একটি সামাজিক প্রেক্ষাপটে লেখা কথোপকথন ( বাস্তব গল্প)


একটি-সামাজিক-প্রেক্ষাপটে-লেখা-কথোপকথ-( বাস্তব গল্প)



  - ও দাদা... ও দাদা...  শুনতে পাচ্ছেন? একটু দাঁড়ান। আমি কয়েকটা সবজি নেব। 


- হ্যাঁ, শুনতে পেয়েছি বৌদি। দাঁড়াচ্ছি। আপনি আসুন। 


- অনেকদিন পর আবার এই পাড়ায় আপনাকে দেখলাম। এদিকে আর আসা হয় না বুঝি?


- না বৌদি। বেশ কয়েকদিন একটু অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম। তাই আসা হয় নি। আপনি ভালো আছেন তো?

- হ্যাঁ ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?


- আমিও বেশ ভালোই আছি। বলুন কি নেবেন?


- সব রকম সবজিই তো আছে দেখছি। আর বেশ টাটকা ও মনে হচ্ছে। 


- হ্যা বৌদি। এখানে বেশির ভাগ সবজিই আমাদের নিজেদের জমির। আমরাই চাষ করি। আর কিছু কিছু সবজি আমার কাকা দের জমির। ওনাদের কাছ থেকে কিনে বিক্রি করি। তাই সমস্ত সবজিই টাটকা। 


- দারুন তো ব্যাপারটা। কিন্তু হরেক রকম এত সবজি চাষের খাটুনিও তো কম নয় ? এত কিছু কি করে মেনটেন করেন?


- হ্যাঁ, তা একটু বেশি পরিশ্রম করতে হয় বৈকি। কিন্তু আমি শুধু একা নয়। আমার বাবাও খুব পরিশ্রম করেন। জমিতে বীজ বসানো, জল দেওয়া সময় মতো সার দেওয়া এইসব প্রধান কাজ গুলো বাবাই সামলায়। আর আমি , মা আমার স্ত্রী ও এই কাজে বাবাকে সাহায্য করি। সবাই মিলেমিশে করি আর কি।


- খুব ভালো। মিলেমিশে কাজ করলে কাজ করতেও যেমন মজা লাগে আর কাজে সফলতাও আসে দ্রুত। 


- একদম ঠিক বলেছেন বৌদি। 


- আপনি এক কাজ করুন, আমায় পাঁচ কিলো আলু, দু কিলো পেঁয়াজ, আর এক কেজি টমেটো দাও।


- হ্যাঁ দিচ্ছি। 


- আচ্ছা এই পেঁয়াজ, আলু ও কি আপনাদের চাষের?


- হ্যাঁ বৌদি। আলুর সিজনে আমাদের জমিতে আলু বীজ বসানো হয়। আর ফসল ওঠার পর সারাবছরের জন্য আলু সংরক্ষণ করে রাখা হয় কোল্ডস্টোরে। তারপর প্রয়োজন মতো আলু বের করা হয় ওখান থেকে। পেঁয়াজ ও তাই। 


-  আচ্ছা, আমায় দু কেজি শসা ও দিন। শসা গুলো দেখেই মনে হচ্ছে খুব মিষ্টি হবে। একদম কচি। যেন মনে হচ্ছে সদ্য গাছ থেকে তোলা হয়েছে। বোটাটা এখনও  সতেজ লাগছে। 


- আপনি ঠিকই বলেছেন বৌদি। এখন তো জমিতে শসার চাষ হচ্ছে।


- ওহ... আপনি দুদিন পরেও আবার আমায়  শসা দিয়ে যাবেন। আগে থেকে বলে রাখলাম। আচ্ছা, শসার দামটা জানা হল না।  কত?


- শসা চল্লিশ টাকা কেজি বৌদি। 


- বাবা! দাম টা কিন্তু দাদা একটু বেশিই বলছেন।


- না না বৌদি। আমি একটুও বেশি দাম বলছি না। আপনি আমার কথা বিশ্বাস না হলে বাজারে গেলে একবার শসার দরদাম করে আসবেন তাহলে বুঝতে পারবেন। আমি যে দামে সবজি বিক্রি করি সেই দামে আর কেউ বিক্রি করতে পারবে না। কারণ তো আপনাকে আগেই বললাম। যেহেতু আমাদের নিজেদের জমির ফসল তাই অনেক গুলো হাত না ঘুরে সরাসরি জমি থেকেই আমরা বিক্রি করি। তাই দামটাও কম থাকে। এতে কাস্টমার রাও হ্যাপি। আর আমিও হ্যাপি থাকি। ব্যাপারটা কি বলুন তো বৌদি, আসলে জমিতে ও ফসলে  দেওয়ার জন্য যে সার খোল ব্যবহার করা হয় তার দাম এখন চরা। তাই স্বাভাবিক ভাবে ফসলের দাম ও বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের কিছু করার নেই। 


