স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব থেকে প্রেম ভালোবাসা পরিশেষে বিয়ের প্রতিশ্রুতি

 - এতক্ষণ কোথায় ছিলে? ফোনটা রিসিভ করছিলে না কেনো?


-ব্যস্ত ছিলাম...

- কি হয়েছে বলো... এত বার কেনো ফোন করছিলে?


- এমনিই করছিলাম। কেনো আমি তোমায় ফোন করতে পরি না? নাকি আমি ফোন করলে তুমি ডিস্টার্ব ফিল করো? কোনটা?


-সোহিনী, প্লিজ...তোমায় আগেও বলেছি এখনো বলছি অফিস ডিউটি চলাকালীন যখন তখন আমি ফোন রিসিভ করতে পারবো না। তোমার কিছু বলার থাকলে মেসেজ করে দিও। আমি সময় মতো কল নাহলে রিপ্লাই দিয়ে দেবো।


-হ্যাঁ...এখন তো আমাকে তোমার আর প্রয়োজন নেই।


- দেখেছো তো...তুমি কতটা অবুঝ...তোমাকে বোঝালেও তুমি বুঝবে না। ওই একটা কথা আছে বাংলায়... কি যেন বলে... হ্যাঁ মনে পড়েছে। তোমাকে বোঝানোও যা আর হাতিকে ছোটো প্যান্ট পড়ানোও তাই। 


- ধুর! তুমি আমায় একদম হাসানোর চেষ্টা করবে না বলে দিচ্ছি অর্ক। আমি এখন ভীষণ রেগে আছি তোমার উপর। তুমি দুপুরের পর থেকে আমার ফোন রিসিভ করো নি। আমার কিন্তু মাথা ভীষণ গরম হয়ে আছে। 


- এই তো এখন কথা বলছি। তোমার সারাদিনের কি কি কথা জমে আছে বলো শুনছি। 


- না বলবো না।


- এতো দেখছি মহামুশকিল। ফোন রিসিভ না করলেও দোষ আর করলেও দোষ। তাহলে তোমার আমার সাথে কোনো কথা নেই তো?


- না...নেই।

- ঠিক বলেছো? 


- বলছি তো কোনো কথা নেই।


- তাহলে ফোনটা রাখছি এখন।


- ফোনটা রেখে কি করবে শুনি?


- টিভিতে খেলা দেখবো।


- আচ্ছা...সারাদিন অফিসের কাজের দোহাই দেবে আর এখন খেলা দেখবে তাই তো...আমার জন্য তোমার সময় নেই তাই না? তাহলে প্রেমটা কেনো করেছিলে বলো?


- বেশ রেগে গেছো মনে হচ্ছে...


- এই তুমি আমার সাথে কথা বলবে হ্যাঁ কি না স্পষ্ট বলে দাও।


- আমি তো বলতে চাই। তোমার সারাদিনের অভাব, অভিযোগ, অভিমান, ভালোবাসার সবটুকু গল্প এখন শুনতে চাই। কিন্তু তোমার মেজাজটাই তো এখন ঘেঁটে ঘ হয়ে আছে। মুখ দিয়ে রোমান্টিক কথা বেরোবে কি করে?


- ওসব ছাড়ো...আগে বলো অফিস থেকে বেরিয়েও তো একবার আমায় ফোন করা যেতো। সেটুকুও আমি আশা করতে পরি না, অর্ক তোমার থেকে...


- আমি তো অফিস থেকে বেরিয়ে প্রতিদিনই তোমায় ফোন করি। আজ করি নি। কিন্তু কেনো করি নি সেটা তো একবারও জিজ্ঞাসা করলে না সোহিনী?


- এখন জিজ্ঞাসা করছি। কেনো করো নি ফোন?


- কলকাতায় ভীষণ বৃষ্টি হচ্ছে। সব বাস, অটোগুলোতেই লোকের ঠাসা ভিড়। উঠতেই পারছিলাম না। যা হোক করে একটা স্যাটেল গাড়ি করে মেট্রো স্টেশন পৌঁছে তারপর বাড়ি এলাম। 


- ওহ! সেটা আগে বললেই হতো। এখানে তো বৃষ্টির নাম গন্ধই নেই। বুঝব কি করে বলো?


