একতরফা ভালোবাসা ( ভালোবাসা মানেই শারীরিক চাহিদা নয়, ভালোবাসা মানে বিসর্জন)

 যে মানুষকটিকে বাহ্যিক দিক থেকে দেখলে বেশ প্রাণ বন্ত, স্বতঃস্ফূর্ত মনে হয় মানুষটির অন্তরটা তেমন নাও হতে পারে। খুব ছটফটে , প্রাণ চঞ্চল তরুণী মেয়েটার জীবনেও প্রেম আসে। খুব গভীরে। অনর্গল বকতে থাকা যে মেয়েটাকে এক মিনিটও বোবা হয়ে থাকতে দেখা যায় না, সেই মেয়েটাই নিজের সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি গুলোর কথা গোপনে রাখে। খুব সন্তর্পণে তাকে লালন করে।


 সে জানে তার চাওয়া- পাওয়ার ইচ্ছেগুলো হয়তো বাস্তবে সম্ভব নয়। তবু মনের গভীরে জন্মানো ভালোবাসাকে সে বিসর্জন দিতে পারে না। হোক না সেই প্রেম একতরফা। তবু সেই প্রেমে গভীরতা আছে, পবিত্রতা আছে, ধ্যান আছে, দু পলক দেখার কামনা আছে। এত কিছুও কি খুব কম? এটুকু নিয়েই সে বাঁচতে চায়। এই ভালোবাসায় শরীরের চাহিদা নেই, স্পশ নেই, বাস্তব নেই। আছে অনাবিল মানসিক শান্তি। আর রাত জেগে নিত্য নতুন ছকে ভালোবাসার সংসার। 

এমনই একটি ছোট গল্প আমি লিখতে চলেছি। ভীষণই ছোট। আমার জীবনদর্শনে উপলব্ধি করা এটি একটি সত্য কাহিনী। 

আমি  বিয়ে হয়ে যখন এই সংসারে আসি তখন আমার সমবয়সী এখানে কেউ ছিল না। আমার বর খুব অল্প বয়সেই বিয়ে করেন। তাই ওর সমবয়সী কোন ছেলের তখন বিয়ে হয় নি। তাই প্রতিবেশী আমার বয়সী বিবাহিতা কাউকে সেভাবে তখন বান্ধবী হিসাবে পাই নি। আর হ্যাঁ, আপনারা তো জানেনই আমার গ্রামের দিকে বিয়ে হয়েছে। আমার বর এই পরিবারের একমাত্র ছেলে। তাই আত্মীয়তা সূত্রেও আমার কোন ননদ, দেওর নেই। 
খুব একা লাগতো তখন। আমার বাবার বাড়ি বনেদি পরিবার। একসঙ্গে আমরা বাইশ জন মেম্বার থাকতাম। সেখান থেকে এসে এই ছোট পরিবারে মানিয়ে নিতে প্রথম দিকে ভীষণ কষ্ট হত। যাই হোক, আসল গল্পে আসা যাক। 
আমার সেই একাকিত্বের অবসান ঘটলো যখন আমার সাথে পরিচয় হলো টিনার। টিনার বাড়ি আমার শ্বশুর বাড়ির পাশেই। ও আমার প্রতিবেশী। বয়স তখন ওর সতেরো। ইলেভেনে পড়ে। আমার মনে আছে, একদিন সকাল বেলায় হন্তদন্ত হয়ে হাঁক দিতে দিতে এলো - কই গো কাকিমা, নতুন বউ কই? নতুন বউকে দেখতে এলাম। 
আমার শ্বাশুড়ি মা রান্না করছিলেন হাসতে হাসতে রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে এসে রসিকতার ঢঙে বললেন,
- খুব যে বড় বউ দেখতে এসেছিস! বিয়েতে তো এলি না। আর এখন বউ দেখার জন্য এত হাকাহাকি। দেখাবো না। 
আমি ঘরের জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখলাম একটা প্রাণবন্ত তরুণী মেয়ের সাথে আমার শ্বাশুড়ি মা কথা বলছেন। মেয়েটি হাত নাড়িয়ে অনর্গল কথা বলে চলেছে। 
আমার শ্বাশুড়ি মা সেই প্রথম ওর সাথে আমায় আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন। বয় কাট চুল। উজ্জ্বল শ্যাম বর্ণ চেহারা। পরণে টি- শার্ট আর ক্যাজুয়াল প্যান্ট। হাতে একটা বালা। চলনে গরনে ওই একটু ছেলেলি ভাব। নাক, চোখের গঠন দেখলেই বোঝা যায় ভগবান গায়ের রংটার হিসাব টা মুখমণ্ডলের আঁকিবুকিতে সম্পূর্ণ পুষিয়ে দিয়েছেন।
তারপর থেকে সেই হলো আমার শ্বশুরবাড়িতে প্রাণের দোসর। জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কেন তুমি আমাদের বিয়েতে আসো নি? 
