গ্রামের মধ্যবিত্ত গৃহবধূর সারাদিনের কাজবাজ : সংসারের গল্প ( daily blog)

 

my-personal-blog-picture

শিরোনাম : গ্রামের মধ্যবিত্ত গৃহবধূর সারাদিনের কাজবাজ : সংসারের গল্প ( daily blog)

নমস্কার বন্ধুরা,

আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন, আমিও খুব ভালো আছি । আজকের ব্লগে সকলকে স্বাগত জানাই।আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো আমার সারাদিনের সাংসারিক কাজের কিছু টুকরো টুকরো গল্প ও ছবির অংশ। আমি তো গ্রামের দিকে থাকি, তাই আমার ব্লগ টা আহামরি সেইরকম কোন জাঁকজমক নয়। তবে আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে পড়লে।


সকালের সূচনা ও কাজবাজ এর কিছু অংশ :


আজকে সকাল থেকেই আকাশটা একটু মেঘলা, এক পশলা বৃষ্টিও হয়েছে। দিনের চেনা কাজগুলো দিয়ে আমার সকালটা শুরু হলো। এই যে দেখুন, প্রথম ছবিটাতে আমি সকাল সকাল ঘর মুছতে ব্যস্ত। তখন একটা স্কাই কালার (আকাশি রঙ)-এর নাইটি পরে ছিলাম। ঘরদোর পরিষ্কার না রাখলে তো মনটাও ভালো থাকে না, তাই না? তবে আমি স্বীকার করছি, আমি খুব বেশি গোছানো ও নই কিন্তু। একটু অগোছালো।

স্নান সেরে একটু অন্য রূপে :


ঘর মোছা আর টুকটাক কাজ শেষ করে সোজা চলে গেলাম স্নান করতে। স্নান সেরে এলে শরীর আর মন দুটোই ফুরফুরে হয়ে যায়। আমি স্নান এর সময় বাজার চলতি সাবান কিংবা বডি ওয়াশ খুব কম ব্যবহার করি। এর পরিবর্তে একটা বাটিতে ওটস গুঁড়ো, দুধ, আর একটু মধু মিশিয়ে পেস্ট করে মাখি। 10 মিনিট রেখে ধুয়ে নিই। স্নান করে এসে এবার একটা সবুজ রঙের (গ্রিন কালার) নাইটি পরলাম। আচ্ছা, এই নাইটি টা পরে আমায় কেমন লাগছে? কমেন্ট করে কিন্তু অবশ্যই জানাবেন! স্নানের শেষে আমি মুখে শুধু একটাই ক্রিম ব্যবহার করি। cetaphil এর একটা ক্রিম। ছবি তে দেব।






আমার ছোট্ট মন্দির আমার স্বর্গ —ঘরের সিংহাসন : আমার দেবদেবী


স্নান তো হলো, এবার আমার দিনের সবচেয়ে শান্তির সময়—ঠাকুর পুজো দেওয়ার পালা। এই সময় টা আমার বেশ ভালো লাগে। ফুল যেদিন অনেক সংগ্রহ করতে পারি, ঠাকুর কে খুব সুন্দর করে সাজাই। খুব সাধারণ মন্দির আমার। কিন্তু আয়োজন টা করি মন থেকে। আমার ঘরের কাঠের সিংহাসনটি খুবই ছোট আর সাধারণ, কিন্তু এটাই আমার ঘরের মন্দির। আমার সমস্ত দেব-দেবী এখানেই বাস করেন। মন উজাড় করে সুন্দর করে পুজো দিয়ে নিলাম। এখানে এলে সমস্ত ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে যায়। দেখুন আমার মন্দির এর দেবদেবী কত উজ্জ্বল।




বৃষ্টিস্নাত আমার তুলসীমঞ্চ :


ভেতরে পুজো শেষ করে আমি গেলাম বাইরের তুলসী মঞ্চে সেবা দিতে। এখন তো বর্ষাকাল, বাইরে ঝিপঝিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। দেখুন, বৃষ্টির জলে চারপাশটা কেমন ভিজে কাদা-কাদা হয়ে গেছে। চারিদিকে আমগাছের পাতা পরে আছে। বর্ষার সময় পাতা শুকনো পাতা পরে নতুন পাতা গজায়। আকাশ মেঘলা থাকায় আলোটাও কেমন একটু অন্যরকম, স্নিগ্ধ লাগছে। প্রকৃতির এই রূপ দেখতেও কিন্তু দারুণ লাগে।



Tulshui-mancha


আমাদের ধানের গোলা ( গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য) — আমার ঘরের মা লক্ষ্মী:


সবশেষে আপনাদের একটা দারুণ ও আকর্ষণীয় জিনিস দেখাই। এই দেখুন, এটি আমাদের ধানের গোলা। এখানে আমাদের সারা বছরের খাওয়ার ধান জমা থাকে। আমরা যারা গ্রামের মানুষ, তাদের কাছে এই ধানের গোলাই হলেন সাক্ষাৎ 'মা লক্ষ্মী'। তাই প্রতিদিন এখানেও আমরা ভক্তিভরে ধূপ-দীপ দেখাই এবং পুজো করি।



​এই ছিল আজকে আমার খুব সাধারণ একটা মধ্যবিত্ত গৃহবধূর ব্লগের গল্প। আমার এই ছোট্ট জীবনের গল্প আর ছবিগুলো আপনাদের কেমন লাগলো, তা নিচে কমেন্ট করে জানাতে একদম ভুলবেন না।

​আবার দেখা হবে অন্য ব্লগে পরের দিন, অন্য কোনো গল্প নিয়ে। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

ধন্যবাদ!











একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