আমাদের এই সমাজে শিক্ষিত ভদ্র মানুষ যেমন আছেন তেমনই দয়া মায়া হীন জানোয়াররূপী মানুষের বাস ও আছে। কিন্তু অনেকেই বলবেন ভদ্র মানুষ এখন খুব বেশি নেই। শিক্ষিত হলেই কিংবা সম্মানজনক কোন কাজের সাথে যুক্ত থাকলেই যে তিনি ভদ্র তেমনটা নয়। ভদ্র মানুষ চেনার গ্রাফটা এখন সত্যিই বদলে গেছে।
আমরা যাঁকে বলা হয় জাতির মেরুদন্ড সেই শিক্ষক দের খুব শ্রদ্ধা, ভক্তি, করি। সমীহ করি। আমরা যারা নব্বই দশকের মানুষ কিংবা তারও আগেকার দিনের কথা বলছি শিক্ষক মহাশয়/ মহাশয়া দের রাস্তা- ঘাটে দেখতে পেলে প্রথমত ভয় তো পেতামই বুকটা ঢিপঢিপ করতো। আবার কাছাকাছি আসলেই নিচুগলায় জিজ্ঞাসা করতাম মাস্টারমশাই ভালো আছেন? কিংবা অনেক দিনের পুরোনো মাস্টারমশাইয়ের মুখোমুখি হওয়া মাত্রই প্রণামও করতাম।
অবশ্যই তারা এই সম্মানটা পাওয়ার যোগ্য। কারণ কথাতেই আছে বাবা- মায়ের পরেই গুরুর স্হান। কিন্তু বর্তমান সমাজে যাসব পরিস্থিতি সেইসব ঘটনা শুনলে সত্যিই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই। মনে দারুন ঘৃণার সৃষ্টি হয়। আমি পৃথিবীর সকল শিক্ষক- শিক্ষিকাদের উদেশ্য কথাটা বলছি না। গুটিকয়েক হাতেগোনা এমন শিক্ষক শিক্ষিকার আবির্ভাব হয়েছে যাদের জন্য এক - একটা পরিবারের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে।
সেইরকমই একটা গল্প আপনাদের সাথে আজকে আমি শেয়ার করতে চাই। আপনারা এতদিনে জেনেই গেছেন, আমি এখানে আমার ব্যক্তিগত জীবনের অনুভূতি, উপলব্ধির কথা শেয়ার করি। আজও তার ব্যতিক্রম নয়। গল্পটা অবশ্যই আমি বানিয়ে লিখি নি । যা জেনেছি সেটুকুই গল্পের আকারে রূপ দেয়ার চেষ্টা করছি।
ঘটনাটা বলতে গেলে গল্পটির এই দিকটিও আপনাদের একটু অবগত হতে হবে। তাই প্রথম থেকে একটু মানসম্মত দৃশ্যপট দিয়ে সাজালাম।
গ্রামের নাম পলাশবাড়ী। খুব সুন্দর গ্রাম্য এলাকা এটা। এখানকার বেশিরভাগ লোকেরাই চাষ- বাস করে দিন কাটায়। কেউ কেউ পরিবারে দুটো বেশি টাকা রোজগারের আশায় পরিযায়ী শ্রমিকের কাজও করেন। বিপিনও তেমন মেয়ে, স্ত্রী, আর বৃদ্ধ বাবা, মায়ের ভরণপোষনের জন্য ভীন দেশে কাজ করেন। সোনা- রুপার কাজ। প্রতিমাসে টাকা পাঠায়। দিন রাত এক করে কোনক্রমে মাথা গুঁজে ভীন দেশে থেকে অর্থ উপার্জন করেন আর অনেক অনেক স্বপ্ন বোনেন।
