মহাসপ্তমীর সকাল ও দাম্পত্য জীবনের মিষ্টি খুনসুটি

 

মহাসপ্তমীর-সকাল-ও-দাম্পত্য-জীবনের-মিষ্টি-খুনসুটি


- কি গো আজকে তো মহাসপ্তমী আজকের দিনেও বেলা আটটা অবধি তোমায় ঘুমোতে হবে? ওদিকে পুজো মণ্ডপ থেকে ঢাকের আওয়াজেও কি তোমার ঘুম ভাঙছে না? আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি আমি।


- আমিও আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি, এতক্ষণ ঢাক, কাঁসরের শব্দে আমার সত্যিই ঘুম ভাঙে নি। কিন্তু তোমার এই কর্কশ গলায় আমার বুকটা ধড়ফড় করে উঠলো এখনও বুকের ভিতরটা কেমন হচ্ছে দেখো?


- আমার দেখার সময় নেই। সংসারের এখনও হাজারটা কাজ পড়ে আছে। তুমি এখনো বাসি বিছানা আগলে শুয়ে আছো। পারোও বটে তুমি। এসব অনাসৃষ্টির কাণ্ড আমার দ্বারা হবে না।


- বেশ তো ট্রিপিকাল বাঙালি গিন্নি দের মতো কথা বলতে শিখেছ দেখছি। বেশ শুনতে ভালো লাগছে কিন্তু। সাথে এমন বেসুরো চিৎকার মেশানো গলা সব মিলিয়ে একবারে ফাটাফাটি সংসারী বউ মনে হচ্ছে। বারো বছর আগেকার সেই স্টাইলিশ সুন্দরী, মেয়েটার সাথে আজ আকাশ পাতাল তফাত। সেই মেয়েটাই কিনা আজকে আমার ঘরের দক্ষ রমণী। ভাবা যায়! 


- একদম সকাল সকাল চটাবে না বলে দিচ্ছি। আর এইরকম তফাত যদি তোমার খুঁজি তো অঙ্গে, স্বভাবে চতুর্দিকে পরিবর্তনের জুরি মেলা ভার। 


- আচ্ছা, তাই নাকি? তা এই বারো বছরে কি কি পরিবর্তন দেখলে শুনি ?


- আমার ওতো কাব্য করার মতো সময় নেই। বলছি তো ঢের কাজ বাকি আছে। বাড়ির কাজ গুলো সেরে পূজা মণ্ডপে যেতে হবে। আবার রান্নাবান্না সারতে হবে। তোমার মত আমার এত অঢেল সময় নেই যে ফালতু বিষয় নিয়ে সমালোচনা করতে বসবো।


- এত সহজে তো তোমায় ছাড়ছি না। আগে বলো এই বারো বছরে আমার কি কি পরিবর্তন লক্ষ্য করলে?


- অনেক কিছু।


- যেমন?

- এই যে এখন একটা মাথা ভর্তি টাক চকচক করছে। বারো বছর আগে এই মাথাটাই একরাশ কালো চুলে কুচকুচ করত। আগে কি সুন্দর জিম করা টান টান বডি ছিল। কি সুন্দর টোনড ফিগার ছিল তোমার। এখন তো বুড়ো হয়ে গেছো।


- বাহ! সব একদম পুঙ্খানুপুঙ্খ উত্তর দিলে। এতো গেল আমার অঙ্গের পরিবর্তন। এবার বলো স্বভাব এর কি পরিবর্তন দেখলে?


- আগে কি সুন্দর আমার সব কথা শুনতে। এখন শোনো? একদমই শোনো না। বিয়ের আগে বলতে তোমার গলার সুর আমার কি মিষ্টি মধুর লাগে। আর এখন কর্কশ মনে হয় তাই না? 


- সত্যিই তুমি পারো বটে। আসলে এইসব মেয়েমানুষরাই বেশি মনে রাখে। আর মনে মনে অভিমান পুষে রাখে।


- আচ্ছা ,আমি এই নিয়ে কোনদিন তোমার কাছে কোনো অভিযোগ, অনুযোগ করেছি? তুমি জিজ্ঞাসা করলে বলেই তো বললাম। 


- ওহ! রেগে গেলে কিন্তু তোমায় দারুণ মিষ্টি লাগে স্নেহা। এই রাগটার কিন্তু কোন পরিবর্তন হয় নি তোমার। রাগলে তোমায় এখন আরো সুন্দর লাগে। যাকে বলে সুন্দরী রমণী। 


- তুমি এবার বিছানা ছেড়ে উঠবে নাকি তোমার গায়ে জল ঢালতে হবে?


