ভুল মানুষকে ভালোবাসা ভুল নয়। ভুল থেকে শিক্ষা না নেওয়াই মস্ত বড় ভুল।

It's me

(আমার ছবি )


যে মানুষ টাকে নিজের প্রাণের থেকেও এত ভালবাসা হয় সে যদি বিনা কারণে অবহেলা করে, কষ্ট দেয় তখন পৃথিবীর যে  কোনো মূল্যবান জিনিস ও তুচ্ছ মনে হয়। কোনো কিছুই ভালো লাগে না।

It's me


 প্রতিটা মুহুর্তই যেন মৃত্যু সমান যন্ত্রনা মনে হয়। প্রিয় মানুষ টার থেকে শোনা নিজের সম্পর্কের খারাপ খারাপ কথা গুলো তীরের মতো বুকে বেঁধে। চোখের জল বাঁধ মানে না। যাকে এত ভালোবাসি, এত যত্ন করি তার এতটা অবজ্ঞা সহ্য করা বড় কঠিন। পৃথিবীর কোনো আনন্দই তখন সুখ এনে দিতে পারে না। প্রতিটা মুহূর্ত বেঁচে থাকা তখন নিজের সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকারই সমান। তবু মানুষ ভালোবাসে। প্রিয় মানুষটার যত্ন নিতে চায়। বারবার অবহেলিত হয়েও স্বভাব গুণে আবারও একই কাজে সে লিপ্ত থাকে।




শত লাঞ্ছিত হওয়া সত্ত্বেও তার পাশে দাঁড়াতে যায়। নিলজ্জের মতো অপেক্ষা করে থাকে কখন তাকে একটু কাছে টেনে নেবে। তখন এক মুহূর্তও না ভেবে আবার নিজেকে শপে দেবে তার কাছে। এটাই হয়তো ভালোবাসা। এই ভাবেই হয়তো প্রতিটা ভালোবাসা বেঁচে থাকে। বেঁচে আছে। বেঁচে থাকবে। চিরকাল। সারাজীবন।

ভালোবাসা বোধ করি এমনই হয়। এক বুক হাহাকার নিয়েও মনে সাধ জাগে তার অন্তরে নাই হোক, পদতলেও ঠাঁই পেলেও বোধ করি জীবন ধন্য। কথাতে কাব্য আছে ঠিকই। কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে এই কাব্যের যথার্থ ব্যাপ্তি আছে। বর্তমান যুগে দাঁড়িয়েও হাজার হাজার শিক্ষিত পুরুষ, মহিলা, কিশোর কিশোরীরা ভালোবাসায় ব্যর্থ হয়েই জীবনে অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। 

আমরা ভাবি বোকা মানুষরাই প্রেমে প্রতারিত হয়ে আত্মহনন করে। কিন্তু ব্যাপারটা আসলে এতটাও সহজ নয়। সহজ নয় ভুলে যাওয়া, সহজ নয় নিজের চোখের সামনে ভালোবাসার মানুষটিকে অন্যের হয়ে যাওয়া -আর সেটা নিরুপায় হয়ে স্বচক্ষে দেখা। নিজের মনটাকে মানানো এতটাও সহজ নয় - আসলে সে এতদিন একটা ভুল মানুষের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে ছিল। যে মানুষটা ভালো অভিনয় পারে। স্বপ্ন দেখানোর অভিনয়। ভালোবাসার অভিনয়। 

যারা ভালোবাসায় হেরে গিয়েও নিজে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে তাদের আমি ভীষণ সম্মান করি। ভীষণ শ্রদ্ধা করি। যে মানুষটি সদ্য প্রতারিত হয়েছে তার বুকের ভিতর কি পরিমাণ ঝড় ওঠে, প্রতিটা রাতে কি পরিমাণ চোখের জল ব্যয় হয় তার কিছুটা হলেও অভিজ্ঞতা আমারও আছে। তারওপর আছে পারিবারিক, সামাজিক কুদৃষ্টি, ব্যঙ্গ, কথারবৃষ্টি।

সমাজের মানুষদের কটূ কথা হজম করে, ভালোবাসার মানুষটির প্রতারণার গ্লানি ভুলে, যে মানুষটি দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে আবার একটু একটু করে নতুন করে সৃষ্টি করে তাদের মতো শক্ত মনের মানুষ পৃথিবীতে আর দুটো নেই। ওই দুঃসময়ে ঘুরে দাঁড়ানো যে কি কঠিন, সব কিছু ভুলে, স্মৃতি গুলোকে দমিয়ে এগিয়ে যাওয়া যে কি কষ্টকর তা আমি বুঝি। 