উত্তরে শ্বাশুড়ি মা বলেছিলেন, ও আসলে খেলাধুলায় খুব ভালো। ক্রিকেট অন্তপ্রাণ ও। আর খেলেও দারুন। মেয়েদের টিমের সাথে ও অনেক জায়গায় খেলতে গেছে। স্কুল থেকেও অনেক জায়গায় খেলতে নিয়ে যায় ওকে।  অনেক প্রাইজ পেয়েছে। জেলার হয়েও ও ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছে। বাইরে খেলতে যাওয়ারও ইচ্ছা আছে। 
টিনাকে আমার বরাবরই খুব ভালো লাগে। সেই যে আমাদের বন্ধুত্ব হলো যা এখনো অটুট। তবে এখন ওর সেই আগের মতো প্রাণচঞ্চল মনটা আর নেই। এখন ও অনেক কর্তব্যশীল। একটা পুরো সংসারের দায়িত্ত্ব এখন ওর কাঁধে। সারা পাড়া ওকে খুব ভালোবাসে। একমিনিট ও ওর মুখ বন্ধ থাকত না। আমার শ্বাশুড়ি মা তো ওকে নামই দিয়েছিলেন "খরখরি"। 
ফিরে যাই আমার বিয়ের শুরুর দিকে ঘটনা গুলিতে। টিনাকে তখন অনেকটা ছেলেদের মতোই দেখতে লাগতো। স্কুলে মেয়েদের টিমে খেললেও পাড়ায় সব ছেলেরাই ছিল ওর বন্ধু। ওদের সাথেই ও সারাদিন ম্যাচ খেলত। ওর বয়সী মেয়েদের সাথে ওর ওত বেশি মিল ছিল না।  ড্রেসিং সেন্স গুলোও ছিল ছেলেদের মতোই। জিন্স প্যান্ট, থ্রী কোয়ার্টার, টি- শার্ট এসবে তেই বেশি সাছন্দ্য বোধ করতো।  আমার সারাদিনের কাজের ফাঁকে একবার করে ও রোজই দেখা দিয়ে যেত। সাথে একটু আড্ডা, গল্পও হত।
ওর বয়সী মেয়েরা যখন সদ্য যৌবনে আসা প্রেম, ভালোবাসা এসব নিয়ে মত্ত তখনও ও রোদে, বৃষ্টিতে ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে ব্যস্ত। আমি ওকে ঠাট্টা করে বলতাম তুমি বুঝি সারাজীবন এইরকমই থাকবে? বিয়ে - থা করবে না? তোমার সমবয়সী সবাই দেখো কি সুন্দর মোবাইলে গুজুর গুজুর করছে, ক্লাস ডুব দিয়ে সিনেমা দেখতে যাচ্ছে, পার্কে টাইম কাটাচ্ছে তোমার এইসব ইচ্ছা করে না? 