- তাহলে সবটা না জেনেই আমার ওপর এত রাগ দেখাচ্ছিলে কেনো? 


- তোমার ওপর অভিমান করে। তাছাড়া তুমি বাইরে থাকলে আমার টেনশন ও হয়। তুমি ভাবো তোমার জীবনে তোমার শুভাকাঙ্খী তোমার মা, বাবা ,ভাই ছাড়া আর কেউ নেই। কিন্তু আমিও যে তোমার জন্য ভেবে মরি সেটা তুমি বুঝতে চাও না। 


- আচ্ছা...ঠিক আছে। সব কিছুর জন্য আমি সরি চাইছি তোমার থেকে। আর কোনোদিন এমন ভুল হবে না। একটা মেসেজ করে হলেও তোমায় জানান দেবো।


- ঠিক আছে। আর ওতো সোহাগ দেখাতে হবে না। 


- এবার বলো তুমি সারাদিন আজ কি করলে...


- কি আবার করবো...কিছুই না।


- কেনো? আজ তোমার ড্রয়িং ক্লাস, টিউশন পড়ানো বন্ধ ছিল নাকি?


- না... না। ক্লাস করিয়েছি। কিন্তু মনটা ঠিক ভালো নেই।


- বুঝেছি। একসপ্তাহ হয়ে গেলো দেখা হয় নি তাই ... ঠিক বললাম তো আমি?


- হুমম... সবই তো বোঝো। এই...শোনো না...একটা কথা বলবো?


- কি?


- আমাদের বিয়ের ব্যাপারটা নিয়ে কি ভাবলে?


- ভাবলাম অনেক কিছু।


- সত্যিই! কি ভাবলে...বলো...বলো...


- ইয়ে বাবা...কি বিয়ে পাগলা মেয়েরে...বিয়ের কথা শুনেই কেমন হ্যাংলামো করছে দেখো।


- তুমি শুধু রসিকতা করতেই শিখেছো। আর মানুষের ফিলিংস নিয়ে খেলা করতে। আর কিছু শেখো নি। আমি রাখছি ফোন। আর কোনোদিন আমায় ফোন করবে না।


- প্লিজ, সোহিনী ফোনটা কেটে দিও না। তুমি ফোন কেটে দেওয়া মানেই সোজা ব্লক লিস্টে আমার জায়গা হবে। আচ্ছা ঠিক আছে। আমি কথা দিচ্ছি আর রাগাবো না তোমায়। ভালো ভাবে কথা বলবো। প্রমিস্ করছি।


- অর্ক, তুমি জানোতো কোনোদিন শুধরাবে না। জীবনে একটি সিরিয়াস হও।


- বিয়ে তো হবেই সোহিনী। তবে আর একটি অপেক্ষা তোমায় করতে হবে।


- তোমার জন্য এত গুলো বছর তো অপেক্ষা করেই রইলাম। আর নাহয় কিছুদিন করব। কিন্তু সেটা কতদিন?


- আর বেশি দিন নয়। আমার পরের মাসেই প্রমোশন আছে। আর তারপরেই আমার মা, বাবা তোমার বাড়িতে যাবেন।


- সত্তি বলছো অর্ক? আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না। সত্যিই তোমার প্রমোশন হচ্ছে?


- হ্যাঁ।


- আমরা জিতে গেছি বলো অর্ক? আমরা জিতে গেছি।


- হ্যাঁ সোহিনী। আমাদের এতগুলো বছরের অপেক্ষা ধীরে ধীরে সফল হচ্ছে।


- এত বড় খুশির খবরটা এতক্ষণ আমায় বলো নি কেন? খুব পচা তুমি। খুব বাজে।


- বলার সময় দিলে কই...


