শিরোনাম : আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটার জন্য একটা বিশেষ দিন ( সম্পর্কের বন্ধন)
আজকের রাত টা আমার জীবনের একটা স্পেশাল দিন। প্রতিবছর আজকের রাতে ঠিক বারোটায় কেক কাটা হয়। আজ আমার জীবনসঙ্গী র জন্মদিন। যে আমার জীবনের সব কিছু। আমার ভালোবাসা, আমার অভিমান, আমার শ্রদ্ধার মানুষ এবং আমার জীবনের পথপ্রদর্শক।
আমি তেমন ভাবে আজকের দিনটা জাঁকজমক ভাবে সেলিব্রেট করতে পছন্দ করি না। রাত 12 টার সময় ছোট একটা কেক প্লেটে সাজিয়ে দিই। আর বর মশাই কে ঘুম থেকে তুলে সারপ্রাইজ দিই। অত রাত এ তখন ঘুমিয়ে পড়ে অফিস থেকে এসে।
ও ভাবতেই পারে না, পাড়া গ্রামে কোথাও দোকান নেই, আমি কি করে এই কেক টা আনতে পারি। কিন্তু চাইলেই আমি বাড়িতে বানাতে পারি কেক টা। এটাই সবাই ভাববে তাই তো? কিন্তু আমি বানাই না। তার পিছনেও আছে কারণ।
আমরা যৌথ পরিবারে থাকি। কেক টা তৈরি করতে দেখলে সবাই জেনে যাবে। যেহেতু গ্রাম। এখানকার অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ রাই এটা পছন্দ করেন না। দেখলে হয়তো বলবেন, দিনের বেলা কেক কাটা যেত না? আরো অনেক কথা। তাই তাদের আর বিরক্তি করতে চাই না।
( এই প্লেট টায় প্রতি বছর লিখে কেক টা সাজাই)
রাত 12 টার কেক টা যে ভাবে হোক বাইরের কাউকে দিয়ে, বরের চোখকে ফাঁকি দিয়ে বাড়ির লোকের আড়ালে আনিয়ে রাখি। তারপর ওই কেক কাটিং হয় আর কি! আগে শুধু আমি আর বর মশাই এই মুহূর্ত টা উপভোগ করতাম। তখন ছেলে ছোট ছিল ঘুমতো। এখন ছেলেও আমাদের সঙ্গ দেয়।
এটাই আমাদের কাছে অনেক কিছু। আজকের দিনে ভগবান এর কাছে আমি প্রার্থনা করি আমি যেন প্রতি বছর এইভাবে আজকের রাত টা উৎযাপন করতে পারি। আর আমার স্বামী যেন সুস্থ থাকে আজীবন ভগবানের কৃপা তার মাথার উপর থাকে। উনি জীবনে অনেক উন্নতি করুন। আজ এই কামনা ই করি ভগবানের কাছে।
আমাদের রাতের সেলিব্রেট এ বাড়ির সদস্যরা না থাকলেও, পর দিন সকাল থেকে চলে আয়োজন আর খুশির একটা আবহ। ওই দিন বাড়িতে পাঁচ রকম ভাজা, মাছ, পায়েস ইত্যাদি হয়। আর রাতে বাড়ির সকলের জন্য বড় কেক আনা হয়। এটা সকলের সাথে কাটিং করা হয়।
অথএব আজ সেই রাত। আমি তাই এখন খুব ব্যস্ত। কেক টা আনা হয়ে গেছে। টেবিল এর নিচে লুকানো আছে । আজকে তো বর মশাই অফিস যায় নি। আজ ওর ওয়ার্ক ফ্রম হোম ছিল। বর কে লুকিয়ে, বাড়ির সবাই এর আড়ালে কেক টা রাতে ঢোকানো বেশ চাপের। রাত 9:45 নাগাদ কেক টা পেলাম। পাশের বাড়ির এক জা কে আনতে বলেছিলাম। এনে দিয়েছে। সাথে একটা ডিয়ারী মিল্ক।
জানি আপনাদের কাছে ব্যাপার টা খুব সামান্য মনে হচ্ছে। ভীষণ জোক টাইপের লাগছে। কিন্তু এটাই আমার কাছে একটা ইমোশন। আমি স্বামীর জন্য এইটুকু করতে পারলেও আমি খুশি। আর ও তো ভীষণ ই খুশি। ও ভাবতেই পারে না প্রতি বছর ঠিক কি করে ব্যাপার টা আর্রেঞ্জ করি।
এবারে অবশ্য ছেলে দেখে ফেলেছে। যদিও ও কথা দিয়েছে পাপাইকে মানে ওর বাবাকে এ কথা বলবে না। আমায় প্রমিস করেছে। এখন ছেলেকে ওর বাবা কম্পিউটার থিওরি পড়াচ্ছে। রাত 10:25 বাজে। আমি ব্লগ টা লিখছি। 12 টার পর পোস্ট করবো। কেক কাটিং এর পর।
খুব এক্সাইটেট লাগছে। ভয় ও লাগছে। দেখা যাক কি হয়। আজ তবে এত টুকুই। আবার আসবো আগামী কাল নতুন ব্লগ নিয়ে। আমি খুব সাধারণ। তাই সাধারণ আয়োজন আমার। আপনাদের প্রিয়জনের জন্মদিন আপনারা কি করে সেলিব্রেট করেন? আমায় জানাতে পারেন। আমার ও শুনে ভালো লাগবে।
তবে কোনোদিন যদি ভগবান এর কৃপায় রোজগার করি , নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি সেদিন ভালো করে বর মশাই এর জন্মদিন সেলিব্রেট করার ইচ্ছা আছে। জানি না, ভগবান আমার এই আশা পূরণ করবে কিনা।
আমি মনে করি যে মানুষের যতটুকু সামর্থ্য সেইটুকু দিয়েই যদি সে প্রিয়জন এর জন্য কিছু করে সেটাই আপন মানুষ টার কাছে অনেক কিছু। তাই উপহার মূল্যের দিক থেকে যত ছোট ই হোক না কেন, আন্তরিকতা টা বিরাট হওয়া দরকার। তাতেই সে আপন মানুষ টার সর্বস্ব জয় করে নিতে পারবে।
আজ তবে এত টুকুই। আবার ফিরবো আগামী কাল। আজ তবে আসি।
#স্মৃতিচারণ
#জন্মদিন
#বর
#সম্পর্ক
#উপহার


0 মন্তব্যসমূহ