এইসব প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বললেই ও হেসে উড়িয়ে দিত। 
- ওসব প্রেম- ট্রেম ন্যাকা ন্যাকা কথাবার্তা আমার সংবিধানে নেই বুঝলে বৌদি। আরে আমায় কোন ছেলে ওই চোখে দেখেই না। 
আমিও ওর বাহ্যিক রূপ দেখে মনে মনে এটাই ভাবতাম। ও যে ভাবে থাকে অর্থাৎ ওর লাইফস্টাইল যেরকম কোনো ছেলে ওর প্রেমে চট করে পরবে না।
কিন্তু প্রেম, যৌবন এসব প্রকৃতির একটা অমোঘ নিয়ম। মানুষ যতই সেসব থেকে দূরে থাকুক তবু মনকে সে দমিয়ে রাখতে পারে না। তারই জেরে একদিন টিনার জীবনেও প্রেম এলো। ভালোবাসা এল। কিন্তু তা অন্যভাবে। ওর জীবনে ভালোবাসার সংজ্ঞা টাই অন্যভাবে রয়ে গেল। এই কয়েকটা লাইন যতটা সহজ বাক্যে লিখে দিলাম। অতটাও সহজ ছিল না জার্নিটা। টিনা আমায় তার জীবনের সবকিছুই শেয়ার করত।
কিন্তু দুঃখের বিষয় তার এই একতরফা প্রেম, নীরবে ভালোবাসা, তিলে তিলে কষ্ট পাওয়া - এসব কোন কিছুই সে আমায় বলে নি প্রথমে। বাইরে থেকে মেয়েটাকে কত ছটফটে, চঞ্চল ভেবেছি। ছেলেদের সাথে খেলতে যাওয়া, দুর্গা পুজোর চাঁদা কাটতে যাওয়া। ছেলেদের সাথে ক্লাবে তাস পর্যন্তও পিটিয়েছে। আমি তো প্রথম থেকেই বলেছি ও খুব ভালো ক্রিকেট খেলে। বিভিন্ন জায়গায় ক্রিকেট ম্যাচ খেলত। তাছাড়া কলকাতায় প্রাক্টিসেও যেত। 
পরবর্তী কালে খেলাধূলার সূত্র ধরেই একদিন টিনা একটা ভালো সরকারী চাকরিও পেয়ে গেল। ও যেন পালিয়ে বাঁচলো। চাকরি পাওয়ার কিছুমাস আগে থেকেই আমি লক্ষ্য করতাম ওর হাসি খুশি চটপটে সেই শান্ত স্বভাবটার যেন একটু ভাটা পরেছে। জিজ্ঞাসা করলে কিছু বলতে চাইতো না। হেসে উড়িয়ে দিত। আমি ওর জীবনের গভীর রাতগুলোর ক্ষতের ইতিহাস গুলো জেনেছি ওর চাকরি পাওয়ার বেশ অনেকগুলো দিন পর। 
ততদিনে ঝড় থেমে গেছে। আকাশ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেছে। মনের জমানো ভালোবাসার মেঘ গুলো বৃষ্টি হয়ে গাল বেয়ে নেমে অনেক রাত একা কেঁদেছে। একদিন গেলাম ওদের বাড়ি। ওর সেদিন ছুটির দিন।  অনেক্ষণ গল্প করলাম। ও এখন অনেক বেশি পরিণত। ভাবলাম মানুষ সময়ের সাথে সাথে সত্যিই কত বদলে যায়। 
আমার বিয়েই হয়েছে এগারো বছর পেরিয়ে যেতে চলল। আর এত গুলো বছরে ওরও তো পরিবর্তন হওয়াই স্বাভাবিক। মানুষ কি আর চিরটাকালই ছেলেমানুষি করে দিন কাটায় ! সেও তো একদিন পরিণত হবে। চোখের সামনে মেয়েটাকে এভাবে বদলে যেতে দেখলাম। তার বাহ্যিক রূপেরও বদল হলো। বয় কাট চুল বেড়ে ঘাড় ছুঁয়েছে। চুড়িদার, শাড়ি তেই নিজেকে এখন অভ্যস্ত করে নিয়েছে। আসলে টিনার বাবার আকস্মিক মৃত্যু তাকে আমূল পাল্টে দেয়। চরম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। ও ছাড়া যে ওর মায়ের আর কেউ নেই।
