শিরোনাম : নিঝুম দুপুর ও কিছু স্মৃতি ( স্মৃতিচারণ/ নস্টালজিয়া)
রোজকার ডায়েরি লেখা আমার অভ্যাস। এত দিনে আপনারা আমার সম্পর্কে এটা জেনেই গেছেন। কিন্তু বিষয় টা হলো আমার লেখা গুলো কিন্তু ডায়েরির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখি না। আমার ভাবনা, ইচ্ছা, আনন্দ, আবেগ, ভালোলাগা সব টুকুই তুলে ধরি এই ব্লগ সাইটে। যার মাধ্যমে আমার কথা গুলো দূর থেকে দুরান্তে ছড়িয়ে পড়ে।
আমার মাঝে মাঝে ভাবতে ভালো লাগে, আমি আমার ঘরের এক কোণে বসে মনের কথা গুলো লিখে চলেছি। আবার মাত্র কয়েকটা ক্লিক এই আমার লেখা গুলো কত কত মানুষের মনের দোরগোড়ায় হাজির হবে। আমায় তারা সশরীরে দেখতে পাবেন না ঠিকই, কিন্তু আমার অন্তর টা তারা যেন জীবন্ত পড়তে পারবে আমার লেখার মাধ্যমে।
এটাও তো কম সৌভাগ্যের নয়। তাই না? জানি এখন অনেকেই সময়ের অভাবে ডায়রি লিখতে পারেন না। ডায়েরি লেখাটা একটা পুরোনো চর্চা। তবে এটা কিন্তু একটা নেশার মত। এ নেশায় একবার পড়লে ছেড়ে আসা বেশ কঠিন। এই নেশা আমার ছোট থেকেই। স্কুল লাইফ থেকেই আমি ডায়েরি লিখি। আজ ও লিখে চলেছি। আজীবন লিখেও যাবো।
আজকের এই নিঝুম দুপুরে একাই বসে ছিলাম। ভাবলাম লাঞ্চ সেরে বাসনপত্র ধুয়ে, রান্নাঘর পরিষ্কার করে ৩০ মিনিট মতো ভাত ঘুম দেব। কিন্তু তা আর হলো কই। এই নিঝুম দুপুর টাকে হারিয়ে ফেলতে ইচ্ছে হলো না। ছেলে স্কুল গেছে। বর মশাই অফিসে। বাড়ির আর সব সদস্য ঘুমোচ্ছে। আমি অলস দুপুরটা উপভোগ করি।
সময়টা একান্তই আমার ব্যক্তিগত। আসলে হাউস ওয়াইফ দের ব্যক্তিগত সময় বের করাটাই কঠিন। রুটিন মেপে হিসাব কোষে সময় টা বের করতে হয়। আমিও তাই সময় টা ম্যানেজ করেছি আজ। চুপচাপ কোলাহল হীন মুহূর্ত টা ডায়রি লিখতে খুব ভালো লাগে।
ছোটবেলা এই সময় টা মা ঘুমোতে বলতেন। স্কুল না থাকলে। কিন্তু মায়ের পাশে আমি ঘুমোনোর ভান করে শুয়ে থাকতাম। যেই মায়ের চোখে তন্দ্রা লেগে যেত অমনি পা টিপে টিপে আস্তে করে দরজা খুলে বেরিয়ে পড়তাম। এক ছুট্টে খেলার মাঠে। সারা দুপুর, বিকেল চলত তারপর লুকোচুরি, ধরাধরি, ডাল ঝুপ্পা, কাবাডি আরো অনেক খেলা। সে এক দারুন সোনালী সময় ছিল।
জীবনের এত মারপ্যাঁচ তখন ছিল না। ওই সময় টাই বেশ ভালো ছিল। এত টেনশন মাথায় ছিল না। না পাওয়ার বেদনা ছিল না। বড় বড় স্বপ্ন ও ছিল না। যত বড় হতে থাকলাম একটার পর একটা জটিলতা যেন ওই সময় গুলোকে আস্তে আস্তে গিলে ফেলতে শুরু করলো।
প্রথমে শুরু হলো পড়াশোনা দিয়েই। বিকেল টাইমে প্রাইভেট টিউটর যোগ হলো। সময় টা কেমন জানি তেতো হয়ে গেল। আর ও একটু বড় হতেই ওই সময় টা কলেজ যাতায়াত এর পথেই কেটে যেত। আর এখন তো বিয়ে হয়ে গেছে। এই সময় টা তেও বেশির ভাগ দিন কাজ থাকে।
সেই শৈশবের দুপুর বেলা টাও আজ আর নেই। আর সেই বন্ধু গুলো ও কাছে নেই। যে যার সংসার , অফিস কাজ নিয়ে ব্যস্ত। তবে হ্যাঁ, যোগাযোগ আছে। ফোনে কথা হয়। বছরে দুর্গা পূজা ও কালি পুজো কিংবা বাবার বাড়ি গেলে দেখা হয়।
ভাবতেও কি অবাক লাগে তখন প্রতিটি দুপুর যে বন্ধুদের সাথে কাটিয়েছি, তাদের থেকে এখন কত দূরে। মাঝে মাঝে মনে পড়লে খুব কষ্ট লাগে। কিন্তু করা যাবে। এটাই তো জীবন। কিন্তু এই কষ্টের মধ্যেও আনন্দ আছে। এই যে ৩০ মিনিট ওই সব নিয়ে একটু ভাবলাম , পুরোনো স্মৃতি ঘেঁটে যেমন কষ্ট লাগে, তেমন মন টাও ফ্রেশ হয়ে যায়।
এটা নিয়ে আজ ডায়েরি তে লিখলাম। এটা সারাজীবন এর জন্য আমার ডিজিটাল ডায়েরি তে বন্দি হয়ে রইল। এটা আমার কাছে একটা অমূল্য সম্পদ।
আপনাদের ও কি ছোটবেলার এই রকম কোন স্মৃতি আছে? জানাতে পারেন কমেন্ট বক্সে। আমার খুব ভালো লাগবে। আজ তবে এত টুকুই। আবার ফিরবো আগামী কাল। নতুন কোন ব্লগের লেখা নিয়ে।

0 মন্তব্যসমূহ