- সেই ছোটো বেলাকার দিন গুলো মনে পড়ে অর্ক? আমাদের সেই বন্ধুত্ব। ঝগড়া, মারামারি করার দিন গুলো?


- তুমি তো ভীষণ মারকুটে ছিলে। আর আমি হ্যাবলা ছেলের মতো মার খেতাম। মনে আছে...সেই ক্লাস থ্রী তে তুমি আমায় স্কেল দিয়ে পিটিয়েছিলে? আর আমি কাঁদতে কাঁদতে ক্লাস টিচারের কাছে নালিশ করেছিলাম। পরের দিন তোমার গার্জেন কল হয়েছিল। তারপর কাকিমা টিচারের সাথে দেখা করার পর আমায় কত আদর করেছিলেন স্কুলে এসে। 


- হ্যাঁ... সে আর মনে থাকবে না...সেই যে  আদর শুরু হলো এবার থেকে আবার জামাই আদর খাওয়ার ও সময় এসে গেলো।


- তারপর কবে যে বন্ধুত্ব থেকে প্রেম হয়ে গেলো বুঝতেই পারলাম না। বলো?


- ঠিক বলেছো সোহিনী। আমরা তো প্রথমে খুব ভালো বন্ধু ছিলাম। তোমার জন্যই লাভ রিলেশনে এসে " তুমি " সন্মধন করতে বাধ্য হলাম। 


- তোমার মুখ থেকে আমি তুমি সম্মধন টাই শুনতেই বেশি পছন্দ করি।


- হ্যাঁ...এখন আর ওসব ভেবে লাভ নেই।' তুমি ' তেই এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছি। বিয়ের পর অসুবিধা হবে না।


- কি বলো তো অর্ক...সবাই ভেবেছিল স্কুল লাইফের প্রেম বেশিদিন টিকবে না। আবার প্রেম , প্রেম করেই নাকি আমাদের এডুকেশন লাইফ, কেরিয়ার লাইফ শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা সব কিছু খুব সুন্দর করে ম্যানেজ করে নিজেদের সম্পর্কটা এগিয়ে নিয়ে আসতে পেরেছি বলো? 


- সত্যিই সোহিনী তুমিও জীবনে ভীষণ ভাবে সফল। আজ তোমার কাছে কত স্টুডেন্ট ড্রয়িং শেখে বলো তো? আমি তো তোমায় বার বার বলি ড্রয়িংটা নিয়েই থাকো। আবার টিউশনটা করার দরকার ছিল না। বড্ড ধকল যায় সারাদিন তোমার ওপর। 


- ও তেমন কিছু না...ওরা তো অনাথ আশ্রমের ছোটো ছোটো শিশু আঁকানোর পাশাপাশি একটি পড়াই। ওরা আমায় ভীষণ ভালোবাসে।


- আচ্ছা তোমার যা করলে ভালো লাগে কোরো। কিন্তু নিজের শরীর বুঝে। টাইমে টাইমে কিন্তু জলটা, খাবারটা খেতে হবে। মনে থাকে যেনো।


- মনে থাকবে। তুমি আগে বলো কবে কথা বলতে যাবে তোমাদের বাড়ি থেকে?


- মা তো বলছিলেন পরের মাসেই। সেইরকমই কথা হয়েছে তোমার মায়ের সাথে আমার মায়ের।


- মানে? বড়রা সব ডিসিশন নিয়ে নিয়েছেন। আর এদিকে আমিই কিছু জানি না? 


- আরে আমিও তো জানতাম না। ওয়াশ রুমে আজ ফ্রেশ হচ্ছিলাম যখন মা,বলছিলেন কথা গুলো বাবাকে। তাই শুনতে পেলাম। আর বেশিদিন নেই ম্যাডাম। এবার তুমি প্রেমিকা থেকে আমার বউ হয়ে যাবে।


- ধ্যাৎ!


- ওহ: লজ্জায় লাল হয়ে গেলে বুঝি... আই লাভ ইউ সোহিনী। লাভ ইউ সো মাচ।


- লাভ ইউ টু অর্ক। 


সমাপ্ত






একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