শিরোনাম : গৃহবধূ দেরও নিজস্ব কিছু রোজগার থাকা উচিত ( কিছু দুঃখ একান্তই নিজের)
নমস্কার বন্ধুরা,
সকলে কেমন আছেন? আশা রাখছি ভালোই আছেন। আমিও ভালো আছি। আজকের ব্লগ টা যখন লিখছি তখন বাজে রাত 10: 27 মিনিট। ঠিক এই সময়েই এই লাইনটা লিখছি। আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো আমার জীবনের আজকের একটা স্পেশাল মুহুর্তে র ঘটনা। জানি না, এই ঘটনার মতো কোন ঘটনা আপনাদের সাথে ঘটেছে কিনা। যদি জীবনে কোনোদিন এই রকম কোন পরিস্থিতির মধ্য পরেন সত্যিই মন টা কেমন হয় বলুন তো?
ঘটনাটা হলো,
রোজকার মতো বিকেল বেলা ৩:৩০ সময় আমি ডিনারের জন্য রুটি করতে রান্নাঘরে যাই। 4:00 এর মধ্যেই ডিনার এর আয়োজন শেষ করে নিই। তারপর 4: 05 নাগাদ ছেলে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরে। ওকে খাইয়ে, রেডি করে দিই। ও একটু খেলতে যায়। আর আমি একটু হাঁটতে বেরোই। পাশের বাড়ির একজন এর সাথে। সম্পর্কে আমার জা হয়। হাঁটতে বেরোনোর আগে যে আগে রেডি সেই আগে ফোন করে বলে রেডি হয়ে গেছি। বাঁশ তলার কাছে এসো।
আজ ও ভেবেছিলাম ওই সময় জা ই ফোন করেছে। শাড়িটা পরতে পরতে ব্যস্ত হয়ে ফোন টা হাতে নিয়ে দেখলাম ও নয়। পাশের বাড়ির ই একজন পিসিমা ফোন করছেন। উনি শাড়ি বিক্রি করছেন রিসেন্ট। আমায় ফোন করে বললেন, ভালো শাড়ি এসেছে। পাড়ার সব বউ রা আনতে বলেছিল যে রকম শাড়ি ঐরকম। চলে আয় দেখবি তো ?
বললাম - কোথায়? কিন্তু আমি তো এখন শাড়ি নেব না। আর আমার কাছে টাকাও নেই।
পিসিমা বললেন, - আরে, নাই বা নিবি। দেখতে তো দোষ নেই। কটন হ্যান্ডলুম, বাটিক, কটন শাড়ি। খুব দামি নয়। 700/ 800 এর মধ্যে। সবাই আসবে দেখতে চলে যায়।
- কোথায়?
পিসিমা বললেন, আমাদের পাড়ার মধ্যে ঠাকুর মাঠে। মানে যে মাঠে আমাদের দুর্গা ঠাকুর আসে।
শাড়ির প্রতি সকল মেয়েদের ই একটা আলাদা টান থাকে। আমারও আছে। পিসিমা কে বললাম , ঠিক আছে 10 মিনিটের মধ্যেই আসছি। ফোন টা রেখেই আবার পাশের বাড়ির জা ফোন করে বৃত্তান্ত টা বললাম। আর ঠিক করলাম, আজ আর হাঁটা নয়। শাড়ি ই দেখতে যাবো।
এ যেন আনন্দ মেলা বসেছে : মহিলাদের আড্ডা
দুজনে যখন ঠাকুর মাঠের কাছাকাছি এলাম , সেখান থেকেই পাড়া র বউ দের হাসাহাসি, কোলাহল এর আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা বলাবলি করতে করতে যাচ্ছি, বাবা গো! যেন চাঁদের হাট বসেছে। সবাই মনে হয় এসে গেছে। আমরা দুজনেই কেবল বাকি আছি। যাই হোক, পৌঁছে দেখি পিসিমা শাড়ি ভর্তি ব্যাগ গুলো পাশে রেখে, সব শাড়ির সম্ভার নিয়ে সকলের মাঝে বসেছেন। তাকে ঘিরে পাড়ার সব বউ রা কোলাহল জুড়ে দিয়েছে।
কে, কোনটা নেবে এই নিয়ে তুমুল মিটিং চলছে। আমরা যেতেই তাদের যেন আরো আনন্দ হলো। সবাই একসাথে বলে উঠলো, এরা দুটোতেই বাকি ছিল। যেন ষোল কলা পূর্ণ হলো। এসো , বসো। দেখো পিসিমা কত সুন্দর সুন্দর শাড়ি এনেছে।
কাকে কোনটা মানাবে এ নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। লাল, সবুজ, নীল গোলাপি নানারকম শাড়ি তে সেজে উঠেছে হাট। সত্যিই ভীষণ সুন্দর শাড়ি গুলো। খুব সফট। বাটিক এর কটন শাড়ি ছিল। মলমল শাড়ি ছিল। নরমাল সুতির শাড়ি, ব্লাউজ, জরি পাড় কটন । এই ধরণের শাড়ি ছিল।
