাম সেদিন একদম মনে পরছে না। তুমি তো ভালো করেই জানো তুমি ছাড়া আমি একদম অচল।


সোমা : দেখো, আমার নিজেরই এখনো সাজ কমপ্লিট হয় নি। তারপর আটপৌরে করে শাড়ি পরাও একটা বেশ বড়সড় সময়ের কাজ। এদিকে মাইকের ঘোষণা শুনতে পাচ্ছ তো? অষ্টমীর অঞ্জলি শুরু হতে আর মাত্র কিছুক্ষণ বাকি।


পার্থ : সেইজন্যই তো বলছি। কোথায় যে রাখলাম নতুন পাঞ্জাবিটা! কি জানি।


সোমা : দেখো , হয়তো ছোটো আলমারিতে ঢুকিয়ে রেখেছো।  ওখানে তো ডেলি ইউজের জামা কাপড় রাখা হয়। তুমি তো বেখেয়ালে কখনো কখনো নতুন জামাও রাখো।


পার্থ : একদম ঠিক বলেছো। ওইখানেই রেখেছি তাড়াহুড়োর সময়। এবার মনে পরেছে। থ্যাংক ইউ গো। এবার আমি পাঞ্জাবিটা গলাবো আর ঠাকুর তলায় চলে যাব। 


সোমা : এতো সহজে তো তোমায় যেতে দেব না আমি। দরকারে তোমার বউয়ের খোঁজ পরে। আর প্রয়োজন ফুরোলেই ভুলে যাবে। এটা তো আমি হতে দেব না।


পার্থ : আমি কি তাই বললাম? কি করতে হবে তোমার বলো না। করে দিচ্ছি।


সোমা : তুমি রেডি হয়ে নাও। আমার মেক আপ টা কমপ্লিট হয়ে গেলেই শাড়িটা পরবো। তুমি একটু কুচি টা ধরে দেবে। আঁচল টা প্রিন্ট করব ,একটু সেফটিপিনটা ব্লাউজের সাথে অ্যাটাচ করে দেবে। 


পার্থ : ওহঃ এই ব্যাপার। এই কাজটা তো আমি ছাড়া তুমি কমপ্লিটিই করতে পারো না। প্রতিবারই তো অনুষ্ঠান, পুজো বাড়ি যাওয়ার সময় আমিই করে দিই।


সোমা : হমম। তা অবশ্য ঠিক। 


পার্থ : এই, যখন অঞ্জলি দিতে যাবো বেশ কয়েকটা কিন্তু ছবি তুলব দুজনে। তুমি কিন্তু সবাইয়ের সামনে একদম লজ্জা পাবে না বুঝলে? তোমার ওই লজ্জার চক্করে আমার ছবি তোলা হয় না। মা দুর্গার সাথে আমরা একসাথে ছবি তুলব। 


সোমা : আচ্ছা ঠিক আছে। মা দুর্গার সাথে  ছবি তুলতে কে না চায় বলো। প্রতি বছর আমরা বাঙালিরা এই কয়টি দিনের জন্যই তো অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। ভাবি  কবে যে দূর্গা পুজো আসবে, পুজোর কেনাকাটা করা খাওয়া দাওয়া, আড্ডা, সব কিছু মিলে যেন দারুণ হইচই করে দিন গুলো কেটে যায় এক নিমিষেই। কি তাই না?


পার্থ : হুমম। সত্যিই তাই। এই কয়দিন অফিসও ছুটি থাকে।  একদম বিন্দাস কাটে দিনগুলো। চলো। এবার নাহলে অঞ্জলির সময় পেরিয়ে গেলে আর দেওয়া হবে না।


সোমা : ঠিক বলেছো। বাই দ্যা ওয়ে, তুমি কিন্তু বেশ ভালোই পরিপাটি করে শাড়ির কুচি ধরে দিতে পারো। তারিফ কিন্তু করতেই হবে। আমার একার কাঠামোয় আটপৌরে করে শাড়ি পরা সম্ভব হতো না যদি না হেল্প করতে।


