শত আঘাতেও তাদের ভাঙতে পারে না, কিন্তু একটু খানি ভালোবাসা তাদের কাঁদিয়ে দেয়। ( মনের কথা)

 শিরোনাম : শত আঘাতেও তাদের ভাঙতে পারে না, কিন্তু একটু খানি ভালোবাসা তাদের কাঁদিয়ে দেয়। 


Daily-life-style-picture

( খুব সাধারণ আমি। সাধারণ আমার অনুভূতিরা)


আমাদের এই চেনা পৃথিবীটা বড়োই অদ্ভুত। আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষজন আছে, যাদের আপাত দৃষ্টিতে দেখে মনে হবে, তিনি খুব সুখে আছেন। বেশ হাসি খুশি থাকেন মানুষটা। মুখটা বেশ মিষ্টি। চোখে মুখে প্রাণোচ্ছলতার ভাব স্পষ্ট। কিন্তু একটু গভীরে খোঁজ নিয়ে দেখবেন , সেই মানুষটার জীবনটাই একটা গভীর শূন্যতায় পূর্ণ।


আসলে আমরা বাহ্যিক দিক থেকে মানুষের যে রূপ দেখি, তা দেখে বিচার করা ঠিক নয়। হয়তো মানুষ টা জীবনে চরম আঘাত পেয়ে, সব কিছু হারিয়ে আজ নীরব হয়ে গেছেন। এ জীবনে যা কিছু স্বপ্ন, যা কিছু নিজের বলে ভাবতেন তা হয়তো হারিয়ে ফেলেছেন। একটা সময় হয়তো ওই মানুষটাই প্রতারণায় কেঁদেছেন, অবহেলায় নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। তীব্র শোক পেতে পেতে আজ সে মনের দিক থেকে অনেক শক্ত হয়ে গেছেন। 


আবার তিনি নতুন করে হাসতে শিখেছেন। সবটুকু কষ্ট কে বুকে চেপে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছেন। এখন শত আঘাতেও তিনি ভেঙে পরেন না। কারণ আপন জনের কাছ থেকে পাওয়া অপমান, লাঞ্ছনা, প্রতারণা তাকে এখন পাথর করে দিয়েছে। এ পাথর গভীর শান দেওয়া। যে কেউ এসে তাকে আঘাত করতে পারবে না।


কিন্তু এই ভালোবাসার মানুষ গুলো অন্যদের খুশি রাখতে পারে। অন্যদের বেদনা পড়ে ফেলতে পারে। কারণ সেও কোনো একসময় এই জার্নিটা পেরিয়ে এসেছে। নিজেকে ভেঙেছে, নিজেকেই একটা সময় খুব অবহেলা করেছে। আবার জীবন মরণের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে নিজেকে সামলে নিয়েছে। 


তাই অন্যের দুঃখকে এরা সম্মান করে। তাদের কষ্টে মেকি সান্তনা দেয় না। তাদের আগামী জীবনের জেতার অনুপ্রেরণা জাগায়। সামনে এগিয়ে চলতে সাহায্য করে। এই সব মানুষ গুলো দেখবেন সকলের খুব প্রিয় হয়। কারণ তারা অবহেলিত মানুষ গুলোকে আগলিয়ে রাখতে  পারে। তাদের দোষারোপ করে না। 


কিন্তু ওই মানুষ গুলোর মধ্যে যে শূন্যস্থান টা তৈরি হয় মনের গভীরে তার তল পাওয়া অত সহজ নয়। কারণ এরা জীবনে লোহার মত, তেতে, পুড়ে লাল হয়ে শক্ত হয়েছে। খুব সহজে আর মনের হদিস কেউ পায় না। কিন্তু এই মানুষ গুলোকেই কেউ যদি আবার ভালোবাসে, তাকে আপন করতে চায়, তখন মানুষ টা ভিতরে ভিতরে আবার ভেঙে পড়ে। 


মনের ভিতর উতাল, পাতাল শুরু হয়। একদিকে বিশ্বাস ঘাতকতার বেদনা অন্যদিকে রঙিন ভালোবাসার হাতছানি সে নিজেকে স্হির রাখতে পারে না। বারবার আহত হয়েও যে মানুষটা নিজেকে শক্ত পাথর করে ফেলেছিল , সেই মানুষটাও হার মানে ভালোবাসার কাছে।


ভালোবাসা এমন ই এক অনুভূতি। মানুষ হলো ভালোবাসার কাঙাল। অর্থ, জশ, প্রতিপত্তি যতই থাক দিন শেষে একজন ভালোবাসার মানুষের খুব দরকার। বারবার হেরে গিয়েও মানুষ যেখানে এক টুকরো ভালোবাসা পাবে সেখানেই সে নিলজ্জের মতো ছুটে এসে দাঁড়াবে। কঠোরতার শত আঘাতেও মানুষ কাঁদে না। মানুষ কাঁদে দ্বিতীয় বার প্রেমে পরলে। দ্বিতীয় বার কেউ যদি তাকে ভালোবেসে দু হাত বাড়িয়ে দেয় চিৎকার করে সে কাঁদে। তাকে সর্বস্ব দিয়ে সে আগলে রাখতে চায়।


তাই কারো জীবনের প্রথম ভালোবাসা হওয়ার থেকে দ্বিতীয় ভালোবাসা হতে পারাটা অনেক ভাগ্যের। আমি এমনটা বলছি না, যে প্রথম ভালোবাসা লাকি হয় না। আমি বলছি যারা কারো জীবনে দ্বিতীয় ভালোবাসা হয়ে আসে তারা আরো বেশি ভালোবাসা পায়। যত্ন পায়। সম্মান পায়। আর যারা ভালোবাসার মতো পবিত্র সম্পর্ক কে ঠকায় তারাও জীবনে কোন না কোন ভাবে ঠকে যায়। 


জীবনের ওঠা, নামা তো থাকবেই। হার আসবে, ব্যর্থতা আসবে। মানুষ আবার উঠে দাঁড়াবে। বাস্তবের চরম আঘাত এ মানুষ কেঁদে ফেলে না। লড়াই করে নিজেকে গড়ে নেয়। কিন্তু ভালোবাসার ব্যর্থতা, পূর্ণতায় মানুষ কেঁদে ফেলে। সেটা ব্যর্থতার হলে বেদনার কান্নায় , আর পূর্ণতার হলে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার আনন্দে। 


আজকের লেখাটা পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। আজ তাহলে আসি। ফিরছি খুব শীঘ্রই নতুন অনুভূতি র গল্প সাজিয়ে।





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