বৃষ্টির দিনে বারান্দার কোণে : এক মুঠো শান্তি আর একলা যাপনের কিছু গল্প

 

Baranda-picture

( আমার বাড়ির বৃষ্টিস্নাত লাল বারান্দার ছবি)



শিরোনাম : বৃষ্টির দিনে বারান্দার কোণে : এক মুঠো শান্তি আর একলা যাপনের কিছু গল্প


আজ ছিল সোমবার। সপ্তাহের শুরু। দিনটা হওয়ার কথা ছিল খুব ব্যস্তময়। আগের দিন রাতেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখে ছিলাম সোমবারের কাজ বাজ এর হিসাব । ছেলের স্কুল এর খাবার, বরের অফিস নিয়ে যাওয়ার খাবার  শশুর মশাই এর ডায়েট চার্ট অনুযায়ী খাবার সকলের খাবার প্ল্যান আমি আগের রাতে ঠিক করে রাখি। যাতে পরদিন সকালে উঠে দেরি না হয়ে যায়। আগেরদিন ঠিক করে রাখলে সব কিছু সময় মতো রেডি করা যায়। আমি জানি আমার মতো যারা গৃহবধূ, একা হাতে পুরো সংসার সামলান তারা আগের রাতে এই ভাবেই একটা রুটিন সেট করে রাখেন। এতে ভারি সুবিধা হয়। 


তবে , আজ ঘড়ির এলার্ম এ ঘুম ভাঙে নি। ঘুমের ঘোর কাটলো বাইরে ঝমঝম বৃষ্টির আওয়াজ এ। জানলা বন্ধ করেই রাতে শুই। আধো ঘুম এর মধ্যে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টির আওয়াজ টা কানে আসতেই টের পেলাম গা টাও ঠান্ডায় একটু একটু শিরশির করছে। টেবিলে রাখা মোবাইল ফোন টা হাতে নিয়ে দেখলাম এলার্ম বাজার ১৫ মিনিট আগেই উঠে পরেছি। কিন্তু শরীর টা বিছানা ছাড়তে চাইছিল না। মন চাইছিল আরো একটু ঘুমোই। বুঝতেই পারছেন, বাইরে এইরকম মনোরম ওয়েদার থাকলে কার ইচ্ছা করে বিছানা ছেড়ে উঠতে। তবে , মন এর সাথে ১৫ মিনিট খুব মন কষাকষি করে বিছানা ছেড়ে উঠতেই হলো। ওই যে, বললাম খুব তাড়া থাকে রান্না বান্নার। 


বিছানা ছেড়ে ঠাকুর প্রণাম করে নামতে যাবো, অমনি বর মশাই ঘুম জড়ানো গলায় বলে উঠলো পাশ থেকে, বৃষ্টি হচ্ছে না কি গো? 

- হমম গো। 

- তাহলে, তাহলে... ভাবছি আজ অফিস যাবো না। যা হোক করে ম্যানেজ করে ওয়ার্ক ফ্রম হোম নিয়ে নেব আজ।

আমি তো সোনায় সোহাগা। শুনেই আনন্দে প্রায় পাগল হয়ে গেলাম। বর মশাই ও সকাল সকাল আলগা সোহাগ দেখালো। 


আর ছেলেকে ও আজ স্কুলে পাঠানোর ছিল না। আগের দিন রাতে আমার মনেই ছিল না, আজ ছেলের  স্কুলের সরকারি ছুটি আছে। শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর জন্মদিন উপলক্ষে। আগে এই ছুটি টা ছিল না। এই বছর নতুন চালু হয়েছে। সে যাই হোক , সকালের তাড়াহুড়ো থেকে তো রেহাই। কিন্তু রান্নাবান্না থেকে তো নয়। কিংবা সংসার এর আরো যে সব কাজ থাকে সেসব তো করতেই হবে। তবে দিনটা শুরু হলো খুব ধীরে সুস্থে।


আজ অনেকদিন পর বেশ আরাম করে জানালার পাশে বসলাম চা নিয়ে। আজ আর মোবাইল ফোন স্ক্রল করতে করতে চা খাওয়া নয়। আজ বৃষ্টির শব্দের সাথে চা এর ঘ্রাণ নিয়ে মেঘে ঢাকা আকাশ দেখলাম। সবুজ পাতায় জলের ফোঁটার হুড়োহুড়ি , মাটির সাথে জলের সন্ধি, কাক ভেজা পাখির কিচিরমিচির  অনেক কিছু লক্ষ্য করলাম। এই সব দেখতে দেখতে খেয়াল ই করতে পারি নি চা টা কখন শেষ হয়ে গেছে। শেষ বারের মতো চায়ের কাপ টা মুখে তুলতে শিপ নিতে গিয়ে দেখলাম ফুরিয়ে গেছে। 


আর মনে হলো না ঘরে থাকি। বাইরে বেরিয়ে দেখলাম বারান্দার লাল মেঝেটা বৃষ্টির ছাটে পুরো ভিজে গেছে। রং টা আরো উজ্জ্বল লাগছে। ছাচের জল টালি বেয়ে উঠোনে পড়ছে । এই সময়ে যদি আমার ছেলে ঘুম থেকে উঠে পরতো, ও আমার কোনো বাধাই মানতো না। উঠোনে নেমে বৃষ্টিতে লাফাতে আরম্ভ করতো। খানিকক্ষণ সময় আবারও বারান্দার সামনে এসে দাঁড়ালাম। অবিরাম ছাঁচের জল উঠোন ভাসিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে দুরন্ত গতিতে। সময় ও গড়াতে থাকলো। না, সময়ের সাথে তো আর যুদ্ধ করে পেরে উঠবো না। নিজের মনকে বোঝালাম এত বৃষ্টি বিলাসী হলে আজকে আর ডান হাত টা মুখে উঠবে না কারোরই। অগত্যা সবজির ঝুড়ি নিয়ে বসলাম।

Vegetables-cutting-picture

( এখানে অনেকরকম সবজি আছে। বলুন তো কি কি আছে? )


রকম রকম সবজির বাহার নিয়ে আজ কাটতে বসেছি। কাঁচ কলা, আলু, বরবটি, ঝিঙে, পটল, মূলো, নোটে শাক। সব রকম সবজি দিয়ে একটা পাঁচমিশেলী সবজির তরকারি করবো তাই। অন্যদিন এত সবজি দেখলে ।মাথাটা গরম হয়ে যায়। কিন্তু আজ অনায়াসেই বৃষ্টি দেখতে দেখতে, বৃষ্টির শব্দে বিভোর হয়ে সব কেটে ফেললাম। 


বৃষ্টি কখনো আমাদের মনকে কাঁদায়, কখনো হাসায়, কখনো আবেগ এ ভাসায়। বৃষ্টি মানেই কাব্য কথা। বৃষ্টি মানেই উপন্যাস। বৃষ্টি মানে এক কাপ গরম চা, ব্যালকনির ওই চেয়ার আর দূরের আকাশ। 


আর আপনাদের কাছে বৃষ্টি মানে কি? অবশ্যই কমেন্ট বক্সে লিখে জানাবেন। আমি অপেক্ষায় রইলাম। আজ তবে এত টুকুই । আবার আসবো আগামী কাল নতুন কোনো আবেগ নিয়ে। আজ তবে আসি। 

#বৃষ্টি

#সবজি

#গল্পআড্ডা

#বাঙালীজীবন

#গৃহবধূর জীবন

#জীবনধারা

#দিনলিপি

#dailylife

#rainyday

#housewifestory

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