- না বাবা এই তো উঠছি। এই রে, আজকে তো সপ্তমী। কলা বউ স্নান করতে নিয়ে যায় সকাল বেলা। একদম খেয়াল ছিল না। হয়ে গেছে না কি?


- না হবে না? তোমার জন্য তো বাকি থাকবে এই কাজটা। কতবার মাইকে ঘোষণা করল নবপত্রিকা স্নান করাতে নিয়ে যাওয়া হবে এবার। ভসভস করে ঘুমোলে টের পাবে কি করে?


- যা! মিস হয়ে গেল। আবার একটা বছরের অপেক্ষা। আসলে সারাবছর অফিসের এত কাজের প্রেসার থাকে এই পুজোর টানা কয়েকদিন ছুটি পেলে মাথা ঠান্ডা রেখে রিলাক্স এ কয়েকটা দিন ভালো করে ঘুমোতে পারি আর কি।


- তা তুমি ঠিকই বলেছ। ঠিক আছে কাল থেকে আর ডাকবো না। এই কদিন একটু বেলা করে ঘুমিও।


- না, আনন্দটাও তো দরকার জীবনে। উঠেই পড়ব কাল থেকে। তুমি ডেকেই দেবে। আর হ্যাঁ, ভালো কথা আজকে কি রান্না করবে?


- সেইজন্যই তো তোমায় ডাকছি। কি খাবে বলো? গতকাল তো ষষ্ঠী ছিল। তাই আমার উপোষ ছিল। বাড়িতে নিরামিষ রান্নাই হল। আজ কি করব?


- বাইরে থেকে খাবার অর্ডার দিলে কেমন হবে? সারাবছরই তো রান্না করো। পুজোর এই কটা দিন না হয় রেস্ট করো। সবাইয়েরই তো রেস্টের দরকার।


- না না। বাইরের খাবার খেতে হবে না। তারপর পেট খারাপ করবে কি,  না করবে।


- আরে, বাইরের খাবার তো মাঝে সাজে খাওয়া হয়েই থাকে। কই তেমন কিছু হয় না তো।


- তা বলি নি। তুমি বলছো পুজোর কটা দিন বাইরে থেকে খাবার অর্ডার দেবে সেটায় আপত্তি করছি। এক বেলা হয়তো বাইরে খেলাম। এক বেলা রান্না করব। এই ব্যাপারটা ঠিক আছে। পরপর চারদিন চারবেলা বাইরের খাবার খাওয়া শরীরের পক্ষে ভালো নয়।


- সেটাও ঠিক। তুমি বলো তাহলে কি রান্না করবে?


- তোমার যেটা পছন্দ সেটাই করে দেব। তবে যা আনবে তাড়াতাড়ি আনো নাহলে রান্না চাপাতে দেরি হয়ে যাবে। 


- বলছি খাসির মাংস নিয়ে আসবো? তাহলে গরম গরম খাসির মাংসের ঝোল আর ভাত। আর কিছু লাগবে না আমার। আর তোমারও তো এটা ফেভারিট। আর আমাদের বেটু ও খুব ভালোবাসে। 


- ঠিক বলেছো। তবে তাই করি। তুমি তাহলে ফ্রেশ হয়ে চটপট বাজার থেকে মাংস টা কিনে নিয়ে এসো। আমি মশলা, পেঁয়াজ রসুন ছাড়িয়ে রেডি করে নিই। 


- আর একটা আবদার আছে আমার।


- আবার কি আবদার? 


- আজ রান্নাটা আমি করব। তুমি শুধু হেল্প করবে পাশে থেকে।


- আচ্ছা, বেশ। এখন যাও ফ্রেশ হয়ে নাও। আমি চা বসাচ্ছি। খেয়ে যাবে। 


- রাতে কিন্তু ঠাকুর দেখতে বেরোব। আর ডিনার টা তাহলে তোমার কথা মত বাইরেই করে নেব। 


- আচ্ছা ঠিক আছে।


সমাপ্ত

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