পার্থ : তোমায় কিন্তু এই বাঙালিয়ানা আটপৌরে শাড়ির সাজে বেশ লাগছে। গিন্নি গিন্নি লাগছে একদম। মাথা ভর্তি রাঙা সিঁদুর। হাতে শাখা, পলা ঠিক যেন মা লক্ষ্মী। 


সোমা : আচ্ছা। এবার একটু তাড়াতাড়ি পা চালাও। আমার প্রশংসা পরে করলেও চলবে। 


পার্থ : এই, পাশাপাশি বসে কিন্তু অঞ্জলি দেব। 


সোমা : ধুর! তা আবার হয় নাকি। আমি তো মেয়ে, বৌ দের সাথে অঞ্জলি দিতে বসবো। বরের পাশে বসলে পাড়ার বয়োজ্যেষ্ঠদের রাগ হয়। 


পার্থ : হোক রাগ। আমি কি তোমার সাথে অঞ্জলি দিতে বসে প্রেম পিরিতি করব নাকি? স্বামী , স্ত্রী পাশাপাশি বসে ভক্তি ভরে মায়ের পায়ে অঞ্জলির ফুল দেবো। এতেই মা  দুর্গা প্রসন্ন হবেন। 


সোমা : তোমার বন্ধুরা বলবে বৌ পাগলা। আজকের দিনেও বৌ এর সাথে বসে অঞ্জলি দিচ্ছে।


পার্থ : বলে বলুক। জীবনের কিছু কিছু এমন স্পেশাল দিন গুলোয় জীবনসঙ্গিনীর সাথে কাটানোর অনুভূতিই আলাদা। তেমনই দূর্গা পূজা হলো বাঙালির ইমোশন। বাঙালির ঐতিহ্য। দূর্গা পুজো মানেই প্রেম, ভালোবাসার মেল বন্ধন। 


সোমা : বাবা! অনেক কাব্য করা হয়েছে। চলো এবার মণ্ডপে বসি গিয়ে। চলেই তো এলাম।


পার্থ : কি ভিড় হয়েছে গো। সবাই তো চলে এসেছে দেখছি।


সোমা : হুমম। তুমি তো ভাবছিলে  সবাই তো তোমার মতোই হয়তো দেরি করে আসবে। 


পার্থ : এই আবার ঝগড়া শুরু করলে তো ? দেরি কে করলো তুমি না কি আমি? তোমার শাড়ি পরতেই তো দেরি হলো।


সোমা : উফফ! সত্যি বাবা! তোমায় নিয়ে আর পারি না। ঠাকুর তলায় এসেও অশান্তি।


পার্থ : ওই দেখো ওখানটায় ফাঁকা আছে বসে পরি চলো। ঠাকুর মশাই এবার অঞ্জলির ফুল দিতে শুরু করে দিয়েছেন।


সোমা : হুমম। আর একটাও ফালতু কথা নয়। মন দিয়ে ভক্তি ভরে, মন্ত্র উচ্চারণ করে মায়ের পায়ে অঞ্জলি দেব। তারপর ছবি তুলব।


পার্থ : ঠিক আছে। 


সমাপ্ত


( এরপর দুজনে করজোড়ে, চোখ বন্ধ করে ঠাকুর মশাইয়ের বলা মন্ত্র উচ্চারণ করতে থাকলো। আকাশে বাতাসে আজ শারদ উৎসবের বাতাস। মা দুর্গার আগমনে চারিপাশে আজ খুশির জোয়ার। আজ দূর্গা পূজার মহাঅষ্টমী। সকলকে জানাই মহাঅষ্টমীর প্রীতি, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আর বড় দের আমার প্রণাম। )


দূর্গা পূজা (2026) স্পেশাল মহাঅষ্টমীর অঞ্জলির সময়টাকে কেন্দ্র করে একটি কথোপকথনের বর্ণনা দিলাম। কেমন লাগলো অবশ্যই জানাবেন। 









একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