আমি বলব শত কষ্ট, জ্বালা, সহ্য করে হলেও ওই সময়টা নিজেকে শক্ত করে সামলে রাখুন। জানি রাতগুলো অনেকটা বিভীষিকাময় লাগে, দিনের আলোকেও বর্ণহীন মনে হয় সেইসময়। তবু বলব "আসছে দিনগুলোই হবে আমার জীবনের সেরা দিন"- এই ভাবনাকে মনে প্রশ্রয় দিয়ে এগিয়ে চলুন। দেখবেন সৃষ্টিকর্তা আপনাকে ফিরিয়ে দেবেন না। আপনার জীবনে অন্যধারার আলো নিশ্চিত আসবেই আসবে।

আসলে সৃষ্টিকর্তা কোনো কিছুই আমাদের থেকে কেড়ে নেন না। আমরা তাঁর সন্তান। আমাদের জীবনের যা কিছু খারাপ, যা কিছু ক্ষতিকারক তা তিনি নিয়ে নেন। আপাত ভাবে মনে হয় কেন আমার সাথে এত বড় প্রতারণা হলো। আসলে এটা একটা জীবনের শিক্ষা। ওপরওয়ালা এই ঘটনার মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাই এটিকে ভগবানের দেওয়া শুভ সংকেত ভেবে আমাদের জীবনের লক্ষ্যে এগিয়ে চলা উচিত।

সারাজীবনটাই কারো দুঃখে কাটতে পারে না। এই ভাবনাটা কিন্তু একদম বাস্তব। মানুষ বলে "আমার সরাজীবনটাই দুঃখে, কষ্টে, অভাবের মধ্যে দিয়েই কাটছে।" কিন্তু কথাটা ঠিক নয়। ভগবান প্রতিটা মানুষকেই কিছু না কিছু সুপ্ত পাওয়ার দিয়ে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আমরা সেই সুপ্ত পাওয়ার টার অনুসন্ধান না করেই অন্যের জীবনের সফলতা দেখে হা-হুতাশ করি আর দীর্ঘশ্বাস ফেলি। কিন্তু তাদের সফলতার পিছনে ব্যর্থতার গল্পটার অনুসন্ধান করি না।

ভগবান যে সুপ্ত পাওয়ারটা আমাদের মধ্যে দেন, আমাদের উচিত সেটাকে নিয়ে পরিশ্রম করা, ঘষে, মেজে সেই পাওয়ারটার শক্তি বাড়ানোর। ভগবান তো আশীর্বাদ স্বরূপ তার উপহার তো আমাদের দিয়েইছেন। এবার আমাদেরও তো উচিত সেটাকে সঠিক ভাবে কাজে লাগানোর। ঠিক এইখানেই সফল মানুষরা ভগবানের আশীর্বাদটা সম্পূর্ণ রূপে পায়। 

কারণ তারা সেই পাওয়ারটাকে সম্পূর্ণরূপে কাজে লাগায়। সব কিছু ঈশ্বরের ভরসায় ছেড়ে দিলে হয় না। উনি যে পাওয়াটা দিয়েছেন আমাদের উচিত সেটাকে বাস্তবে কাজে লাগানো। আমরা সেটা না করে "আমার ভাগ্যটাই খারাপ", "ঈশ্বর আমার ভাগ্যে কিছুই লেখেন নি", এইসব বলি।

সুতরাং ভগবানের নামে দোষ দেওয়ার আগে নিজের দোষ, ভুল, ত্রুটি গুলো আগে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। ভালোবাসা, ক্যারিয়ার, সম্পর্ক এসব নিয়েই আমাদের জীবন। জীবনে অনেক চড়াই উতরাই আসবে, ব্যর্থতা আসবে , দুঃখ, কষ্টে জীবনটা ভরে যাবে। কিন্তু আমাদের আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ব্যর্থতা থেকেই শিক্ষা নিয়ে আবার এগিয়ে চলতে হবে। বুঝতে হবে এটাই ভগবানের পরীক্ষা। ওনার ইচ্ছে। 


আজকের ব্লগটা এতটুকুই। লেখাটা কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আবার ফিরব নতুন কোনো লেখা নিয়ে। আজ তবে আসি। আপনারা ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন। এই কামনা করি।




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