শিরোনাম : যদি আবার দেখা হয়, ( কিছু অচেনা গল্প, আনমনে ভিড় করে আসে)
সকাল টা আজ বেশ ব্যস্ততার মধ্যে কেটেছে। আজ শনি বার। আমার ছেলের স্কুল ছুটি, বর এর ও । ভেবেছিলাম ঘুম থেকে একটু দেরিতে উঠবো। কিন্তু বড্ড বেশি দেরি হয়ে গিয়েছিল। আলসেমি করার অবসর ছিল না। ঘর দোর মোটামুটি পরিষ্কার করেই আগে , স্নানে গেলাম।
রোজকার সেই চেনা পোশাক ছেড়ে কি জানি আজ মনে হলো শাড়ি পরি। তাই পরলাম। স্নান সেরে বড় আয়নার সামনে দাঁড়ালাম শাড়ি পরে। অনেকদিন নিজেকে এইভাবে দেখি নি। একটু থমকে গেলাম। জানি সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আয়নায় নিজের অবয়ব টা দেখে নিজেই নিজেকে এড়িয়ে যেতে পারলাম না।
একটা ঘোরের মধ্যে ই চিরুনি টা নিয়ে চুল টা ধীরে ধীরে গুছিয়ে নিলাম। ভিজে চুল থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল পরে মেঝেটা জ্বলজ্বল করছে। টের পেলাম ব্লাউজ টার পিছন টাও ভিজে গেছে চুলের জলে। আলতো করে চুল এর গোছটা ধরে সামনে আনলাম। চোখ দুটো দিয়ে ভালো করে নিজেকে আবার আয়নায় দেখলাম।
বসার টুল টা টেনে নিয়ে নিজেকে পরিপাটি করে বসলাম। ড্রেসিং টেবিল এ রাখা সিঁদুর কৌটো থেকে এক চিলতে সিঁদুর টা পরে নিজেকে রাঙিয়ে নিলাম। একটা ছোট টিপ পড়লাম। বাহ! বেশ সুন্দর লাগছে তো আমায়। একদম মোহময়ী বাঙালি বউ।
আমি তো কোন অংশে কম ছিলাম না। তবু কেন ! তবু কেন বিচ্ছেদ হলো, কেন হৃদয় টা আমার ভেঙে দিলে? কেন আমার সাথে ঘর বাঁধতে পারলে না তুমি? যাকে ভালোবাসলে তাকে এইটুকু স্বীকৃতি দিতে পারলে না? না কি আমি তোমার ভাগ্যে ছিলাম না। কোনটা ?
আমার তো মনে হয় , মেয়েদের রূপবতী, গুণবতী, হওয়ার চেয়েও বেশি দরকার ভাগ্যবতী হওয়ার। আর সেটাই তো আমি নই। আমার ভাগ্য অতটাও ভালো ছিল না ,যে তোমার সাথে ঘর বাঁধবো। আমিও ঘর পেয়েছি, সাজানো একটা সংসার পেয়েছি। ভালো বর ও পেয়েছি। সব পেয়েছি। তবু ভুলতে পারি নি সেই সব স্মৃতি।
সংসার জীবন কে অস্বীকার করে আমি তোমার কথা ভাবতে চাই না। যা অতীত তাকে মনে প্রশয় দিই না। তবু আনমনে আজ ও এসে যায় সেই প্রসঙ্গ। সেই স্মৃতি, সেই না পাওয়া ভালোবাসার বেদনা। জানি সময় অনেকটা পেরিয়ে গেছে। জীবন অনেকটা এগিয়ে গেছে।
তবু যদি কখনো আবার দেখা হয়ে যায় জীবনের কোনো মোড়ে, মুখ ঘুরিয়ে নেব। পারলে তোমার চোখেও সেদিন থাকুক আরো অবহেলা। আরো চিনতে না পারার সুর। আমি আবার হয়তো সেদিন একটু ভাঙবো। নীরবে কাঁদবো। তবু আনমনে যে স্মৃতি গুলো এভাবে এখনো হাতরিয়ে যাই তাকে চিরতরে শেষ করে ফেলার রাস্তা খুঁজে পাবো।
একলা ঘরে সংসারী আমি, চিৎকার করে বলবো আমি ভালোবেসে ছিলাম। ভালোবাসা ছিল এক তরফা। তুমি কখনো আমায় আপন করে নাও নি। কারণ এত গুলো বছর পরেও তোমার চোখে দেখেছি কি নির্মম প্রতারণা। আমি কাঁদবো, আরো কষ্ট দেবো নিজেকে।
সময়ের সাথে সাথে আবার নিজেকে এবার ঠিক পুরোপুরি গুছিয়ে নেব। ভুলে যাবো অতীত স্মৃতি। বর্তমানের ভালোবাসার পাহাড় , ভুলিয়ে দেবে পুরোপুরি সেই ভালোবাসার সমুদ্রকে। আমার অশ্রুর নোনা জলের সাথেই তোমায় বয়ে যেতে হবে আজীবন সেই প্রতারণার গ্লানিকে।
আমি সুখী হতে চেয়েছিলাম তোমার সাথে। কিন্তু আমি আজ আরও বেশি সুখী আমার এই সংসারে। অশ্রুর ধারা বেয়ে গাল ছুঁয়ে বুক স্পশ করলো। হুশ ফিরলো। ঝাপসা চোখে ঘড়ির কাটার দিকে তাকিয়ে দেখি সময় সকাল ৯ টা ১০ মিনিট।
হাতের শাখা জোড়ায় স্বামীর দেয়া সিঁদুর টা লাগিয়ে প্রণাম করলাম। টুল থেকে উঠে ছেলের ঘুমন্ত গালে একটা চুমু দিলাম। পাশে থাকা তখন ও গভীর নিদ্রায় মগ্ন স্বামীর মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে ঠাকুর ঘরের দিকে এগোলাম। পুজো সারতে।

0 মন্তব্যসমূহ