নূপুর ( সত্য ঘটনা অবলম্বনে একটি পারিবারিক গল্প)

 


nupur





গল্পটি সত্যঘটনাকে কেন্দ্র করেই লেখা। গল্পের চরিত্ররা আমার পরিবারের খুব ঘনিষ্ঠ সদস্য। আমি শুধু নাম , সম্পর্ক বদলে লিখেছি। ঘটনাটা কিন্তু বেশ মজার। আমরা যখন শুনি ভীষণ হাসাহাসি করেছিলাম সকলে মিলে। 


আর আমি যেহেতু প্রতিদিনই নিজের কিছু উপলব্ধির কথা এখানে বন্দী করে রাখি, তাই ভাবলাম আজকের ঘটনাটাও লিখে রাখি। স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে আজীবন। মানুষের মস্তিষ্ক থেকে সময় প্রবাহের ঘনঘটা মুছে গেলেও এই ডিজিটাল ডায়েরি থেকে কখনো লুপ্ত হয়ে যাবে না। তাই একটু গল্পকারে লিখে ফেললাম। আপনারা পড়ে বলবেন কিন্তু কেমন লাগলো গল্পটা। হম, আবার বলছি মোটেও বানানো নয়, একদম তাজা সত্য কাহিনী। চলুন তাহলে শুরু করা যাক আজকের গল্পটি। আচ্ছা, ঘটনাটি  যেহেতু পায়ের নূপুরকে কেন্দ্র করে ঘটেছিল তাই গল্পটির নামকরণ করলাম " নূপুর"। গল্পটি পুরোটা পড়ে বলবেন নামকরণটা ঠিকঠাক হলো কিনা। 


.................................................................


নূপুর : 



সত্তর ঊর্ধ্ব বয়সী বিপত্নীক রাজনারায়ণ বাবু একাই রাতে ঘুমান । অন্যদিকে তার একমাত্র ছেলে প্রতাপ, তার স্ত্রী পাপিয়া ও তাদের একমাত্র তিন বছরের কন্যা প্রিয়া পাশের ঘরেই থাকে। গতকাল রাতে লোডশেডিংয়ের  জন্য পাখা চলে নি।


পাখার যান্ত্রিক আওয়াজের অনুপুস্থিতিতে রাতটা আরো নিস্তব্ধ মনে হচ্ছিল নিদ্রাহীন রাজনারায়ন বাবুর। হঠাৎই নূপুরের শব্দে তার মনে ভয়ের সঞ্চার ঘটে । এমনিতে তিনি ভূত প্রেতে তেমন বিশ্বাসী নয়। তাই বারকয়েক নিজের অন্তর আত্মাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন  এটা হয়তো তার মনের ভুল। 


কিন্তু পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মধ্যে অন্যতম, কর্ণযুগল তাকে বারবার জানান দিচ্ছিলো নূপুরের শব্দের অস্তিত্ব। তাই আতঙ্কেই বিছানার এককোণে কুঁকড়ে, জড়োসড়ো হয়ে  কোনমতে নিশিযাপন করেন তিনি। বিছানা ছেড়ে উঠে  ছেলেকে ডাকবেন সেটুকু সাহসও মন থেকে সঞ্চয় করতে পারছিলেন না তখন। 


ভোরের  দিকে কখন যে তিনি  নিদ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন  টের পান নি। 


" দাদুভাই দরজা খোলো,  সকাল হয়ে গেছে... উঠে পড়ো ... আধো আধো গলায় নাতনি প্রিয়ার গলার আওয়াজে ঘুম ভাঙে রাজনারায়ন বাবুর। দরজা খুলতেই টলমল পায়ে প্রিয়া " দাদুভাই " বলে ছুটে এসে রাজনারায়ণ বাবুকে জড়িয়ে ধরে। 


তখনই তাঁর নজর পড়ে প্রিয়ার পায়ের নুপুর জোড়ার দিকে। গতকাল রাতের নুপুরের আওয়াজের  উৎস যে তার নাতনি  প্রিয়ার পায়ের নূপুর গুলো এটা বুঝতে পেরে তার মনে জমানো  অশরীরী চিন্তাভাবনাগুলো উবে গেল নিমিষেই। রাতে প্রিয়া ঘুমানোর সময় এপাশ-ওপাশ করার জন্য নুপুরের আওয়াজ টা যে প্রকট হচ্ছিল এটা ভেবে তিনি মনে মনে লজ্জিতও  হলেন বটে। 


সমাপ্ত


পুরোটা পড়ে কি বুঝলেন বন্ধুরা? আমায় কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। 


ছবি : সংগৃহীত

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

3 মন্তব্যসমূহ