গ্রামের দিকে তো নিত্য প্রয়োজন এ এই শাড়ির চাহিদা খুব বেশি। দাম টাও সকলের সামর্থ্য র মধ্যে থাকে। আমার জা ও দুটো শাড়ি নিল। ওর শাড়িটা চন্দন কালার এর । হালকা রং। হ্যান্ডলুম। এর সাথে মেরুন ব্লাউজ পরলে ভীষণ সুন্দর লাগবে। আর একটা আকাশি রং এর ছাপা শাড়ি নিয়েছে।
সবাই যে যার পছন্দ মতো শাড়ি বেছে নিচ্ছিল। আমরও মন টা হচ্ছিল দুটো শাড়ি নিই। কিন্তু ওই যে মন চাইলে কী হবে সামর্থ্য যে নেই। এবার হয়তো বলবেন 700/800 টাকা দাম শাড়ি তো কেনাই যায়। কিন্তু নিজের তো কোন রোজগার নেই। স্বামীর যতই থাক, সময়ে অসময়ে যদি সবসময় টাকা চাই সেটা কি উচিত? বর মশাই এর থেকে টাকাটা চাইলে হয়তো আপত্তি করতো না, কিন্তু আমার ই ব্যাপারটা বিবেক এ ঠেকলো।
সবাই এর হাতে সুন্দর সুন্দর শাড়ি, কত খুশি ওদের চোখে মুখে। আমার হাত টা খালি দেখে পিসিমা বললেন, টাকা না হয় পরেই দিস। একটা অন্তত শাড়ি নে। আমি কি টাকার জন্য কোনদিন কাউকে জোর করি? এখানে অনেকেই তো ধার এ নেয়। আবার ঠিক শোধ করে দেয়। তুই ও নে।
আমি অন্য সময় হলে নিতাম। তখন লক্ষহীর ভান্ডারের 1500 টাকা মাসে পেতাম। এখন আর অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাই না। নিজের ও কোন ইনকাম নেই। আজ যেন আমার মনের ভিতর টা বার বার বলছিল এই জন্য গৃহবধূ দের ও জীবনে কিছু অন্তত রোজগার করা উচিত। সামান্য হলেও সেটা তো নিজের রোজগার করা টাকা হত। সেই টাকায় নিজের শখ পূরণ করার আনন্দ টাই আলাদা।
আজকে এই ঘটনাটার পর বারবার মনে হচ্ছে কিছু একটা জীবনে করা উচিত। এই ব্লগ লিখি। যদি কোনদিন আমি ব্লগ লিখেই উপার্জন করতে পারতাম ভীষণ ভালো হত। আমাদের মত গ্রামে যাদের বিয়ে হয়েছে বাইরে গিয়ে কিছু করা সম্ভব নয় তাদের জন্য এই উপায় গুলো খুবই ভালো। কিন্তু সফল আর হতে পারছি কোথায়। বাইরে না বেরিয়েও তো অনেক কাজ করা যায় , যেমন - টিউশন করা, হোম ডেলিভারি বিজনেস, কসমেটিকস দোকান ইত্যাদি। কিন্তু প্যাশন টাও তো দেখতে হবে। আমার ইচ্ছাই হলো ব্লগ লেখা। এভাবেই এগোতে চাই।
যাক, তবু এই ব্লগে মনের কথা গুলো লিখেও শান্তি পাই। এ এক নির্ভেজাল মানসিক শান্তি। তবে হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত একটা শাড়ি নিয়েছি। ছবি দিলাম।
( শাড়িটা কেমন ? কমেন্ট করে সকলে জানাবেন কিন্তু।)
জরি বাটিক। দাম 570। বর মশাই এর থেকে চেয়ে টাকা টা দেব। তবে একটা দিন আমার জীবনে নিশ্চই আসবে যেদিন আমি নিজের উপার্জনে শাড়ি কিনবো। সেই আশা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।
এই ঘটনা টা পড়ে, আপনাদের কি মনে হয় সকলের ই নিজের পায়ে দাঁড়ানো উচিত তাই তো? স্বামী যতই কোটি পতি হোক, নিজের উপার্জনে বাঁচার মজা টাই আলাদা তাই না? আর যারা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে গেছেন স্বাবলম্বী তাদের জন্য রইল আমার অসংখ্য ভালোবাসা। আর ছোট দের আমার আশীর্বাদ।
আজকের ব্লগ টা এত টুকুই। আবার ফিরবো আগামী কাল নতুন একটা ব্লগ এর লেখা নিয়ে।


0 মন্তব্যসমূহ