মেয়ে পড়ালেখা শিখে মানুষের মতো মানুষ হবে। চাকরি করবে। সমাজে বাবার মুখ উজ্জ্বল করবে। বৃদ্ধ বাবা মায়ের ওষুধ পত্র, মেয়ের পড়াশোনার খরচ, সংসার এত কিছু শুধুমাত্র চাষবাসের ওপর ভরসা করলে চালানো খুবই চাপের। তাই বিপিন এই সিদ্ধান্ত নিয়েই একদিন ঘর ছেড়েছিল। সে বহুবছর আগের ঘটনা। সদ্য বিয়ে হয়েছে তখন বিপিনের। অর্থ বেশি না থাক। তবু সুখের সংসার ছিল তার। চাষবাস করেই তখন দিন চলত। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বিপিনের বউ শিউলি অন্তঃসত্ত্বা হলো।
পরিবারে খুশির বন্যা। বিপিনও ভীষণ খুশি। দেখতে দেখতে একটার পর একটা উত্তেজনার দিন কাটতে কাটতে অবশেষে সেই দিনটা চলেই এলো। শিউলির কোল আলো করে এল এক কন্যা সন্তান। বিপিন ভালোবেসে নাম দিলেন পরী। সত্যিই এ যেন সেই পরীরই রূপ।
-আমাদের মেয়েকে সত্যিই খুব দেখতে সুন্দর হয়েছে বলো, কত্ত ঘন চুল হয়েছে। গায়ের রং যেন দুধ আলতা।
- বৌমা! মা হয়ে ওকথা বলতে নেই গো। এতে যে সন্তানের নজর লাগে।
শাশুড়ি মায়ের কথায় শিউলি মাথা নিচু করে। ঘাড় নাড়িয়ে সম্মতি দেয় আর কখনো বলবে না।
- আহ! মা, শিউলি না জেনে বলে ফেলেছে। আর কখনো বলবে না। তাছাড়া তোমাদের ওসব কুসংস্কার আমি মানি না। মেয়ে শুধু সুন্দর হলেই চলে না। তাকে শিক্ষায়, ভদ্রতায়, আচরণে যোগ্য মানুষ হতে হবে। আমাদের এখন এইসব নিয়েই ভাবা উচিত। পরী আমাদের ঈশ্বরের দেওয়া সন্তান। ভগবানের দেওয়া এই ফুলকে আমরা খুব যত্নে বড় করে তুলব। তাঁর দেওয়া এই দানকে আমাদের উচিত মানুষের মতো মানুষ করে তোলা। সে যেন সমাজে একজন যোগ্য ব্যাক্তিত্বের অধিকারিণী হয়।
- ওসব হতে গেলে তো , অনেক টাকার খরচ রে বিপিন। আমরা ছা- পোষা চাষী বাসী মানুষ। আমাদের ওত স্বপ্ন দেখতে নেই বাবা, সে তো অনেক অর্থের প্রয়োজন। আমার নাতনিকে আমরা সাধ্যমত সর্বস্ব দিয়ে আমরা বড় করে তুলব।
- না, মা.. আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছি আমি বাইরে যাব। সেখানে খাটতে পারলে টাকার অভাব হয় না। পরীকে অনেকদূর লেখাপড়া করাতে চাইলে এটুকু আমায় করতেই হবে। তাছাড়া মা, তোমাদেরও বয়স হচ্ছে। বাবার ওষুধ, সংসারের খরচ সবকিছু সামাল দিতে গেলে আমায় বাইরে যেতেই হবে। আমি খাটতে ভয় পাই না মা। আমার পরিবারের জন্য আমি সব কিছু করতে পারি । শিউলির বুকটা এক অজানা আতঙ্কে শিউরে উঠলো। দু- চোখে জল টলমল করছে। কোলে থাকা পরীর শরীরটাকে আরো একটু আঁকড়ে ধরলো।
- কিন্তু বিপিন...
- কোন, কিন্তু নয় মা..
- তুমি শিউলিকে আর পরী কে দেখো। আর শিউলি, তুমিও মা, বাবার যত্ন নিও।
ঘর ছাড়ল বিপিন। অজানা এক নতুন শহরে দু চোখে আকাশ সমান স্বপ্ন সাজিয়ে।
.............................................................................
