- ধুর! সকাল থেকে একটার পর একটা কাজ হয়েই যাচ্ছে। আর ভালো লাগছে না।
- তাহলে কোরো না। অসুবিধা হলে, শরীর সাধ না দিলে জোর করে করার তো দরকার নেই।
- ওহ! আমি শুয়ে বসে থাকলে তোমার ডান হাতটা কি করে মুখে উঠবে শুনি?
- কেনো? তুমি কি ভাবো পুরুষ মানুষ হয়েছি বলে কি রান্না বান্না পারব না বুঝি? দায়ে বিপদে তো অনেকবার তোমায় নিজের হাতে রান্না করেও খাইয়েছি। ভুলে গেছো?
- সে তো করোই। কিন্তু তুমিই বা কেন বাইরে থেকে খেটে খুটে এসে বৌ থাকতে কষ্ট করে হাত পুড়িয়ে রান্না করবে বলো। আমার এটা মোটেও ভালো লাগে না।
- এরকম বলো না। আমরা তো স্বামী স্ত্রী। আমাদের তো উচিত একে অপরের সুখে দুঃখে পাশে থাকার। আচ্ছা তোমার কি হয়েছে সেটা বলো। সকাল থেকে দেখছি মেজাজটা তোমার খারাপ।
- আর বলো না, কদিন ধরেই কোমরে ব্যাথা হচ্ছে। বিশেষ করে সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠার সময় ব্যথাটা বেশি হচ্ছে। নিচু হয়ে কাজ করতে গেলেই খিঁচ খিঁচ করে লাগছে। বেলার দিকে অবশ্য একটু কমছে। কিন্তু ব্যথাটা আছেই ।
- কই আমায় কিছু বলো নি তো আগে? কতদিন ধরে হচ্ছে?
- তা ধরো, ওই মাস খানেক হবে।
- বিগত একমাস ধরে তোমার কোমরে লাগছে সেটা তুমি আমার কাছে চেপে গেছো? আমায় বলার প্রয়োজন বোধ করো নি তুমি?
- আরে, রাগ করো না। তুমি নানান কাজে ব্যস্ত। তাই ভাবলাম...
- থাক, আর কথা ঘোরাতে হবে না। আমি না জোর করে জিজ্ঞাসা করলে তুমি আজকেও বলতে না আমায়।
- আরে, একটা সাধারণ ব্যাপার নিয়ে বাচ্চাদের মতো গাল ফুলিয়ে মুখ ঘুরিয়ে বসে পরলে যে? তোমায় দেখে কেউ বলবে তোমার বিয়ে হয়ে গেছে? মনে হবে একটা বাচ্চা ছেলে। এখনো ছোটো দের মতো কথায় কথায় রাগ করো।
- তুমি বেশি কথা না বলে এখুনি রেডি হয়ে নাও।
- রেডি হয়ে নেব? কেনো? কোথায় যাবে?
- ডাক্তারের কাছে।
- আরে, বাচ্চা হওয়ার পর মেয়েদের একটু আধটু কোমরে লাগে। ও আবার আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। আমি তো অনেক কেই বলতে শুনেছি সিজার করে বেবি হলে না কি কোমরে মাঝে মধ্যেই লাগে। ছেলে হয়েছে পাঁচ বছর হয়ে গেলো। এতদিন অতটা বুঝতে পারি নি। ইদানীং কোমরের ব্যথাটা বেশ ভোগাচ্ছে দেখেছি। এগুলো মেয়েদের কমন ব্যাপার। এই নিয়ে এত ভেবো না।
- তুমি একদম চুপ করে থাকবে। এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে । তোমার সমস্যার কথাটা আগেই আমায় বলা উচিত ছিল।
- এখন তুমি ইমারজেন্সি কোথায় ডাক্তার পাবে? আচ্ছা তুমি যে কোনো বিষয়েই দেখেছি একটুতেই এত উতলা হয়ে পরো ...
- তুমি রেডি হয়ে নাও। এক কথা শুনতে আর ভালো লাগছে না।
- এই তোমার হাত ছুঁয়ে বলছি তেমন কিছু না। সামনেই পুজো আসছে । ঝাড়াঝুড়ি, কাচাকুচি একটু বেশি হয়েছে শরীরের ওপর একটু ধকল গেছে। তাই কোমরে ব্যথাটা বেড়েছে ।
- তবু এগুলো কি আমার সাথে শেয়ার করা যায় না টিনা? আমি কি তোমার পর?