- এত কিছু তো আমরা জানতে পারি না। আমরা আগের সিজনের দামের সাথে এখনকার দামের তুলনা করি। এসব তো ভেবে দেখি না। সত্যিই তো ফসলের ওষুধের দাম বেশি হলে ফসলের দাম তো বাড়াতেই হবে।


- তাছাড়া সার খোল ওষুধ ছাড়া এখন সবজি ফলানোই যাবে না। তাই বলছি সবজি কেনার পর ভালো করে ধুয়ে নেবেন। তারপর ফ্রিজে কিংবা সবজি রাখার জায়গায় রাখবেন। 


- আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমায় এত কিছু জানানোর জন্য। 


- এটা কোনো ব্যাপার না বৌদি। বরং এটা তো আমার কর্তব্য। বৌদি, আমাদের গাছের ক্যাপসিকাম আর পাতি লেবু এই দুটো আইটেম একবার নিয়ে দেখতে পারেন। ক্যাপসিকাম তো এখন ফলছে। দারুন স্বাদ আর গন্ধ হবে কিন্তু। আর লেবু তে প্রচুর রস আছে। বাড়ি নিয়ে গিয়ে দেখবেন। আমি মিথ্যে বললে ফেরত দিয়ে দেবেন। আমি রোজই এই সময়ে এখান দিয়েই যাব।


- ঠিক আছে। আমি নিচ্ছি। আপনাকে ও ভাবে বলতে হবে না। 


- আচ্ছা। আপনার এবার টোটাল বিল টা করব?


- হ্যা করুন। 

- আপনার টোটাল তিনশো কুড়ি টাকা হয়েছে। দুটো ক্যাপসিকাম দশ টাকা করে কুড়ি টাকা নিয়েছি। আর পাঁচটা পাতি লেবুর দাম কুড়ি টাকা ধরেছি।


- আচ্ছা সব একটা পলিথিনে ভরে দিন। 


- বৌদি একটা রিকোয়েস্ট করছি রাখবেন?


- হ্যাঁ বলুন।


- আপনার ঘর থেকেই একটা ঝুড়ি, কিংবা সবজি গুলো ক্যারি করার জন্য একটা বড় কিছু জায়গা নিয়ে এলে ভালো হতো। পলিথিন আমার কাছে আছে। কিন্তু আপনার যখন সুযোগ আছেই একটা পাত্র চট করে নিয়ে চলে আসতে পারবেন তাই বললাম। কারণ আপনি আমি খুব ভালো করেই জানি পলিথিন জিনিসটা আমাদের পরিবেশের জন্য ভালো নয়। যতটা পারা যায় আমাদের নিজেদেরই উদ্যোগ নিয়ে এটি এড়ানো উচিত। কি তাই না? আপনি কি মনে মনে রাগ করলেন বৌদি?


- আরে, না না। আপনি তো ঠিকই বলেছেন। আমরাই বরঞ্চ সব জেনেও মুখস্থ বিদ্যার মত মনে রাখি। বাস্তবে কাজে লাগাই না এই বিষয় গুলোকে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 


- আরে, না না। আমায় বার বার ধন্যবাদ জানাতে হবে না। যত টুকু জানি তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। 


- আমার পেমেন্টটা অন লাইনে করে দেব?


- হ্যাঁ, তাই দিন বৌদি। কোনো অসুবিধা নেই। এই আরো একটা সুবিধা বলুন বৌদি। অনলাইনে টাকা লেনদেনের ব্যাপারটা?


- ঠিক বলছেন। 


- দিনে দিনে আরো কত উন্নতি দেখব কি জানি। যাই হোক আমাদের উচিত বর্তমানকে মেনে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলা। কি আমি ঠিক বললাম তো বৌদি?


- একদম। 

- আজ তবে আসি। অনেক বক বক করে ফেললাম। আপনার কাজের অনেক দেরি করিয়ে ফেললাম।


- না না। কোনো ব্যাপার না। মাঝে মাঝে একটু হালকা ফুলকা গল্প করলে মন মেজাজ ভালো থাকে।


- একদম সঠিক কথা বলেছেন। আজ তবে আসি। আবার দুদিন পর আসবো। 


- আচ্ছা ঠিক আছে। সাবধানে যেও।


সমাপ্ত





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