এভাবেই কেটে গেল অনেক গুলো বছর। বিপিন প্রতি মাসে টাকা পাঠায়। আর তা দিয়ে শিউলি গোটা এই সংসারটিকে আগলে রাখে। সেই এখন এই সংসারের খুঁটি। শ্বশুর, শ্বাশুড়ির বয়স হয়েছে। বাধক্যজনিত কারণে তাদেরও নানারকম প্রেসার, সুগার এর বাতের ব্যথার ওষুধ লাগে। সাথে সিজনাল ছোটখাটো সর্দি- কাশি, জ্বর তো আছেই। সংসারের খরচ, মেয়ের পড়াশোনার খরচ, ওষুধ পত্র সব কিছুই শিউলি খুব হিসেব করে চালায় । আর বিপিনের পাঠানো অর্থে তাদের ভালোভাবেই সংসারটা এগিয়ে চলে। বিপিনও তিন- চারমাস ছাড়াই সপ্তাহ খানেকের জন্য বাড়ি আসে। পুজো পার্বনে ছুটি কাটাতে আসে। পরিবারের সকলের জন্য জামা কাপড় নিত্য প্রয়জনীয় জিনিস কিনে আনে।
এবারেও কালি পুজোর ছুটিতে বিপিন বাড়ি এসেছে। তাই পরিবারে এখন আরও আনন্দের দিন। কালীপূজা, জগতধাত্রী পুজো, নবান্ন একটা লম্বা ছুটি নিয়ে । পরী এখন অনেক বড় হয়ে গেছে। এবারে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। তাই বিপিনের চিন্তাটাও একটু বেশি। ও ভেবেছিল একটা বছর গ্রামে ঘরেই ছোটখাটো কিছু কাজ খুঁজে থেকে যাবে। একটা তো বছর। সাথে জমানো কিছু টাকা আছেই। বিপদে আপদে অসুবিধা কিছু হবে না। নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা কাউকে বলে নি। তারা জানে শুধু একটা মাসের জন্যই এসেছে।
অনেকদিন পর গাঁয়ে ফিরলে যা হয় আরকি। সব চেনা মানুষজনের সাথে দেখা, আলাপ, আড্ডা এসবেই দিন কেটে যায়। তার ওপর আবার আকাশে, বাতাসে উৎসবের মেজাজ।
এইরকমই একদিন চায়ের দোকানের আড্ডায় বিপিন বসে চা খাচ্ছে। পাড়ার আরো অনেকে এসেছে। চা খাচ্ছে। আড্ডা চলছে তুমুল। পুজো, পলিটিক্স, চাষবাস সবকিছু নিয়ে তুমুল আলোচনা। এমন সময়,
- আচ্ছা, বিপিন তোর মেয়ের যেন কোন ক্লাস হলো।
গরম চায়ে একবার চুমুক দিয়ে ঢোক গিলে বিপিন বলল, এই তো এবছর মাধ্যমিক দেবে। ভাবছি এ বছরটা এখানেই থেকে যাই। ছোটখাটো একটা কাজ ঠিক খুঁজে নেব। শিউলি একা হাতে আর কত সামলাবে!
- ভাবনাটা মন্দ নয়। যতই হোক এটাই স্কুল জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। বলছি, আমাদের সনাতন বাবুর ছেলে অশোক নাকি ভালো অঙ্ক করায়। ওর কাছে পড়ে অনেক ছেলে মেয়েই ভালো নম্বর পেয়ে সায়েন্স নিয়ে ইলেভেনে ভর্তি হয়েছে। দেখতে পারিস তোর মেয়ের জন্য। সুবীর দার ছেলেটাও তো ওর কাছেই পড়তো এবারে ইঞ্জিনিয়ারিং এ চান্স পেয়েছে।
- সত্যি! তাহলে তো বেশ ভালোই হল। অন্য জায়গায় আর সময় নষ্ট করে যেতে হবে না। গ্রামে ঘরেই মাস্টার পাওয়া যাচ্ছে যখন।
বিপিন চায়ের ভাড়টা ডাস্টবিনের মধ্যে ফেলে বাড়ি না গিয়ে আগেই সনাতন বাবুর বাড়ির দিকে এগোতে থাকলো
- সনাতন বাবু, বাড়ি আছেন? বন্ধ দরজার বাইরে থেকে বিপিন হাক দিল। বাইরে থেকেই সে আঁচ করতে পারলো অনেক গুলো পড়ুয়ার গলা।
- হ্যা বলুন বিপিন কাকু
- হ্যা, তুমি অশোক তো। শুনলাম তুমি নাকি অঙ্ক শেখাও। তাহলে, আমার মেয়ে পরী কেও তোমায় একটু শিখিয়ে দিতে হবে। তোমার কি সময় হবে? মানে আর কি ভর্তি করানো যাবে?