- না না। পর হতে যাবে কেন? তুমি তো আমার বর।
- ধুর! ইয়ার্কি করো না। আমি এমনিতেই তোমার ওপর খুব রাগ করে আছি।
- এতটা ভালোবাসো তুমি আমায়?
- টিনা, আমরা শুধু এখন প্রেমিক প্রেমিকা নই। তুমি আমার স্ত্রী। ভালোবাসা ছাড়াও দায়িত্ব, কর্তব্য, অধিকার সবই আছে তোমার ওপর। তোমার ভালোমন্দ সব কিছুর দায়িত্ব এখন আমার। কেনো বোঝো না? তোমার যদি কিছু হয় যায় আমার কি হবে? আমাদের ছেলেটার কি হবে? যাই করো না কেন নিজের শরীরের খেয়াল আগে নেবে। শরীর ভালো থাকলে দেখবে সব কিছু ঠিক থাকবে।
- আচ্ছা ঠিক আছে। বুঝেছি। তোমায় এখনই আমার কোমরের ব্যাথা নিয়ে এত চিন্তা করতে হবে না। আমি পরের সপ্তাহে ডাক্তার দেখিয়ে নেব।
- এত দেরি কেন করবে?
- আমার দিদিরও তো একই সমস্যা। কোমরে যন্ত্রণার জন্য ওষুধ খায় জানি। ওকেই জিজ্ঞাসা করে ডাক্তারের নম্বর
টা নিয়ে নাম লেখাবো।
- ওহ! আচ্ছা । তোমার দিদি কি ওই ডাক্তারের ওষুধ খেয়ে এখন ভালো আছে?
- হ্যাঁ, বলছিল তো ভালো আছে।
- তাহলে আর দেরি কোরো না। নম্বর নিয়ে নাম লিখিয়ে দিও। প্রয়োজন হলে আমি ওইদিন না হয় অফিস যাব না।
- আচ্ছা ঠিক আছে। তোমায় অফিস না কামাই করলেও চলবে। আমি দিদির সাথেই চলে যাব।
- হুমম, তা বেশ ।
- এবার মনটা একটু শান্ত হলো?
- হুমম।
- এবার যাও। বাজার করে নিয়ে এসো। সবজি পাতি তেমন কিছু নেই। আর হ্যা, একটু মাছ ও নিয়ে আসবে।
- ঠিক আছে। যাচ্ছি। কিন্তু আজকের রান্নাটা কিন্তু আমি করব।
- ব্যাস! অমনি আবার দাদাগিরি ফলাতে শুরু করে দিলে?
- না, আজকে তোমার আর কোনো কথাই শুনবো না। আজকে আমার পছন্দ মতো রান্না করে তোমাদের খাওয়াবো। আজ আমার অফিসও ছুটি। আর তোমারও শরীরটা একটু খারাপ। তাই আজকের দিনটা তোমার রেস্ট। যাও গিয়ে রেস্ট করো।
- আচ্ছা ঠিক আছে। আজ বরের হাতের রান্নাই খাবো তাহলে। বেশ একসাইটেড আমি। বাবু স্কুল থেকে ফিরে খাবার খেয়ে বুঝতে পারে কি দেখি কিছু ডিফারেন্স বুঝতে পারে কি?
- দেখবে ছেলে আমাদের আঙুল চেটে পুটে খাবে।
- আচ্ছা। দেখাই যাক।
- আমি তাহলে বাজার যাচ্ছি। আর হ্যাঁ, আজ সবজি কিংবা মাছ নয়। আজ রান্না করব তোমার আমার দুজনেরই ফেভারিট মাটন। মানে শুদ্ধ বাংলায় যাকে বলে খাসির মাংসের ঝোল আর সাথে গরম ভাত। কেমন হবে বলো টিনা?
- উফফ! পুরো জমে যাবে আজকের দুপুরের লাঞ্চটা। তার ওপর স্পেশাল মানুষের হাতের তৈরি। আমি তো কব্জি ডুবিয়ে খাবো।
- আচ্ছা , ঠিক আছে। আমি চললাম এখন বাজার। নাহলে আবার মাটান পাওয়া যাবে না।
সমাপ্ত
একটি মধ্যবিত্ত পারিবারিক জীবনের একটুকরো সুখ শান্তির কথপোকথন তুলে ধরলাম আজকের ব্লগে। আপনাদের কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আমার লেখা গুলো যদি ভালো লেগে থাকে অবশ্যই একটা কমেন্ট করে জানানোর অনুরোধ রইলো ।
0 মন্তব্যসমূহ