আমরা সাদা চোখে ভেবেছিলাম শুধু মাত্র পিতৃ বিয়োগই টিনাকে এতটা বাস্তববাদী করেছে। কিন্তু গভীরের তথ্য জানার পর এক অদ্ভুত ঘটনার নীরব সাখহী হয়ে রইলাম। সবটা শুনে  আমার কিছুই করার ছিল না। কিংবা ওকে ইতিবাচক, নেতিবাচক কি পরামর্শ দেব সেটাই ভাবতে পারছিলাম না। কি সাংঘাতিক! একটা একরত্তি মেয়ে একা একা সবটা সামলেছে। 
ওর জীবনেও ভালোবাসা এসেছিল, প্রেম এসেছিল। আর এতদিন পর আমার সাথে সেটা শেয়ার করলো। ভালোবেসেছিল পাশের পাড়ার শান্তনুকে। কিন্তু সে কথা  কাউকে বলে নি। নিজের মধ্যেই সে প্রেম কে রোজ সেবা করত। ভালোবাসতো। এক তরফাই সেই ভালোবাসাকে নিয়ে সে স্বপ্ন বুনত। একদিন নাকি টিনাই তার প্রেম নিবেদন নিয়ে শান্তনুর সামনে এসে দাঁড়ায়।
সে কি বীভৎস উপেক্ষা। অপমানিত হাসি। তির্যক বাক্যালাপ। শান্তনুর এ হেন ব্যবহার তাকে দগ্ধে দগ্ধে মেরে ছিল। এত বড় অপমান সে সহ্য করতে পারে নি। তার এই ছেলেমি স্টাইল, চালচলন এসব দেখে শান্তনু ভালোবাসার প্রসঙ্গ তো দূরে থাক, উল্টে বলেছিল তোর সাথে আবার কোন ছেলে প্রেম করবে নাকি? ভাবলি কি করে ? নিজের চেহারাটা একবার আয়নায় দেখে আয়। সেদিনের পর থেকে টিনা আর কোনোদিনও শান্তনুর সামনাসামনি হয় নি।
তাছাড়া টিনা জানতোও না শান্তনু আমাদের পাড়ারই অন্য একটা মেয়েকে ভালোবাসে। শান্তনু চাইলেই পারতো টিনার এই ভালোবাসার কথা, তার দেওয়া প্রস্তাব নিজের মধ্যে গোপন রাখতে। কিন্তু শান্তনু একটা মেয়ের ভালোবাসা নিয়ে, সরলতা নিয়ে তাকে চরম বিদ্রূপ করেছিল। টিনার ভালোবাসার কথা তাচ্ছিল্যের স্বরে পাড়ার সব বন্ধু- বান্ধবীদের বলেছিল। লজ্জায় টিনার মুখ দেখানোই দায় হয়ে পরে। তবু সে শান্তনু কে একটা কথাও আর বলে নি। 
সেই দিনের চরম প্রত্যাখ্যানের পর টিনা আর কোনদিনও শান্তনুর মুখোমুখি হয় নি। প্রেম প্রস্তাবের অনেক দিন আগে থেকেই টিনা  মনে মনে ভালোবেসে ফেলেছিল শান্তনুকে। ওর অবচেতন মন বুঝতে পেরেছিল এ ভালোবাসা কখনো পূর্ণতা পাওয়ার যোগ্য নয়। তাই একতরফাই নিজেই ভালোবাসতো। প্রকাশ না করেই তাকে নিয়েই রাতের পর রাত অনেক ভালোবাসার ঘর বোনে সে। তার ভালোবাসায় শারীরিক উপস্থিতি ছিল না। ছিল ভালোবাসার স্বপ্ন, মায়া। 
আর সেই মায়া এখনো সে ত্যাগ করতে পারে নি। সেই মনটাকে সরিয়ে অন্য কোনো স্বপ্নে পাড়ি দিতে সে চায় নি। অবাস্তবের অলিগলি বেয়ে সে এভাবেই তার এই অপূর্ণ প্রেমকে পূর্ণতা দিতে যায়। বাস্তবে যে শান্তনু তাকে বিদ্রূপ করে, ও বলে অচেতন স্বপ্নে সেই নাকি তার সাথে ঘর বাঁধে, সংসার করে। নিত্যনতুন ঝগড়া- অভিমান - ভালোবাসায় তার প্রতিদিনের স্বপ্ন শেষ হয়।