- হ্যা, আমি এইসবে একসপ্তাহ হলো নতুন সব ব্যাচ শুরু করেছি। ও কোন ক্লাসে পড়ে?
- এই তো, এবছর মাধ্যমিক দেবে। সে জন্যই তো তোমার কাছে আসা, অশোক। ভাবলাম গ্রামেই যখন এত ভালো টিচার আছে, তবে আর ভাবনা কিসের ? তুমি আমার মেয়েটাকে তোমার বোনের মত করে একটু শিখিয়ে দিও বাবা অশোক। ওকে নিয়ে আমার অনেক উচ্চ আকাঙ্খা। ও আমার একমাত্র সন্তান।
- আচ্ছা, কাকু আপনি ওত চিন্তা করবেন না। সে আমি ঠিক ওকে তৈরি করে নেব। আপনি ওকে আগামী পরশু বুধবার দিন থেকেই আসতে বলবেন। আমার ব্যাচটা শুরু হয় সন্ধ্যে সাতটা থেকে।
- সন্ধ্যে বেলা? সকালের ব্যাচে ওকে পড়ানো যায় না? দেখো না কোন ভাবেই সম্ভব নয়?
- না, কাকু। সকালের দিকে আমার ছোট দের ক্লাস থাকে। উঁচু ক্লাসের আমি সন্ধ্যের দিকেই পড়াই।
- আচ্ছা, আজ চলি তবে। বুধবার তবে পরীকে পাঠিয়ে দেব।
বিপিন সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে বাড়ির দিকে পা বাড়াল। মাথার ভিতর ঘুরতে থাকলো সন্ধ্যের দিকে মেয়েকে পড়তে পাঠানো কি ঠিক হবে? দিন কাল ভালো নয়। চারিদিকে সব মদ মাতালের আড্ডা। পাড়া গাঁ হলে কি হবে প্রতি রাতেই এখানে চোলাই মদের আসর বসে।
- নাহ! এবার এখানেই একটা কাজ জুটিয়ে নিতে হবে দেখছি !
বাড়ি ফিরে ...
পরী, পরী... পরীরে...
-উফফ! কোথা থেকে আড্ডা দিয়ে এসে , সারাবাড়ি চিৎকার করে মাথায় তুলে ফেলল। বলি, ভুলে গেছো নাকি, পরী সকাল বেলা ইংরেজি পড়তে দিদিমণির বাড়ি গেছে। আমি তাড়াতাড়ি রান্না সারছি। এসেই মেয়েটা স্নান করেই দুটো ভাত মুখে দিয়েই স্কুল ছুটবে। সময় মত রান্নাটা না হলে খেয়ে যেতে পারবে না মেয়েটা।
- ওহ ! তাই তো গিন্নি। আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম। আসলে একটা ভালো খবর আছে। আমাদের পরীর জন্য ভালো এক খান অংকের মাস্টার পেয়েছি।
মশলা বাটা হাত দুটো গামলায় রাখা জলে দুবার চুবিয়ে আঁচলে মুছতে মুছতে শিউলি বললো, কোথায় গো ? সত্যিই একটা অংকের মাস্টারের খুব দরকার ছিল। সামনেই মেয়েটার মাধ্যমিক।
- তবে আর বলছি কি ... সেই কাজটাই তো এক্কেবারে মিটিয়ে ঘরে ফিরলাম। আমাদের গ্রামের সনাতন বাবুর ছেলে অশোক ও তো অংকের টিউশন করে। খুব ভালো মাস্টার। অনেক ছেলে মেয়ে ওর কাছে পড়ে ভালো রেসাল্ট করেছে।
- বাবা! তাই নাকি ! তাহলে তো বেশ ভালোই হলো। তোমার রাজকন্যাও এবার অংকে ভালো নম্বর পাবে।
- কিন্তু, ক্লাস টেনের ব্যাচটা সন্ধ্যে বেলা।
- তা হোক। পাশেই তো বাড়ি। বেশিক্ষণ তো যেতে আসতে লাগবে না। পরী বাড়ি ফিরলে ওকে খবরটা দিও। আমি দেখি, তরকারিটা পুড়ে গেল নাকি । নাবিয়ে দিয়ে আসি।
....................................................................
