সংসার ও সন্তান সামলে একজন মায়ের একাকীত্ব ( একজন মায়ের একাকিত্বের ডায়েরি)

 

আজ 16 জুন, 2026 মঙ্গলবার।



আজকে আবার কিছু লিখতে মন হলো। সময়টা এখন বিকেল ৪ টে বেজে ১১ মিনিট। লোডশেডিং। খুবই মারাত্মক গরম। পাশে ছেলে ঘুমোচ্ছে। ওর কাছে একটা চার্জার ফ্যান লাগিয়ে দিলাম। আমার ঘুম আসছে না। এসময় আমি একটু ভাত ঘুম দিই। তবে ওই সামান্য। 30 মিনিট মত। কখনো তার ও কম। আজ আর সেটার ও ইচ্ছে হলো না। মাথার মধ্যে নানা রকম চাপ। আর দুদিন পর থেকেই ছেলের পরীক্ষা। ছেলে ক্লাস 3 তে পড়ে এখন। কিন্তু ওর চেয়ে চাপ আমার বেশি। খুবই চঞ্চল। ওকে বুঝিয়ে পড়তে বসাতে হয়। সারাদিনের সংসারের কাজের পর আমার ও এর ধৈয্য থাকে না। সেজন্য মাঝস মাঝেই নিজেকে খুব ব্যর্থ মনে হয়।

সকাল থেকে উঠে, পরিবারের সকলের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রান্না করতে হয়। শশুর মশাই ডায়েট এ চলেন। তাই অনের ছোলা সিদ্ধ চাই সকাল ৮:৩০ এর মধ্যে। সেটা শসা, গাজর, পেঁয়াজ, ধনেপাতা কুচি দিয়ে লেবুর রস দিয়ে গোল মরিচ দিয়ে চার্ট করে দিতে হয়। সাথে ডিম সিদ্ধ। কুসুম বাদে। 


বর এর অফিস বেরোনোর টাইম ৮ টা ১০ মিনিট ( সকাল)। ও অফিসে নিয়ে যাবে সয়াবিন , ডিম দিয়ে তরকারি । শুকনো মতো। ডাল জাতীয় কিছু জিনিস দিলে না কি খারাপ হয়ে যায়। এত টা পথ যেতে হয়। জার্নিতে না কি ডাল দোল খায়। তাই নষ্ট হয়ে যায়। উনি আবার ভাজা ভুজি কিছু খান না। তাই রোজ শুকনো টাইপের তরকারি নিয়ে যান ভাতের সাথে। তার সাথে আলাদা টিফিন এ ফল এর স্যালাড। আর একটা টিফিনে বিকেল এর দিকে অফিসে খাবে বলে বিস্কুট, ড্রাই ফ্রুটস, ছোলা ভাজা, তিল চিককি এইসব। জলের বোতল। সব থরে থরে সাজিয়ে দিতে হয়। ট্রেন ধরার বর এর দারুন তারা থাকে। তাই সকালের ব্রেকফাস্ট টা খাইয়ে দিতে হয়। ব্রেকফাস্ট এর জন্য আলাদা করে আবার পরোটা ও আলুভাজা করেছিলাম। 

তার ও আগে , ঘুম থেকে উঠে আগে ঠাকুর তলা ধুতে হয়। তারপর রান্না ঘরে ঢুকতে হয়। বর এর অফিস বলেই তাড়াহুড়া করে ভাত চাপানো যাবে না। সগরী হয়ে যাবে। আগে চা করে , পরোটা আলু ভাজা করে তারপর ভাত এর তোড়জোড়। এরই মাঝে ছেলেকে ৬:৪৫ এর মধ্যে ঘুম থেকে তুলে ছাতু র শরবত খাইয়ে পড়তে বসাই। আমি রান্না করি। ওকে লিখতে দিয়ে যাই। ওর কোন প্রাইভেট টিউটর নেই। আমি ই পড়াই। সকালে টাইম হবে না জানি। তাই আগের দিন রাতে ওর জন্য ওয়ার্ক সিট বানিয়ে রাখি। ও সকালে উঠে করে। আমি রান্না করতে করতে দেখে যাই করছে না কি ফাঁকি দিচ্ছে।

তারপর বর ৮: ১০ বেরোনোর পর ছেলেকে স্নান করাই। খাওয়াই। টিফিন গুছিয়ে দিই। তারপর ও ৮: ৪৫ নাগাদ স্কুল যায়। আচ্ছা, এরই মাঝে ওর জন্য ও আলাদা টিফিন করে দিতে হয় এগরোল, / মালপোয়া/ চিনি পরোটা এইসব।

মানে সকাল ৬ টা থেকে ৯ টা আমি ভীষণ ব্যস্ত। এসময় কেউ যদি আমায় মরতে বলে আমার তারও সময় নেই। জানি আমার মত সব গৃহবধূ রাই এইভাবে সংসার কে সব টা দিয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত।

কিন্তু আমার মত ব্যর্থ ক জন কি জানি। আমি এত কিছু করেও ব্যর্থ। সব কাজেই আমায় সবাই খুত ধরে। চোখের জল অজান্তেই এই বিকেল এ একাকী ঘরে ঝরে। বাইরে চলে আবার নিরন্তন ছুটে চলার জীবন। আমি করি, আবার ব্যার্থও হই। এভাবেই কেটে গেল 11 টা বছর বিবাহিত জীবনের। কেটে যাবে আর ও অনেক অনেক বছর। বেঁচে থাকব আমি সংসারের জন্য। কারণ দিয়ে যাওয়াই আমার কর্তব্য। জীবনে চলার পথে কুড়িয়ে নেব হাজার হাজার ব্যর্থতার তকমা। জমিয়ে রাখবো চোখের পাতায়। আর আমার এই ডায়েরির পাতায়।


  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