টিনার মুখে এসব কথা শুনে আমি বাস্তব আর অবাস্তব এর মুখমুখি দাঁড়াই। তার এই অনুভূতির বর্ণনা, ব্যাখ্যা হয়তো তার কাছে অমোঘ সত্য। বয়সে বড় হয়েও ওর গুরুজন হয়েও এ ব্যাপারে আমি ওকে কোনো জ্ঞান দেয়ার সাহস খুঁজে পাই নি। শুধু মনে হয়েছে জীবনটা ওর। সিদ্ধান্তটাও ও নিজে যেটা নেবে সেটাই হয়তো ঠিক। 
ওর যদি মনে হয় বাকি জীবনটা আমি এভাবেই কাটিয়ে দেব। সেটা ওর ব্যক্তিগত ব্যাপার।
সত্যিই প্রেম এক তরফাও হয়। আজও টিনা মন থেকে ভালোবাসে সেই শান্তনুকেই। নিজের মনে গেঁথে বসা প্রেমকে সে বিসর্জন দিতে পারে নি। তারই মধ্যে আসে পরিবারের সেই অভাবনীয় ঘটনা। টিনার বাবা মারা যান। সেইসময়ে মেয়েটা সব কিছু একাই সামলেছে। মনের সাথে মনের যুদ্ধ, প্রিয়জন হারানোর দুঃখ সব মিলেমিশে মেয়েটাকে কেমন একটা শক্ত খুঁটির মতো করে দিয়েছে।
সব কিছু শুনে তবু আমি টিনার কাঁধে ভরসার হাত খানি দিয়ে বলেছিলাম তোর মত মেয়েকে আমি কুর্নিশ জানাই রে। কবে যে তুই আমার চোখের সামনে এত বড় হয়ে গেলি, পরিবারের দায়িত্ব নিতে শিখে গেলি, মনের কষ্ট গুলো লুকিয়ে রাখতে জেনে গেলি তোর খুব কাছের বন্ধু হয়েও তা টের পেলাম না। তোর জায়গায় থাকলে আমি হয়তো নিজেকে নিয়ে খুব খারাপ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতাম। 
সত্যিই মানুষের বাইরেটা দেখে খুব সহজেই ভেবে বসি এর লাইফটা খুব স্মুথ। কোনো চিন্তা নেই, ভাবনা নেই। রিল্যাক্স এ জীবনযাপন করে। কিন্তু আসল টুইস্ট হলো অন্য জায়গায়। কে কিভাবে তার জীবনটা বাইরের জগতের কাছে তুলে ধরবে সেটা তার স্টাইল। কেউবা একটুতেই ভেঙে পড়ে তার দুর্বলতাকে লোকের চোখের সামনে তুলে ধরে। কারো মন আবার খুবই নরম কিন্তু বাইরে থেকে সে খুবই গম্ভীর। আমাদের টিনার চরিত্রটাও ঠিক সেরকমই। ওর বাইরের পৃথিবীটা দায়িত্ব, কর্তব্যে অটল। আর ভিতরে সে একজন খাঁটি প্রেমিকা। যে প্রেমকে সে এখনো বাঁচিয়ে রেখেছে। লালন করে একতরফা। কোন আশা ছাড়াই। 
আমি চাই এভাবেই টিনার জীবন এগিয়ে চলুক। একতরফা ভালোবাসা মানেই যে দুঃখ তা নয়। ওকে তো দেখি ও বেশ ভালো আছে। চাকরী করছে । পরিবারের একজন হেড হয়ে সব কিছু সামলাচ্ছে। জীবনে ওকে ঠকিয়ে যাওয়ার মত কেউ রইলো না। কারো জন্য অভিমানও হবে না, রাগও হবে না। একা বাঁচো। ভালোবাসাকে নিত্য দিন পুজো করো। যত্ন নিও । এভাবেই কেটে যাবে বাকি জীবনটা। 
অনেকেই হয়তো আমার সাথে দ্বিমত হবে। কিন্তু এ সংসারে যত সম্পর্কের বাঁধনে আমরা আবদ্ধ হবো ততই কষ্ট বাড়বে, দায়িত্ব বাড়বে। ভালোবাসা কখনো হাসাবে কখনো কাঁদাবে। তার থেকে ভালো নিজের ব্যাক্তিগত জীবনটার যত্ন করা, নিজের ছোট ছোট ইচ্ছে, অনিচ্ছে গুলোকেও সম্মান করা। 
আজকের ব্লগটা এত টুকুই। আবার ফিরবো। নতুন কোন লেখা নিয়ে। সকলে ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