- হ্যাঁ, রে পরী মা.. আজ নতুন মাস্টারের কাছে অঙ্ক শিখতে কেমন লাগলো?
- ভালোই ।
কোনমতে উত্তরটা দিয়ে পরী তড়িঘড়ি ঘরে ঢুকে কপাটটা বন্ধ করলো।
শিউলি ভাবলো, পরী জামা পাল্টাতে দরজা বন্ধ করলো।
- তা বেশ, ভালো করে প্র্যাকটিস করিস ঘরে অঙ্ক গুলো। সামনেই তো মাধমিক পরীক্ষা। অঙ্ক এ ভালো নম্বর করলে শুনেছি ইঞ্জিনিয়ারিং এর পরীক্ষায় বসা যায়।
মায়ের কথা গুলো যেন পরীর কানে এসেও মগজাস্ত হলো না। ও এক দৃষ্টিতে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রইলো।
- তবে কি আমারই ভাবনার ভুল! ভুল ভাবছি! প্রথম দিনই স্যার ঐভাবে আমার দিকে চেয়েছিলেন কেন? স্যারের চাউনিটা মোটেও সুবিধার নয়। না , না... আমারই কোথাও একটা ভুল হচ্ছে। কিসব উলটপালটা ভাবছি। স্যারের কাছে ওত ছেলে মেয়ে পড়তে আসে। ঐরকম হতেই পারেন না স্যার। এ আমার মনের ভ্রম।
এভাবেই একটার পর একটা দিন কেটে যায়। দেখতে দেখতে হাফ ইয়ারলি পরীক্ষার সময়ও চলে আসে। পরী র কাছে আসতে আসতে ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যায়। স্যার মোটেও সুনজরে তাকে দেখে না। তাঁর কুদৃষ্টি সে ভালোভাবেই লক্ষ করেছে। কিন্তু বাড়ির কাউকে সে কথা বলতে সাহস হয় নি। অনেকবার আভাসে, ইঙ্গিতে মা কে বোঝাতে চেয়েছে । কিন্তু শিউলি সে কথা বুঝতে পারে নি। উল্টে ভেবেছে মেয়ের বুঝি অঙ্কের প্রতি অনীহা জন্মেছে।
-কাছেপিঠে ভালো মাস্টার পেয়েছি। এই গ্রামে ঘরে ভালো অঙ্কের মাস্টার পাওয়াই এখন যায় না। ওমন করিস না পরী। যেটা বুঝতে পারছিস না স্যারকে ভালো ভাবে বললেই স্যার বুঝিয়ে দেবেন।
পরী কিছুতেই বলতে পারে না তার মনের কথা গুলো। এদিকে শিউলি স্বামীর কাছে মেয়ের নামে অভিযোগ এর ঝুড়ি খুলে বসে।
- তোমার মেয়ের মতিগতি ভালো ঠেকছে না। সামনেই মাধ্যমিক পরীক্ষা। তার কিনা ওই স্যারের কাছে অঙ্ক শিখতে যাওয়ার ইচ্ছা নেই।
ভ্রু কুঁচকে বিপিন - কিন্তু কেন? পরীর সাথে ভালো করে এ ব্যাপারে কথা বলছো? সমস্যাটা কি জানতে হবে তো?
- ধুর, সমস্যা কিছুই না। উঁচু ক্লাসের অঙ্ক বলে হয়তো ভয় পাচ্ছে।
বিপিনের মন থেকে সংশয় কাটলো না। সে শিউলিকে কিছু না বলেই পরদিন সকাল বেলা অশোকের বাড়ি পৌঁছে গেল।
0 মন্তব্যসমূহ